Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারি- ‘দুর্নীতির টাকাতেই সুরঞ্জিত পুত্রের টেলিকম ব্যবসা’

 সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক এপিএস ওমর ফারুকের গাড়িচালক আজম খান জানিয়েছেন, মন্ত্রীর ছেলে সৌমেন সেনগুপ্তের টেলিকম ব্যবসার টাকাও দুর্নীতির। টেলিকম ব্যবসার আলাপ তার সামনে হয়েছে বলেও দাবি করেন আজম। তিনি জানান, গাড়িতে
করে ঘুষ-দুর্নীতির টাকা নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে অন্য পন্থায় তা সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করেছিলেন সাবেক রেলমন্ত্রী ও তার এপিএস। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এক বন্ধুর একাউন্টে চট্টগ্রাম থেকে টাকা আনার পরিকল্পনা জানতে পেরে আজম টাকাসহ মন্ত্রীর এপিএসকে ধরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার জবানিতে-এটি ছিল তার জন্য সর্বশেষ সুযোগ। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আজম এসব কথা বলেন। আত্মগোপনে থাকা আজম খানের এ সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় অংশ গতকাল প্রচার করে আরটিভি।
আজম দাবি করেন শুধু মন্ত্রী হওয়ার পরই ঘুষের টাকা নেয়া হয়নি। এর আগে আইন ও বিচার এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি থাকাকালেও নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত দুর্নীতি করেছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
আজম বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে ফোন করে বলতেন, আমার এপিএসকে পাঠালাম। কয়েকটা কোটা ছিল। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পাঁচটা পাঠালে এপিএস আরও পাঁচটা দিতেন। সেখান থেকে ফারুক টাকা পেতেন। ওই টাকার ভাগ সুরঞ্জিতের কাছেও যেতো।
সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আজম খান। আত্মগোপন ছেড়ে প্রকাশ্যে এলে তিনি খুন বা গুম হতে পারেন বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করে বলেন, আমার খুব খারাপ লাগে। বাবা-মাকে দেখতে মন চায়। আমার সন্তান, মায়ের কাছে ফিরে যেতে চাই আমি। তিনি বলেন, আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি ওমর ফারুকের লোক তাদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। আমার ফোন নম্বর, ঠিকানা জানতে চায়।
আজম জানান, ঘটনার পর ফারুকের সঙ্গে ফোনে তার যোগাযোগ হয়। ফারুক তাকে বলেন, টাকা কোথায় যাচ্ছিল তা তুমিও জানো, আমিও জানি। তুমি আর কাউকে ফাঁসিও না। আমি সব দায়িত্ব নিয়েছি। তুমি যদি আমার কথামতো কাজ করো তাহলে তোমাকে ভাল এমাউন্ট দেবো। চাইলে ২০-২৫ লাখ টাকা দিতে পারি।
দুর্নীতির মূলে তৎকালীন রেলমন্ত্রী নিজেই দায়ী উল্লেখ করে আজম বলেন, মেইন হচ্ছেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি প্রথমে বলেছেন, রেলের কালো বিড়াল ধরা হবে। আমি দেখছিলাম যে তিনি নিজেই কালো বিড়াল বনে গেছেন। তিনি নিজেই বড় দুর্নীতিবাজ। সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ তো তিনিই। তিনি মন্ত্রী হয়ে একটি মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে দুর্নীতি করলে দেশটা কিভাবে ভাল চলবে?
টাকা ধরিয়ে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনা শুনেছি যে, গাড়িতে আর টাকা নেয়া হবে না। কারণ গাড়িতে টাকা নেয়া রিস্ক। চট্টগ্রাম থেকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এক বন্ধুর একাউন্টে এই টাকা পাঠানো হবে। সেখান থেকে তারা টাকা নেবেন। আজম বলেন, যখন এটি জানতে পারি তখনই আমি ঠিক করি টাকা সহ তাদের ধরিয়ে দেবো। গাড়িতে করে টাকা না নিলে তো আর ধরিয়ে দেয়া যাবে না। তাই এটিই শেষ সুযোগ মনে করে ধরিয়ে দিয়েছি।
রেলওয়েগেট কেলেঙ্কারির ঘটনার ছয় মাস পর আত্মগোপনে থাকা গাড়িচালক আজম খান প্রথম আরটিভি’র কাছে এ বিষয়ে মুখ খোলেন। শুক্রবার তার বক্তব্য প্রচারের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। নিজেকে নির্দোষ দাবি করা বর্তমান দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এ বিষয়ে আগামী বুধবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন বলে জানানো হয়েছে। এদিকে আজমের বক্তব্যের পর এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দল এবং সরকারে। তবে এ পর্যন্ত এ বিষয়ে কারও স্পষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আজমকে দেখিনি, চিনিও না-সুরঞ্জিত
সাবেক রেলমন্ত্রী ও বর্তমানে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, কোথাকার কোন আজম, আমি তাকে কস্মিনকালে কখনও দেখিনি, চিনিও না। তাকে দিয়ে আবারও চক্রান্ত শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক। ছয় মাস আগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে আমার বিরুদ্ধে আজগুবি গল্প হাজির করা হয়েছিল। আজ সেই ষড়যন্ত্রকারীরা আবার সরব হয়েছে।  ছয় মাস আগের সেই আজগুবি গল্প সব তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলি, সরকারি-বেসরকারি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যে কোন তদন্ত হোক, আমি বারবার নিষ্পাপ, নিষ্কলঙ্ক হয়ে মানুষের কাছে ফিরে আসবো। গতকাল সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় জগদল ইউনিয়নের হোসেনপুর বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, দু’দিন ধরে মিডিয়া আমার পিছনে পিছনে ঘুরছে। আমি জানি, তারা আমার কাছ থেকে কি জানতে চায়? আমি ১০ তারিখ ঢাকায় গিয়ে সব পরিষ্কার করবো। তিনি বলেন, মিডিয়া তখন নানাভাবে আমার বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরভাবে লিখেছে এবং প্রচার করেছে। আমরা গণ্ডারের চামড়া নিয়ে রাজনীতি করি, সবকিছুই সইতে হয় আমাদের।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট