Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ইমরান ঝড়ে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

 সাকিবের চোখ জুড়ানো ব্যাটিং সত্ত্বেও সুপার এইটে খেলা হলো না বাংলাদেশের। সাকিবের ব্যাটিং নৈপুণ্য ম্লান হয়ে যায় ইমরান নাজিরের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। ৩৬ বলে ৭২ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার ছিনিয়ে নেন তিনি। পাকিস্তানকে টপকে সুপার এইটে খেলতে হলে বাংলাদেশকে অন্তত ৩৭ রানের ব্যবধানে জিততে হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের। গতকাল পাল্লেকেলেতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ হার মানে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। এ জয়ে পাকিস্তান গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সুপার এইটে উঠলো। ১৬তম ওভারে আবুল হাসানের বলে ছক্কা মেরে পাকিস্তানের সুপার এইট নিশ্চিত করেন ওয়ান ডাউনে নামা নাসির জামশেদ। তবে হারলেও এ ম্যাচে বাংলাদেশ ভালই লড়াই করেছে বলতে হবে। পাকিস্তানকে জয় ছিনিয়ে নিতে    অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৯ ওভার পর্যন্ত। সফিউলের বলে চার মেরে জয়সূচক রান তুলে নেন কামরান আকমল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এটি টানা দশম পরাজয়। ব্যাটসম্যানরা ভাল করলেও বাংলাদেশের বোলাররা কোন সুবিধাই করতে পারেননি পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে। তবে স্পিনাররা তুলনামূলক রান কম দিয়েছেন। তারপরও বাংলাদেশের খেলা প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। বয়স ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে দু’দলের ফারাক অনেক। সুপার এইটে ওঠা  দলগুলো হলো- এ গ্রুপে শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৮শে সেপ্টেম্বর পাকিস্তান দক্ষিণ আফ্রিকার ও ভারত অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে। আর সুপার এইটের প্রথম দিনে শ্রীলঙ্কা নিউজিল্যান্ডের এবং ইংল্যান্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে। আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোন খেলা নেই।
১৪০ রান করে হারলেও সুপার এইটে খেলতে পারবে পাকিস্তান- সমীকরণটা এরকম হলেও তারা সহজে ছেড়ে দেয়ার পাত্র নয়। হার তো নয়ই, পাকিস্তান যেন বাংলাদেশের ১৭৫ রানের জবাবে পণ করে নেমেছিল কত তাড়াতাড়ি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়। মোহাম্মদ হাফিজ আর ইমরান নাজির বাংলাদেশের বোলারদের যেন হিসেবের মধ্যেই আনতে চাননি। অধিনায়ক হাফিজ দায়িত্ব নিয়ে দেখে শুনে খেললেও ইমরান ছিলেন অদম্য। প্রতিযোগিতায় দ্রুততম অর্ধশতকও করে ফেলেন তিনি। ২৫ বলে তিনি তার অর্ধশত পূরণের আগে তিনটি ছক্কা ও ৭টি চার মারেন। টি-টোয়েন্টিতে এটি কোন পাকিস্তানির দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতক। অথচ ব্যক্তিগত ১ রানের মাথায় জীবন পান ইমরান। তার ক্যাচ মিড অনে নিতে ব্যর্থ হন আবুল হাসান। অবশ্য পরে এই হাসানের বলেই বদলি ফিল্ডার ফরহাদ রেজার হাতে ধরা পড়েন ইমরান নাজির। তবে ঠিক প্রতি বলে ২ রান করে তোলেন তিনি। ৩৬ বলে ৭২ করার পথে তিনটি ছক্কা ও ৯টি চার মারেন। ২১তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এটি তার তৃতীয় ফিফটি আর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। আগের সেরা ছিল ৫৯। মোহাম্মদ হাফিজকেও একই ওভারে আউট করেন হাসান। হাফিজ ৪৫ করেন ৪৭ বলে। চার মারেন ৭টি। ১২৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট পড়লে নাসির জামশেদ ও কামরান আকমল অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। জামশেদ ২৯ ও কামরান ২২ রান করেন। তারা বল খেলেন যথাক্রমে ১৪ ও ১৫টি। নাসির জামশেদ ২টি ছক্কা ও ২টি চার আর কামরান ৪টি চার মারেন।
সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ব্যাটিং স্বপ্ন পূরণের জন্য যথেষ্ট না হলেও তার ক্যারিয়ারসেরা ব্যাটিংয়ের সুবাদেই বাংলাদেশ লড়াকু স্কোর গড়তে সক্ষম হয়। ফলে আর যা-ই হোক বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিতে পারেনি সাবেক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। ২০ ওভারে  বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৭৫ রান। সাকিব একাই করেন ৮৪ রান। ৫৪ বলে সাকিব এ রান করার পথে ১১টি চার ও দু’টি ছক্কা হাঁকান। সাকিব দারুণ খেলে তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি আদায় করে নেন। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ৫৫ রান। সাকিব ৫০ পুরো করেন ৩৩ বলে। পাকিস্তানি বোলারদের যতই নাম ডাক থাকুক না কেন সাকিবের সামনে কাল আফ্রিদি ছাড়া সবাই নতজানু থেকেছেন। বিশেষ করে উমর গুলের এ খেলাটির কথা অনেক দিন মনে থাকবে। দুর্ধর্ষ ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিত উমর গুল তিন ওভারে দেন ৪৩ রান। শহীদ আফ্রিদি সবচেয়ে সাশ্রয়ী বোলার হিসেবে ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। টসে জিতে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেয়া বাংলাদেশের শুরুটাও ভাল করেছিলেন তামিম-আশরাফ। উদ্বোধনী জুটির বিচ্ছেদ ঘটে আশরাফুলের বিদায়ে। সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল ১৩ বলে ১৪ রান করে সোহেল তানভীরের বলে বোল্ড হন। ওয়ান ডাউনে নামেন সাকিব। তামিম-সাকিব সমানে চালাতে থাকেন। ম্যাচের ৩৫তম বলে আউট হন তামিম। তখন ৫.৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬১ রান। ভাগ্য মন্দ তামিমের। তিনি ১২ বলে ৫ চারে ২৪ রান করে যখন বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন তখনই রান আউট হন। এরপর সাকিব ও অধিনায়ক মুশফিক জুটি বেঁধে স্কোর এগিয়ে নিতে থাকেন। মুশফিক ছিলেন তুলনামূলক সংযত। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন অধিনায়ক মুশফিক। তিনি ২৬ বলে ২৫ রান করে ইয়াসির আরাফাতের বলে ইমরান নাজিরের হাতে ধরা পড়েন। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ১২৯। তৃতীয় উইকেটে যোগ হয় ৬৮ রান। মুশফিকের বিদায়ের পর আসেন মাহমুদুল্লাহ। তিনি বরাবরের মতো এবারও ব্যর্থ। ২ বলে কোন রান করার আগেই আফ্রিদির একমাত্র শিকারে পরিণত হন। এ সময় আফ্রিদি-আজমলের  মাপা স্পিনে বাংলাদেশের রানের গতি খানিকটা কমে আসে। কিন্তু আবারও উমর গুলকে বল দিলে গতি পায় রানের চাকা। সাকিব-নাসির ৩৭ রান তোলেন। ইয়াসির আরাফাতের শেষ ওভারে সাকিব উমর আকমলের হাতে ধরা পড়েন। ১৩ বলে ১৬ রান করে নাসিরও বোল্ড হন আরাফাতের বলে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৭৫/৬ (সাকিব ৮৪, মুশফিক ২৫, তামিম ২৪, আশরাফুল ১৪, নাসির ১৬, আরাফাত ৩/২৫, আফ্রিদি ১/২০, তানভীর ১/২৫, উমরগুল ০/৪৩, হাফিজ ০/২৮, আজমল ০/৩০।
পাকিস্তান: ১৯.৪ ওভারে ১৭৮/২ (ইমরান নাজির ৭২, হাফিজ ৪৫, আবুল হাসান ২/৩৩, মাশরাফি ০/৩০, রাজ্জাক ০/৩৯, সফিউল ০/ ৩৫, সাকিব ০/২৩, মাহমুদুল্লাহ ০/২৪। ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: ইমরান নাজির।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট