Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জনতা ব্যাংকের ৩৫০ কোটি টাকা লোপাট

সোনালী ব্যাংকের পর এবার জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ৩৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।  ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন এ ব্যাপারে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে। দুদকের সহ-পরিচালক মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বে গঠিত চার সদস্যের এ  টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- এস.এম সাজ্জাদ হোসেন, সুচিত্রা সেন, মেহতাউল্লাহ জান্নাত। জনতা ব্যাংকের রমনা কর্পোরেট শাখা ও লোকাল অফিসে এ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগটিতে প্রাথমিকভাবে অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ৩৫০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। ২০১০ সালের ৬ই জানুয়ারি জনতা ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টর অডিট কমিটির ২৯তম সভায় জালিয়াতির বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হলেও পরে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। জনতা ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের জন্য তানভীর চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে দুটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৫০ কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠান দুটির নাম হলো-  মেসার্স চৌধুরী নিটওয়্যারস লিমিটেড এবং মেসার্স চৌধুরী টাওয়েল। জনতা ব্যাংকে ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিন বছরে চৌধুরী নিটওয়্যারস লিমিটেড আত্মসাৎ করে ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ে কোন মালামাল না এনে এই টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। আবার একই প্রতিষ্ঠান ২০০৭ সালের মে মাস থেকে ২০০৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত  ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ১৮০ মার্কিন ডলার ( প্রায় ২৩ কোটি টাকা) ভুয়া এলসির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। প্রতিষ্ঠানটি মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ২০০৮ সালের এপ্রিলে। লোকাল বিল পার্চেজ শিটে জামানত আছে এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই টাকা হাতিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার একই গ্রাহক মেসার্স সাইনথেটিক ইয়ার্ন এর এল ডিবিবি (বিল নম্বর-২৬৫/০৮ ও ৮৮/০৯) এর অনুমোদন নেয়ার সময় মিথ্য তথ্য দিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া। একইভাবে মেসার্স এমআরএসআর ইন্টারন্যাশনালের চারটি বিল পার্চেজ করে ৫২ লাখ এবং মীর এন্টারপ্রাইজের বিল পার্চেজ করে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০০০-০১ অর্থবছরে ঘটনাটি ঘটে। দীর্ঘ কয়েক বছরে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ২০০৭ সালে চৌধুরী নিটওয়্যারস ১৬টি ভুয়া রপ্তানি কালেকশন বিল দেখিয়ে (বিল নম্বর-৫৬, ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬২, ৬৯, ৭০, ৭৬, ৭৯, ৮০, ৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৫, ৮৬ ও ১৩১/ ২০০৮) তার বিপরীতে একই শাখা থেকে লোকাল ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র খুলে ১৭ লাখ ৭ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারের (প্রায় পৌনে ১২ কোটি টাকা) মালামাল ফ্যাক্টরিতে না এনে এমনকি রপ্তানি না করে এর বিল শাখা থেকে তুলে নেয়। এখানে জালিয়াতির মাধ্যমে সব টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের বিল পার্চেজের সময় ৭০ লাখ টাকা সান্ড্রি ডিপোজিট একাউন্ট সান্ড্রি ক্রিডিটরস্‌ হিসাবে দেখানো হয়। এখানে গ্রাহকের ১৫০ কোটি টাকা দায় থাকা সত্ত্বেও অসৎ কর্মকর্তাদের সহায়তায় একাজ করা হয়। ২০০৮ সালে ৯টি লোকাল সাপ্লাইয়ারের কাছ থেকে ভুয়া বিল করে ব্যাংকের মাধ্যমে ৪১ কোটি টাকা গ্রুপটি হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। এখানে ১৪৪টি ভুয়া বিল ব্যবহার করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয় এ সময় গ্রুপটির রমনা শাখার কাছে ১৬০ কোটি টাকার পিএডি দায় ছিল। ২০টি ভুয়া রপ্তানি বিলের কুশন দেখিয়ে (এফডিবিসি নং-৬৮/২০০৭, বিল নম্বর-৯, ১২, ১৪, ১৬, ১৭, ১৮, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৫০, ৬৪, ৬৫, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৫, ১১০/২০০৮) ব্যাক টু ব্যাক এলসির কথা বলে মালামাল রপ্তানি না করে প্রায় ৯ কোটি টাকা মেসার্স চৌধুরী টাওয়েল ইন্ডাস্ট্রির নামে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট