Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এবার রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ ব্যাংকের অনিয়ম তদন্তে নামছে সংসদীয় উপকমিটি

এবার রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের অনিয়ম তদন্তে নামছে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় উপকমিটি। এজন্য একটি কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে। ইতিমধ্যে তারা সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি ঘটনার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। এ রিপোর্টের পরই তারা সোনালী ব্যাংকের অন্যান্য অনিয়মসহ রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকের ব্যাপারে কাজ শুরু করবেন।
সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে যথেচ্ছভাবে এলসি, ভুয়া বিলের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়া ছাড়াও বিভিন্নভাবে অনিয়ম করে ঋণ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঋণ আদায়ের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয় না। উল্টো বড় বড় ঋণ গ্রহীতাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাংকের কর্মকর্তারা ঋণখেলাপিদের ঋণের সুদ মওকুফ করে দিচ্ছেন। কেবল তাই নয়, তারা সুবিধা নিয়ে এক ব্যাংকের ঋণ নিয়ে আবার ওই টাকা দিয়ে অন্য ব্যাংকের হিসাব সমন্বয় করে নতুন করে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নিচ্ছেন। যে প্রকল্পে টাকা বিনিয়োগ করার কথা তা করা হচ্ছে না। অনেক সময় নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেয়া হচ্ছে। বিনিময়ে ঋণের একটি বড় অংশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা নিচ্ছেন। এভাবে ঋণগ্রহীতা ও ব্যাংকের শাখা অফিস থেকে শুরু করে উপরের কর্মকর্তারা জড়িত থাকার কারণে তাদের  বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ আছেন যারা নগদে কোন টাকা নেন না। তারা ফ্ল্যাট বাড়ি, গাড়ি, মেয়ে বা ছেলের বিয়ের খরচ, দোকান, বিদেশে ব্যাংক একাউন্টে টাকাসহ নানাভাবে সুবিধা নিচ্ছেন। ক্যাশ টাকা না নেয়ার কারণে তাদের ব্যাংক হিসাবেও ওইসব টাকা জমা হচ্ছে না। উপহার হিসেবে যেসব সম্পদ নিচ্ছেন তা-ও আবার ওই কর্মকর্তার নামে করছেন না। বেনামে করছেন। এ কারণে তাদের দুর্নীতিগুলো ধরা পড়ছে না। সোনালী ব্যাংকের ঘটনা জানাজানি হলে সবার টনক নড়ে। এর প্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটি অন্যান্য সরকারি ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে তারা একটি উপকমিটিও গঠন করেন। ওই কমিটির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম। এতে আরও তিনজন সংসদ সদস্য ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াও ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা দেখবে রাষ্ট্রায়ত্ত অন্যান্য ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের অনিয়ম কোন কোন শাখা কেমন করে হচ্ছে, অতীতে হয়েছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা কেমন, পরিচালনা পরিষদগুলো সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা, সে সঙ্গে তারা ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কতখানি ভূমিকা রাখছেন, ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টের ওপর তাদের খবরদারি কতখানি, তারা আদৌ কোন ভূমিকা রাখতে পারছেন কিনা, নাকি তারা পরিচালনা পরিষদের সদস্য হয়ে কেবল নিজেদের সুবিধাই দেখছেন, সে সঙ্গে তারা আরও খতিয়ে দেখবেন ব্যাংকগুলোতে ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কতখানি ভূমিকা রাখছেন। তারা কেন নজরদারি বাড়াতে পারছেন না এবং কেন ঠিকমতো অডিট হচ্ছে না। অডিট হয়ে থাকলে অনিয়মগুলো কেন ধরা হচ্ছে না। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না তা-ও খতিয়ে দেখবে। এজন্য তারা পাঁচটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করবেন, পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে কথা বলবেন, ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলবেন, অডিট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি যেসব শাখায় অনিয়ম রয়েছে ওইসব শাখাও পরিদর্শন করবেন। এজন্য কতদিন সময় লাগতে পারে জানাতে চাইলে অর্থমন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় উপকমিটির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা চেষ্টা করবো যত কম সময়ের মধ্যে করা সম্ভব হয়। তবে বিষয়টি অনেক বড় পরিসরের। পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। কম কথা নয়। কাজ শুরু করার পর অনেক বিষয় সামনে আসবে। তখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ব্যাংকগুলোর ওপর তদন্ত রিপোর্ট সংসদীয় কমিটির কাছে ও অর্থমন্ত্রীর কাছে পেশ করবো। রিপোর্টে আমরা প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরে এরপর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করবো। আশা করবো তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এক্ষেত্রে তারা নিজ নিজ ব্যাংকের অডিট রিপোর্ট অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টের সহায়তা নেবেন। কমিটির কাছে আরও তথ্য রয়েছে, অনেক সময় ব্যাংক থেকে আমানতকারীর টাকাও জাল স্বাক্ষর করে তুলে নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে কমিটির কাছে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের বেশ কিছু সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের বড় টাকার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট