Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ভারত-পাকিস্তান লড়াই আজ

কলম্বো, ৩০ সেপ্টেম্বর: সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে নাকানি চুবানি খেয়েছে ভারত। অজিদের কাছে পরাজয়ের পর ভারতকে সবদিক দিয়েই ব্যর্থ বলে গঞ্জনা শুনতে হচ্ছে। এই ভগ্ন মনোবল নিয়ে আজ চিনপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং বর্তমানে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটতে থাকা পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামছে ধোনি এন্ড কোং।

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ভারতকে চেনাই যায়নি। যে কারণে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং অর্থাৎ প্রতিটা বিভাগে নিজেদের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা জরুরি। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে না চাইলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে জয় পাওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে আজ জয়ের বিকল্প নেই ভারতের।

 

গ্রুপ পর্বে পাঁচজন স্পেশালিস্ট বোলার নিয়ে মাঠে নেমে সাফল্য পেলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই কৌশল কাজে লাগেনি। উল্টো ওয়াটসন- ওয়ার্নার জুটি বেধড়ক পিটিয়েছেন ধোনির দুই স্পিনার হারভজন এবং পীয়ূশ চাওলাকে।

 

বোলিং বিভাগের ব্যর্থতার জন্য অস্ট্রেলিয়ান ইনিংস শুরু আগে এক পশলা বৃষ্টিকে ধোনি দায়ী করলেও পুরো বোলিং বিভাগের একজনও সাফল্য পাবেননা-এটা মেনে নেয়া যায়না। রবিচন্দ্র অশ্বিন থেকে শুরু করে পীয়ূশ চাওলা পর্যন্ত সকলেই বল করেছেন মাত্রাজ্ঞানহীনভাবে। তাদের দেয়া ফুলটস বলগুলোকে সীমানার দড়ি দেখাতে সামান্যতম কষ্ট হয়নি অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইন আপের ‘টু ডব্লিউ’র।

 

পাঁচজন বোলার নিয়ে মাঠে নামার নীতিতে ধোনি অটল থাকলেও পীয়ূশ চাওলাকে চলতি টুর্নামেন্টে আবারো সুযোগ পেতে দেখলে অনেকেই বিস্মিত হবেন। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা এমনিতেই স্পিন খেলতে ওস্তাদ। তার ওপরে অনভিজ্ঞ পীয়ূশ চাওলাকে সামনে পেলে ইমরান  নাজির, নাসির জামশেদ এবং মোহাম্মদ হাফিজের পক্ষে সীমানা পার করতে সামান্যতম কষ্ট হবেনা। এই অবস্থাটা নিঃসন্দেহে ধোনি দেখতে চাইবেননা।

 

ভারতীয় অধিনায়ক মনে করছেন যে, প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের পিচে ধীরগতির বোলাররা সাফল্য পাবেন। সেক্ষেত্রে লক্ষীপতি বালাজির মতো বোলাররাই কার্যকর হবেন ধরে নেয়া যায়। ব্যাটিং লাইন আপ নিয়েও সমস্যায় আছে ভারত। বীরেন্দ্র সেহওয়াগকে মাঠের বাইরে রেখে তার জায়গায় ইনিংস উদ্বোধনে আবারো ইরফান পাঠানকে নামানো হয় কিনা, সেটাও দেখার বিষয়।

 

ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা যে ঠিকঠাক মতো বল পেটাতে পারছেননা, এর সাক্ষী পরিসংখ্যান।  এ পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিপক্ষে চারটি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ছক্কা হাঁকিয়েছে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। তিন ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সাত ছক্কার বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়াটসন একাই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে সাতবার উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করেছেন বল।

 

অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজয়ের সংবাদ সম্মেলনে ধোনি বলেছেন, সেহওয়াগকে কেন মাঠের বাইরে রাখা হলো, এটা জটিল প্রশ্ন। এক্ষেত্রে যুবরাজ সিংকে দলে ঠাঁই দেয়ার সিদ্ধান্তও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

 

বিরল প্রজাতির ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠার পর যুবরাজের অন্তর্ভুক্তিটা আবেগতাড়িত বলে সমালোচনা হয়েছিল। নির্বাচকদের সেই সিদ্ধান্ত যে সঠিক নয়, এটা বোঝা যাচ্ছে। কারণ প্রতিটি ম্যাচেই মনে হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার আগে যুবরাজের ঘরোয়া আসরে অনেক বেশি ম্যাচ প্র্যাকটিসের প্রয়োজন ছিল। বল হাতে ভালো করলেও তার ব্যাট থেকে ঝড় বইছে না। আফগানিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে যুবরাজের ব্যাট শান্ত থাকার কারণেই বড় সংগ্রহ ভারতীয় স্কোরবোর্ডে জমা হয়নি। যুবরাজ এবং সেহওয়াগের মধ্যে কাকে খেলানো হবে, এটা জটিল প্রশ্ন হলেও টপ অর্ডারে সেহওয়াগের অন্তর্ভুক্তিই দলকে প্রতিপক্ষের চেয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে বলেই আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে একটা পর্যায়ে ৭৬ রানে সাত উইকেট হারালেও ওমর গুলের ব্যাটে জয় পায় পাকিস্তান। দলের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

 

পাকিস্তান দলে কোনোকালেই মেধার কমতি ছিলনা। তাদের মধ্যে অভাব রয়েছে ধারাবাহিকতার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে চারজন স্পিনার খেলালেও ভারতের বিপক্ষে নবীন  স্পিনার রাজা হাসানকে খেলানোর বিষয়ে সম্ভবত পাকিস্তান চিন্তাও করবেনা।

অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজ, শহীদ আফ্রিদি এবং সাঈদ আজমল নিশ্চিতভাবেই প্রথম একাদশে থাকছেন। এর বাইরে দুর্দান্ত পেস বল দিয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের নাকাল করার বিষয় মাথায় রেখে মোহাম্মদ সামিকে খেলাতে পারে পাকিস্তান। তাদের উদ্বেগ শুধুমাত্র শহীদ আফ্রিদিকে নিয়ে। তার ব্যাট হাসছেনা। ফলে প্রয়োজনের সময়ে বড় সংগ্রহ গড়া বা রান তাড়া করায় আফ্রিদি কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

 

অনেক কিছুই নির্ভর করছে পাকিস্তানের সবচেয়ে মেধাবী নবীন খেলোয়াড় উমর আকমলের ওপর। নিজের দিনে তিনি বিশ্বের যে কোনো বোলিং বিভাগ তছনছ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন।

 

অধিনায়ক হাফিজের ধারাবাহিকতা, আজমলের কৌশল এবং শোয়েব মালিকের ঠান্ডা মাথার উপস্থিতি অবশ্যই পাকিস্তানের জন্য ইতিবাচক দিক।

 

২০১১ সালের বিশ্বকাপের সেমিতে ভারতের কাছে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এমনিতেই তেতে আছে পাকিস্তান। তার ওপরে ওয়ার্ম আপ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে পেয়েছে তারা। সেই সঙ্গে সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে জয়ের মধ্য আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছে পাকিস্তান। কাজেই ভারতকে হারিয়ে আজই ধোনিদের হাতে বিমানের টিকিট ধরিয়ে মিতে চেষ্টার ক্রুটি করবেনা ব্যাটে-বলে এই মুহূর্তে দুর্দান্ত পাকিস্তান দল।

 

স্কোয়াড (পাকিস্তান): মোহাম্মদ হাফিজ (অধিনায়ক), আব্দুল রাজ্জাক, আসাদ শফিক, ইমরান নাজির, কামরান আকমল, মোহাম্মদ সামি, নাসির জামশেদ, রাজা হাসান, সাঈদ আজমল, শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, সোহেল তানভীর, ওমর আকমল, উমর গুল, ইয়াসির আরাফাত।

 

স্কোয়াড (ভারত): মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), রবিচন্দ্র অশ্বিন, লক্ষীপতি বালাজী, পীযূশ চাওলা, অশোক ডিন্ডা, গৌতম গম্ভীর, হারভজন সিং, জহির খান, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, রোহিত শর্মা, মনোজ তিওয়ারী, যুবরাজ সিং।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট