Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

প্রেমাদাসায় আজ স্পিনযুদ্ধ

কলম্বো, ৪ অক্টোবর: সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ একটা জয় পেয়েছে পাকিস্তান। সেই সাথে দলে মেধাবী ক্রিকেটারেরও অভাব নেই। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সাথে চলতি টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান।

শ্রীলঙ্কার জন্য লড়াইটা হয়ে উঠতে পারে প্রতিশোধের। সেই সাথে আবেগও কাজ করবে। কারণ, ২০০৯ সালের টি২০বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখা হয়েছিল দুটো দলের। সেবার শিরোপার লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছিল পাকিস্তান। এবারের প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন। শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওয়ার্ল্ড টি২০ টুর্নামেন্ট। স্বাগতিকরা হোম গ্রাউন্ডে কিছুটা এগিয়ে থাকবে।

আজকের ম্যাচে দেখার বিষয় হবে দুই দেশের বিশ্বমানের স্পিনারদের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের লড়াই। এই যুদ্ধে নজর বেশি থাকবে রহস্যময় লংকান স্পিনার অজন্তা মেন্ডিস এবং হালে পাকিস্তানের দুর্দান্ত স্পিনার সাঈদ আজমলের ওপর।

বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকার পর দারুণভাবে ফিরেছেন অজন্তা মেন্ডিস। এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে নয়টি শিকার ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আট রানে ছয় উইকেট শিকারের টি২০ রেকর্ডটাও রয়েছে। আর গত কয়েকবছর ধরে পাকিস্তানের হয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো করছেন সাঈদ আজমল।

এর বাইরেও মোহাম্মদ হাফিজ, ইমরান নাজির, নাসির জামশেদ এবং আকমল ব্রাদার্সের মতো মানসম্পন্ন স্পিনাররা রয়েছেন। রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের পিচ থেকে ধীরগতির বোলাররা বেশ সুবিধা পাচ্ছেন। অজন্তা মেন্ডিস এই পিচে পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানদের আটকানোর জন্য কোন কৌশল অবলম্বন করেন সেটাই হবে দেখার বিষয়।

অন্যদিকে পাকিস্তান দল স্পিনত্রয়ী সাঈদ আজমল, হাফিজ এবং নবীন বাঁহাতি স্পিনার রাজা হাসানের কাছ থেকে অনেক ভালো কিছু আশা করবে। লংকান টপ অর্ডারের তিন ব্যাটিং স্তম্ভ তিলকরত্নে দিলশান, মাহেলা জয়াবর্ধনে এবং কুমার সাঙ্গাকারাকে আটকাতে এই তিনজনের ওপর ভরসা করবে পাকিস্তান।

দিলশান, মাহেলা এবং সাঙ্গাকারা রানের মধ্যেই আছেন। আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের পিচ তাদের নখদর্পনে। এবারের টুর্নামেন্টে এই পিচে লংকানদের চেয়ে পাকিস্তানীরা বেশি ম্যাচ খেলার কারণে কিছুটা এগিয়ে থাকবে।

এই পিচে খেলা তিন ম্যাচে দুটোতে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ২২ গজ কি ধরনের আচরণ করবে, এটা বেশ ভালোই জানেন পাকিস্তানী অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ।

অন্যদিকে লংকানরা তাদের সবগুলো ম্যাচ খেলেছে হাম্বানটোটা এবং পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে। ওই দুটো স্টেডিয়ামের পিচে সুবিধা পেয়েছেন পেসাররা।

প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ধীরগতির পিচে গুড লেংথই হোক বা ফুল লেংথ বলই হোক পেসার লাসিথ মালিঙ্গার মার খাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। এখানে শর্ট পিচড বল দেয়ার অর্থ হচ্ছে যে কোনোভাবেই হোক বলকে সীমানা দেখতে হবে। কাজেই লাসিথ মালিঙ্গা চাইবেন ব্যাটসম্যানদের ব্ল্যাকহোলে ইয়র্কার লেংথে বল ফেলতে। পাকিস্তানের জন্য একমাত্র দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে শহীদ আফ্রিদির ফর্ম। চলতি টুর্নামেন্টে এই অলরাউন্ডারকে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ব্যাট চালাতে দেখা গেছে। এমনকি তাকে ব্যাটিং অর্ডারে উপরের দিকে উঠিয়েও সাফল্য পাননি হাফিজ। উল্টো আফ্রিদিকে উইকেট ছুঁড়ে দিতে দেখা গেছে।

আফ্রিদির বোলিংও মানসম্পন্ন হয়নি। তিনি কয়েকটি উইকেটের দেখা পেলেও ব্যাটসম্যানরা তার বলের গতিকে ব্যবহার করেই অবলীলায় সীমানা পার করেছেন। তার বোলিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব সুস্পষ্ট। লংকানদের দুর্বলতা হচ্ছে অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা এবং সহ অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ফর্মহীনতা।

চলতি টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত ১২ ওভার বল করে ৮১ রানের বিনিময়ে একটিমাত্র উইকেটের দেখা পেয়েছেন ম্যাথুজ। সাঙ্গাকারা, জয়াবর্ধনে এবং দিলশান ব্যাটিংয়ের মূল কাজটা সেরে ফেলায় ব্যাট হাতেও নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পাননি তিনি।
তবে আজকের ম্যাচে ম্যাথুজের জ্বলে ওঠার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। কারণ ‘ল অব এভারেজ’ বা গড়পড়তা আইনের হিসাবে এ পর্যন্ত ভালো করার  দিলশান-মাহেলা-সাঙ্গাকারা আজ ফ্লপ করতে পারেন। দুটো দলের মধ্যে কারা এগিয়ে থাকবে, এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। কারণ,  শক্তির বিচারে দুটো দলই সমান। আর তারা লড়বে রোববারের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে।

স্কোয়াড:
শ্রীলঙ্কা: মাহেলা জয়াবর্ধনে (অধিনায়ক), দীনেশ চান্ডিমাল, তিলকরত্নে দিলশান, আকিলা ধনঞ্জয়া, শামিন্দা ইরাংগা, রংগনা হেরাথ, নুয়ান কুলাসেকারা, লাসিথ মালিঙ্গা, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ, অজন্তা মেন্ডিস, জীবন মেন্ডিস, দিলশান মুনাবীরা, থিসারা পেরেরা, কুমার সাঙ্গাকারা ও লাহিরু থিরিমানে।

পাকিস্তান: মোহাম্মদ হাফিজ (অধিনায়ক), আব্দুল রাজ্জাক, আসাদ শফিক, ইমরান নাজির, কামরান আকমল, মোহাম্মদ সামি, নাসির জামশেদ, রাজা হাসান, সাঈদ আজমল, শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, সোহেল তানভীর, ওমর আকমল, উমর গুল ও ইয়াসির আরাফাত।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট