Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

হলমার্ক কেলেঙ্কারীর হোতারা গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাসা ছাড়া, তদবিরে ব্যস্ত

হলমার্ক কেলেঙ্কারীর ঘটনায় মামলা হলেই একঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হতে পারেন অভিযুক্তরা। এমন আতঙ্কে তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সোমবার রাতে মামলা হতে পারে এমন খবরে অনেকেই বাসা ছেড়ে উঠেন হোটেলে। কেউ উঠেন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে। মামলা না হওয়ায় সোমবার আবার ফিরে আসেন নিজ নিজ বাসায়। মঙ্গলবার রিপোর্ট জমা হওয়ার পর, মামলার অনুমোদন হওয়ার পর এখন অনেকেই তাদের বাসা ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে হলমার্ক কেলেঙ্কারীর দায় এড়ানোর জন্য সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ এর একাধিক সদস্য, চেয়ারম্যান, সাবেক ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হলমার্ক গ্রুপের এমডিও তাদের দায় এড়ানোর জন্য চেষ্টা করছেন। দুদক তাদের দায়িত্ব অবহেলা ছাড়াও প্রভাব খাটানোর প্রমাণ পেয়েছেন। তারা দায়ী। তারা ব্যবস্থা নিলে ব্যাংক থেকে এতো টাকা যেতে পারতো না- এমন প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। দুদকের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে তাদের নামে যেন মামলা না হয়, অন্য মামলায় যেন আসামি করা না হয় এই জন্য নানাভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। নানাদিক থেকে লবিং করছেন। যে যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদবির করছেন যাতে করে তাদের নাম মামলায় না আসে। অভিযুক্তদের তালিকা থেকে নাম বাদ পরে। এ জন্য তারা নানাভাবে দুদকের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ও দুদকের টিমকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা ম্যানেজ করতে পারছে না। তবে সূত্র জানিয়েছে, অনেকটা চাপের কারণেই প্রথম পর্যায়ে পরিচালনা পরিষদ ও চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আপাতত মামলা করা হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, দুদকের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালকের কড়া হুঁশিয়ারি সামান্যতম অপরাধও যদি হলমার্ক কেলেঙ্কারীর ঘটনায় ও ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় কেউ সহযোগিতা করে থাকে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। ছাড় দেয়া হলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এটা যাতে না ঘটে এমন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তদন্ত টিম মামলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এফআইআরও লেখা হয়ে গেছে। কমিশন অনুমোদন দেয়ায় যে কোন সময়ে মামলা দায়ের হবে। সূত্র জানায়, ওই মামলায় হলমার্ক গ্রুপের নামে ঋণ প্রদান ও এলসি খোলা, এলসির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ পাশাপাশি ভুয়া বিলের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের সবার নাম এসেছে। তাদেরকে আসামি করেই মামলা করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, মামলা থেকে যেন রেহাই পেয়ে যান, তাদের বিরুদ্ধে মামলা না হয় এ জন্য পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা, চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারা জোর লবিং করছেন। এদিকে তানভীরও কম যাচ্ছেন না। মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে এমন খবর পেয়েই তিনি তার অবস্থান থেকে তদবির করার চেষ্টা করছেন। তবে দুদকের টিমের প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন অনেকেরই তদবিরের কথা। তবে তার সোজা জবাব হলমার্কের তানভীর তো দূরের কথা। তার মতো দশটা তানভীর এলেও আমার মাথা কিনতে পারবে না। তিনি দুদকে জিজ্ঞাসাবাদে বলেছিলেন তিনি ব্যাংক থেকে যে টাকা নিয়েছেন এর চেয়ে তিনি ২০ গুন সম্পদের মালিক। তিনি কত টাকার মালিক এটা সবাই আন্দাজ করতে পারছেন। তবে তিনি কেন, কেউ আসলেই এটা সম্ভব নয়। আমরা তদন্তে যা পেয়েছি সব তথ্যই তুলে ধরেছি। কাউকে ছাড় দেইনি। কাউকে ছাড় দেয়ার এখানে কোন সুযোগ নেই। হলমার্ক গ্রুপকে আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত দিতেই হবে এই জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ঘটনার তদন্ত নিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা সেটি পূরণ হবে। সবাই চাইছে এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার হোক। এটা গণমানুষের দাবি। আমরা সেই সব দিকও মাথায় রাখছি।
এদিকে সূত্র জানায়, সোমবার হলমার্ক কেলেঙ্কারীর ঘটনার তদন্ত টিমের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট ডেস্কের মহাপরিচালকের কাছে জমা পরে। ওই রিপোর্ট জমা পর বিষয়টি নিয়ে কমিশনের সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালক বৈঠক করেন। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ওই ঘটনায় প্রাপ্ত বিষয়ে ও মামলার বিষয়ে  আলোচনা হলেও তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ওই দিন মামলা করার প্রস্তুতি থাকলেও শেষ মুহূর্তে দুদকের পক্ষে মামলা করা সম্ভব হয়নি। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় চিহ্নিত করে তা আরও সুস্পষ্ট করার পাশাপাশি কিভাবে এগুলে তারা তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছুতে সক্ষম হবেন এ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে মঙ্গলবার কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়। এদিকে সোনালী ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় হলমার্ক গ্রুপের বিরুদ্ধে আজ কালের মধ্যেই মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতিমধ্যে ১১টি মামলা করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই মামলা শাহবাগ থানায় হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুদকের তদন্ত টিম হলমার্ক গ্রুপের অর্থ আত্মসাতের ঘটনার প্রতিবেদন কমিশনের কাছে দাখিল করে। কমিশন বৈঠক করে। বৈঠক করে তারা মামলা করার ব্যাপারে অনুমোদন দেন। এই পর্যায়ে ১১টি মামলা হলেও এই ঘটনায় আরও তদন্ত হচ্ছে। পরবর্তীতে রিপোর্টের দ্বিতীয় অংশ জমা দিবে টিম। তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম পর্যায়ে তদন্ত কমিটি মোট ২৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন চান। ২৭ কর্মকর্তার মধ্যে হলমার্কের ৬ এবং সোনালী ব্যাংকের ২১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য দুদক অনুমোদন দিয়েছে। দুদকের কমিশনার এম বদিউজ্জামান ও এম শাহাবুদ্দিন চুপ্পু মঙ্গলবার এক সপ্তাহের জন্য মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের সুপারিশ অনুযায়ী মামলা করার বিষয়ে তাদের মতামত দিয়ে যান গেছেন। সূত্র জানায়,  হলমার্ক গ্রুপের নেয়া ২ হাজার ৬৬ কোটি টাকার মধ্যে (ফান্ডেড) প্রায় দেড়  হাজার  কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে  আত্মসাতের অভিযোগে এসব মামলার অনুমোদন করেছে কমিশন। প্রথম দফায় ১১ মামলার সুপারিশ চান দুদকের অনুসন্ধান টিম। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান জানান, অনুসন্ধান প্রতিবেদনের পর দুদক যাচাই বাছাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিবে। সূত্র জানায়, ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী জেসমিন ইসলাম, জেনারেল ম্যানাজার তুষার আহমেদ, সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির, আজিজুর রহমানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন মিলেছে। দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংক নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের ওই ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখার অংশটুকু তৈরি করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে কমিশনে দাখিল করা হয়। এর ভিত্তিতে আজ কালের মধ্যেই মামলা হবে। গোলাম রহমান বলেন, প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছে হলমার্ক গ্রুপ। বাকি টাকা তারা ব্যাংকের অন্য শাখা থেকে তুলেছে। ২০১০ সালের শেষ থেকে ২০১২-এর মার্চ পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখাসহ একাধিক শাখা কার্যালয় থেকে অনিয়মের মাধ্যমে তিন হাজার ৬শ’ ৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় হলমার্ক গ্রুপ, ডিএন স্পোর্টস, নকশী নিট কম্পোজিট ও খান জাহান আলী স্যুয়েটার্সসহ ৬টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপই তুলেছে প্রায় ২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা। জানা  গছে, এ কেলেঙ্কারীর অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ও সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজী বাহারুল ইসলামসহ ১১ জন সাবেক ও বর্তমান পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এই পর্যায়ে এসব মামলায় তাদের আসামি করা হচ্ছে না ।
উল্লেখ, এ ঘটনায় ২ মহাব্যবস্থাপকসহ ২০ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কেলেঙ্কারীর ঘটনায় নাম আসায় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। ২৬শে সেপ্টেম্বর সুভাষ সিংহ রায়সহ সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন তারা। তারা বলেন, পরিচালনা পর্ষদ গত ২রা জানুয়ারি ইনল্যান্ড বিল পার্চেজ (আইবিপি) ইস্যু না করার নির্দেশ দিলেও তা অমান্য করে হলমার্ক গ্রুপকে ঋণ দিয়েছে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপসহ ৬টি কোম্পানি আত্মসাৎ করেছে মোট ৩ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে হলমার্ক এককভাবে আত্মসাৎ করেছে ২ হাজার ৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। দুদকের উপ-পরিচালক জয়নুল আবেদীন শিবলী চলতি বছরের জুনের প্রথমে এ অভিযোগটির অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে অভিযোগটির গুরুত্ব বিবেচনা করে ৬ সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- উপ পরিচালক আখতার হামিদ ভূঁইয়া, সহকারী পরিচালক মশিউর রহমান, নাজমুস সাদাত, উপসহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান ও জয়নাল আবেদীন। দুদক কশিমনার এম বদিউজ্জামান বলেন, যে যার অবস্থান থেকে যে কোন ধরনের তদবির করতে পারেন সেটা তাদের ব্যাপার। তবে তারা চাইলেও কোন কাজ হবে না। এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। তাদেরকে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি পেতে হবে। না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। তিনি বলেন, এখানে তদবিরে কোন কাজ হবে না। কারণ আমাদের সবচেয়ে দক্ষ ও সৎ টিম এই ঘটনার তদন্ত করছে। এখানে কেউ প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে নিজেরাই সমস্যায় পরতে পারেন। তিনি বলেন, দোষী সবাইকেই শাস্তির আওতায় আনা হবে আগে আর পরে। এটা কাজের জন্য কেবল সময়ের প্রয়োজন। যাদের অপরাধ গুরুতর তারা প্রথমেই বিচারের আওতায় আসছে। অন্যরাও আসবে। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ এবং ঘটনাটি বড় বলেই একটু সময় লাগছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট