Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বারনামা’য় প্রতিবেদন: মালয়েশিয়ার সদিচ্ছাকে অবহেলা করছে বাংলাদেশ

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে হয়তো যেনতেন একটি চুক্তির মুখোমুখি হতে পারে মালয়েশিয়া অথবা তারা এ প্রকল্পে আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়তে পারে। এরই মধ্যে মাসের পর মাস বৈঠক হয়েছে। পরামর্শক ফি দিতে হয়েছে। প্রকল্পের উপযুক্ততা যাচাই করতে হয়েছে। এতে বেশ অর্থ ব্যয় হয়েছে মালয়েশিয়ার। ওদিকে হাই-টেক পার্ক স্থাপন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার মধ্যে মন কষাকষি হয়েছে। মালয়েশিয়ার এক কর্মকর্তা বলেছেন, আগামী মাসে বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা তা পুনর্বিবেচনা করছে মালয়েশিয়া। গতকাল মালয়েশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা বারনামা’র এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। ‘ইজ মালয়েশিয়া ফেসিং এ র ডিল ইন বাংলাদেশ?’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন এম. সরস্বতী। এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের বিষয়টি বাতিল করার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পে মালয়েশিয়াকে প্রস্তাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তারই ভিত্তিতে ২৯০ কোটি ডলারের এই প্রকল্পে জড়িত হয় মালয়েশিয়া। কিন্তু কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ সরকারের এ প্রকল্প নিয়ে নতুন চিন্তা-ভাবনার কথা প্রকাশ করে বাংলাদেশের একটি ইংরেজি পত্রিকা। তাতে সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক এ প্রকল্পে মালয়েশিয়ার সরকারকে বিনিয়োগে বাংলাদেশ সরকার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ফেরাকেই বাংলাদেশ তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে নিয়েছে। এ নিয়ে অনেক কথা বলাবলি হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক এখন এ প্রকল্পে নতুন করে অর্থায়ন করার পথে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা এ প্রকল্পে দুর্নীতিতে জড়িত এমন অভিযোগে বিশ্বব্যাংক এর আগে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে। তারা এখন নতুন করে এ প্রকল্পে ফেরা পুনরুজ্জীবিত করতে রাজি হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)-এর এক কর্মকর্তা বলেছেন, মালয়েশিয়ার প্রস্তাব এখনও সমঝোতার জন্য প্রস্তুত নয়। তিনি বলেন, এ বছরের ১০ই এপ্রিল এই দু’টি দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তা সত্ত্বেও কোন শর্ত ছাড়াই সেই সমঝোতা স্মারক থেকে দু’দেশই বেরিয়ে যেতে পারে। তাতে এমন সুযোগও রাখা হয়েছে। বিবিএ’র এক কর্মকর্তা বলেছেন, সমঝোতা স্মারকে নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করতে ৯ মাস সময়সীমা রাখা হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে ৫ মাস কেটে গেছে। কিন্তু এখনও আমরা সামনে এগোনোর মতো কোন পূর্ণাঙ্গ বা দৃঢ় কোন প্রস্তাবনা পাইনি। ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মালয়েশীয় দূত শেরি সামি ভেল্লু বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব জমা দিতে তার সরকার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি জমা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা এ জন্য সন্তুষ্ট যে, মালয়েশিয়া সময়সীমা রক্ষা করেছে। তাতে চূড়ান্ত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার আগেই গত মাসে এ সেতুর বিষয়ে আইনি, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, গত ২৭শে আগস্ট পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে মালয়েশিয়া সুবিধাজনক প্রস্তাব (কনসেশনাল অফার) জমা দিয়েছে। সরকার তখনও তা নিয়ে বিশ্লেষণ করছিল। তিনি আরও বলেছিলেন, এ বিষয়ে কোন আলোচনা না করে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে প্রতিশ্রুত ঋণ বাতিল করেছে। এটা যথার্থ নয়। এছাড়া, তাদের ঋণ বাতিলের কারণে প্রকল্প বিলম্বিত হয়েছে। উত্তর থেকে বয়ে আসা গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি মিলিত হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মা নদীতে। তারপর তা দক্ষিণে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। এই নদীর ওপর এ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৬ কিলোমিটার সেতু নির্মাণের কথা রয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৩ কোটি মানুষকে রাজধানী ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে এই নদী। ফলে ওই এলাকাটি রয়েছে অনুন্নত। এই সেতু নির্মিত হলে ওই এলাকা রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সংযুক্ত হবে।  প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি কলকাতা হয়ে ভারতের জন্য হতে পারে একটি গেটওয়ে। অনেক পর্যবেক্ষক একে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযুক্তি হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একমাত্র ইস্যু পদ্মা বহুমুখী সেতুই নয়, কুলিম টেকনোলজি পার্ক করপোরেশন (কেটিপিসে)-ও যুক্ত আছে। এতে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো হাই-টেক পার্ক নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ) ও কেএইচটিপি’র মধ্যে ব্লক পুনর্বিন্যাস নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ব্লক পুনর্বিন্যাস বলতে বোঝানো হয়েছে ওই প্রকল্পটিকে ভেঙে তিনটি ভাগ করা হবে এবং তা বাস্তবায়নে একের অধিক ডেভেলপারকে কাজ দেয়া হবে। কেএইচটিপি’র এক কর্মকর্তা বলেছেন, এ প্রকল্পের টেন্ডারে ব্লক পুনর্বিন্যাসের কোন ধারাই ছিল না। ফলে এখন যা করার কথা বলা হচ্ছে তা প্রস্তাবের পুরোপুরি লঙ্ঘন। তবে বিএইচটিপিএ’র এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, কর্তৃপক্ষ কিছু অধিকার সংরক্ষণ করে, যা টেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। অভিযোগ আছে, এখন অন্য কোম্পানিগুলো ওই হাই-টেক পার্ক উন্নয়নে যোগ দিতে চাইছে। এই চুক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বারনামা’কে বলেছেন, দৃশ্যত মালয়েশিয়ান কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাঞ্চিত আচরণ করা হচ্ছে না। সম্ভবত আমাদের সময় এসে গেছে- আমাদের অন্য কোম্পানিগুলোর একই দশা হওয়ার আগে সরে আসার। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে গিয়েছে, বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে আমাদের আরেক মুসলিম দেশে সহায়তার জন্য সদিচ্ছা নিয়ে। কিন্তু কুয়ালালামপুরের সেই সদিচ্ছাকে অবহেলা করা হচ্ছে। দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাংলাদেশ থেকে অধিক শ্রমিক নেয়ার জন্য সোর্স কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী মাসে ঢাকায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পরিকল্পনা আছে। কিন্তু কুয়ালালামপুর ওই সমঝোতা স্মারক নিয়ে এখন ভেবে দেখছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন ৪ লাখেরও বেশি বাংলাদেশী শ্রমিক। ২০০৭ সাল থেকে তারা নতুন বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়া বন্ধ রেখেছে। বাংলাদেশে আসিয়ানভুক্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ মালয়েশিয়া। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি অনেক। ২০১০-১১ অর্থবছরে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ ১৭৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। একই সময়ে রপ্তানি করেছে ৪৩৮৭ কোটি ডলারের পণ্য।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট