Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

 ২০৫ রানের জবাবে ১৩১ রানে অলআউট। এতটা একপেশে হবে খেলাটি- তা ভাবতে পারেননি কেউই। দিনের আলোয় যে দলকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা ফাইনালে উঠেছে, সেই দলের কাছে হেরেই বিদায় নিলো ছেলেরা। ৭৪ রানের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি  বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম বড় কোন আসরের ফাইনালে উঠলো ক্যারিবীয়রা। আগামীকাল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা। আর মেয়েদের ফাইনালে ইংল্যান্ড লড়বে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। গায়ে ফেবারিটের তকমা নিয়েই শ্রীলঙ্কায় এসেছিল ক্যারিবীয়রা। টেস্ট-ওয়ানডেতে তারা এখন স্বর্ণযুগের ছায়া হলেও ক্রিকেটের ছোট্ট দৈর্ঘ্যের সংস্করণে দাপুটে দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আইপিএল, বিগ ব্যাশ, বিপিএল-এ খেলে হাত পাকানো সব খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে গড়া এ দলটি এখন শিরোপার  স্বপ্ন দেখতেই পারে। এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান আগেরবারও তারাই তুলেছিল এই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। কিন্তু সেই ম্যাচে তাদের ১৯১ রানের জবাবে ১০০ রান তুলেই বৃষ্টি আইনের কল্যাণে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সেদিন যে তাদের ইনিংসটি কোন চমক ছিল না তা প্রমাণ করতেই কাল তারা যেন খেললেন তারও বড় এক ইনিংস। এ আসরের প্রথম দু’শ’ পেরোনো ইনিংস দেখলো বিশ্ব। ৪ উইকেটে ২০৫। সুপার এইটের শেষ কয়েকটি ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা রানই পাচ্ছিলেন না, কেবল বোলারদেরই দাপট দেখছিলেন দর্শকরা। আগেরদিনই পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ১৩৯ রান করেও জয় পেয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। এ অবস্থা অবসানের দায়িত্ব যেন নিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ানরা। শেষ বলে পোলার্ড আউট না হলে বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আগের রেকর্ডটিও ছাড়াতো। ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তারা করেছিল ৬ উইকেটে ২০৫। সেবার তারপরও তারা হেরেছিল। আর এবার অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় বড় ব্যবধানে হারের স্বাদ দিলো। এর নাম যে ক্রিকেট! মানুষ ভাবে এক আর মাঠে হয় আরেক।
ধুন্ধুমার এক লড়াই দেখার প্রত্যাশায় যারা সিটবেল্ট বেঁধে বসেছিলেন মাঠে বা টিভি সেটের সামনে তাদের প্রত্যেকেই হতাশ হয়েছেন। খোদ ক্যারিবীয়রাও এতটা সহজ জয় আশা করেননি। গেইল-ওয়াটসনের লড়াইটাও জমলো না। টানা চার ম্যাচের সেরা তারকা টানা দু’ম্যাচে ফপ। জম্পেশ লড়াইয়ের জল্পনায় ক্রিকেট বিশ্ব যখন দ্বিধায়, তখন তাতে পানি ঢেলে দিলেন স্যামুয়েল-বাদ্রি। ত্রিনিদাদে জন্ম নেয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ লেগ ব্রেক বোলার খুব একটা অভিজ্ঞ না হলেও তাকে দিয়েই বোলিং শুরু করান ড্যারেন স্যামি। অথচ এই বাদ্রির টেস্ট-ওয়ানডে কোনটিই খেলা হয়নি এখনও। টি-২০ও এর আগে মাত্র চারটি। শিকার ছিল মাত্র ২ উইকেট। স্পিন বলে সবচে’ দুর্বল দল হিসেবে যারা পরিচিত সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দেখালো দিন আসলেই বদলেছে। শেন ওয়ার্নের উত্তরসূরিদের কাবু করলো স্পিন যাদুতেই। এক প্রান্তে বাদ্রির লেগ ব্রেক আর অপর প্রান্তে স্যামুয়েলসের অফ ব্রেক। দু’জনের বয়সই ৩২ ছুঁই ছুঁই। প্রথম ছয় উইকেটের চারটিই স্পিনারদের। বাদ্রির বলে সরাসরি বোল্ড হন দুই ওপেনার টু ডব্লিউ- ওয়ার্নার ও ওয়াটসন। প্রথম জন ১ আর পরের জন ৭। এদের মাঝে ওয়ান ডাউনে নেমে অভিজ্ঞ মাইকেল হাসি ১২ বলে ১৮ রানের ঝড় তুলে স্যামুয়েলসের বলে তারই হাতে ধরা পড়েন। দলের রান তখন ২২। এরপর ২৯ রানে বিদায় ওয়াটসন। জয়ের সুবাস তখনই পেতে থাকে ক্যারিবীয়রা। ৪২ ও ৪৩ রানের মাথায় আরও তিনটি উইকেটের পতন হলে অসিদের হারটা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটু লড়াই করার চেষ্টা করলেন জর্জ বেইলি। তার অধিনায়কত্ব নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই কব্জির জোর দেখালেন। এ আসরে আগের ৫ ম্যাচের দু’টিতে ব্যাট করেছেন, একটিতে অপরাজিত ৬ আর অপরটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫। ক্যারিয়ারে ১২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ছিল ৪২ পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাইতে গত মাসেই। অধিনায়কত্বের শেষ ম্যাচ এটিই হতে পারে ভেবে হয়তো জ্বলে উঠলেন। আশার আলোও কি জ্বালিয়েছিলেন সমর্থকদের মনে? দারুণভাবে খেলছিলেন। ২৬ বলে ৫০। চমকে গিয়েছিল ক্যারিবীয় শিবির। কিন্তু না। তেমন কিছু হয়নি। আউট হওয়ার আগে ২৯ বলে ৬৩। চারটি ছক্কা আর ছয়টি চার। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য দলের আর কারও কোন ছক্কা নেই। বেইলিকে যখন কেউ থামাতে পারছিলেন না তখন স্যামি বল তুলে দেন পোলার্ডের হাতে। এটি দেখে ধারাভাষ্যকাররাও একটু হাসলেন। ভাবটি ছিল এই- এ আবার কি করবে? পোলার্ডের প্রথম বলেই চার নিলেন বেইলি। কিন্তু পরের বলটিতেই ঘায়েল। উড়িয়ে মারতে গিয়ে সীমানার কাছে রাসেলের হাতে ধরা। ওই ওভারে পোলার্ড বেইলিকে সাহচর্য দেয়া কামিন্সকেও বিদায় করে আশ্বস্ত করেন তার অধিনায়ক ও দেশবাসীকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক স্যামি যখন টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন কেউ কেউ ভ্রু কুঁচকেছিলেন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই তাদের ভুল ভেঙেছে। পরে ব্যাট করলে চাপে পড়তে হতো তাদেরই। ওয়াটসন-ওয়ার্নাররা ব্যাট চালাতেন নির্ভয়ে, নির্ভারে। ছক্কার প্রতিযোগিতায় যেন নেমেছিলেন ক্যারিবীয়রা। শেষ ওভারে বল করতে এসেছিলেন ডোহার্টি। তার প্রথম বলকে আকাশে উড়িয়ে মাঠের বাইরে ফেলেন ক্রিস গেইল। তার পরের বলে গেইল এক রান নিলে ডোহার্টির মুখোমুখি হন পোলার্ড। এরপর তিন বলে তিন ছয়। এই যেন গেইলকে দেখিয়ে দেয়ার চেষ্টা, আমিও পারি। তার আগেই গেইল হাঁকিয়েছেন ৬টি ছয়। কলম্বোর আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ছিল না কোন বৃষ্টি বা ঝড়ের সম্ভাবনা। কিন্তু ভারত মহাসাগর থেকে প্রেমাদাসাতে উঠে এসেছিল তিন দানবের টর্নেডো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের সবগুলো জুটির নায়ক টি-টোয়েন্টি জীবন্ত বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা ক্রিস গেইল। প্রথমে ৪.৩ ওভারে স্যামুয়েলসকে নিয়ে গেইল বাঁধেন ৪১ রানের জুটি। স্যামুয়েলস ২টি ছয় ও ২টি চারের সাহায্যে করে ২০ বলে ২৬ রান। দ্বিতীয় জুটিতে ৮.৩ ওভারে জমা পড়ে ৮৩ রান। সেখানে গেইলের সঙ্গী ছিলেন ব্রাভো। তবে চতুর্থ উইকেটে আরও ভয়ঙ্কর জুটি গড়ে ওঠে। ২৫ (৪.১ ওভারে) বলে আসে ৬৫ রান। ইনিংসের শেষ ওভারের চার বলেই আসে ২৪ রান। ডোহার্টির শেষ ওভারে ৪টি ছয়ের মারসহ আসে ২৫ রান। আউট হওয়ার আগে ১৫ বলে ৩৮ করেন পোলার্ড, ৩টি ছয় ও ৩টি চারের মার। এছাড়াও  ব্রাভো ৩১ বলে ৩৭, ৩টি ছয় ও ১টি চার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসে ছিল ১৪টি ছক্কা। তাদের ২০৫ রানের মধ্যে ৮৪ রান এসেছে ওভার বাউন্ডারি থেকে। ১৩ টি চারে এসেছে ৫২ রান। শুরুতে নামা ক্রিস গেনল ২০ ওভার শেষেও ক্রিজে ছিলেন। বলকে পিটিয়ে সীমানা পার করেছেন ১১ বার। চার এর চেয়ে ছয়ই বেশি। ৬টি ছয় আর ৫টি চার। ৪১ বলে করেছেন অপরাজিত ৭৫ রান। দৌড়ে রান নিলে তার সংগ্রহ আরও ক’টি বাড়তো। ৭৫ রানের ৫৬ টিই আসে ১১ বল থেকে। ২২ বলে ২৯ থেকে ২৯ বলে ৫০। এটি তার টি- টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দশম ফিফটি। এ আসরে ওয়াটসন ২৪৯ রান নিয়ে তার উপরেই আছেন। গেইলের সংগ্রহ ২১৯ রান। তবে ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় ওয়াটসনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আরও একটি সুযোগ থাকবে গেইলের হাতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ; ২০৫/৪ ( ক্রিস গেইল ৭৫, পোলার্ড ৩৮, ব্রাভো ৩৭, স্যামুয়েলস ২৬, চার্লস ১০, অতিরিক্ত ১৯, কামিন্স ২/৩৬, স্টার্ক ১/৩২, ডোহার্টি১/৪৮)
অস্ট্রেলিয়া: বেইলি ৬৩, হাসি ১৮, কামিন্স ১৩, ওয়াটসন ৭, হোয়াইট ৫, ডেভিড হাসি ০, ওয়েড ১, হগ ৭, স্টার্ক ২, ডোহার্টি ৯* রামপাল ৩/১৬, নারাইন ২/১৭, পোলার্ড ২/৬, বাদ্রি ২/২৭।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৪ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: ক্রিস গেইল।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট