Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

চোরের মায়ের বড় গলা: খালেদাকে হানিফ

ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ‘‘হুমকি-ধমকির রাজনীতির সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে কোনো অন্যায় দাবি আদায় করা যাবে না।’’

একইসঙ্গে আগামী নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে-এ বিষয়ে আলোচনার দ্বার খোলা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সহকারী।

সোমবার বিকেলে দলের ধানমণ্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দল এখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে কথা বলছে। তাহলে আমাগামী নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে? এ প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, ‘‘বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চাইলে এই সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। সেক্ষেত্রে আলোচনার দ্বার খোলা আছে।’’

আওয়ামী লীগ আগাম নির্বাচন করবে কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আগাম নির্বাচনের কথা আওয়ামী লীগ তো কখনই বলেনি। তবে এটা নিয়ে বিএনপি আশঙ্কা করছে। আসলে আশঙ্কা আর অভিযোগ করাই বিএনপির কাজ। আমরা পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই- নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে। এর আগে নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা আওয়ামী লীগের নেই।’’

এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠের সময় হানিফ বলেন, ‘‘সুপ্রীম কোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন পরিচালনায় ও গণতন্ত্র পরিপন্থী দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার যে ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে, সে শংকা বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। আবার যদি এ ব্যবস্থা কোনোদিন আসে, আর যদি তারা ক্ষমতা না ছাড়ে তাহলে জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার হারাবে।’’

বিএনপি চেয়ারপারসন এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার দিনাজপুরের বক্তব্যকে ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং বানোয়াট হিসেবে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘‘দিনাজপুর গোর-এ শহীদ মিনার ময়দানে বেগম খালেদা জিয়া গোঁজামিলে ভরা তথাকথিত ১৮ দলের মহাসমাবেশে যে ভাষণ দিয়েছেন, তা মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ বস্তাপচা পুরনো কাহিনীর নতুন সংস্করণ মাত্র। আমরা এ ধরনের কুৎসিত, লাগামহীন, হিংসাশ্রয়ী, বিদ্বেষপ্রসূত, বেপরোয়া, ভিত্তিহীন, কল্পিত, বানোয়াট কথামালাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। একইসঙ্গে আমরা এসব বিভ্রান্তিকর আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘তার বক্তব্যের ভাষা ও আচরণ দেখে আমাদের কষ্ট হয়েছে। আমাদের একটু করুণাও হয়েছে। তার চেহারায় হতাশার ছাপও দেখতে পেয়েছি। তিনি ভেবেছিলেন সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিপদে পড়বে এবং তিনি পরবর্তীতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলে ক্ষমতায় আসবেন।’’

মহাজোট সরকারকে মহাচোর বলার প্রতিবাদে হানিফ বলেন, ‘‘বিএনপি জামায়াত জোট রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার সময় দেশে সীমাহীন লুটপাট হয়েছিল। যিনি দুনীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থকে সাদা করেছেন। তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে দেশে এবং বিদেশে মানি লন্ডারিং কেস হয়েছে। তারা বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার অভিযোগ চোরের মায়ের বড় গলার মতো।’’

হানিফ বলেন, ‘‘বেগম জিয়া জঙ্গি উত্থানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদাগার করেছেন। একথা দেশবাসীর মানসপট থেকে মুছে যায়নি যে, বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল। জঙ্গি আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাই বিএনপি-জামায়াতের সৃষ্টি।’’

তিনি বলেন, ‘‘দেশবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে বলেছেন ১০ মাস সময় নষ্ট হয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করে প্রাথমিক নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরুর পর্যায়ে রেখে গিয়েছিল। পরবর্তী ৫ বছর বেগম খালেদা জিয়া সরকার প্রধান থাকাকালীন সময়ে পদ্মা সেতুর কাজ এক বিন্দুও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি কেন? এখন বিলম্বহেতু মায়াকান্না করতে লজ্জাবোধ করে না?’’

দ্রব্যমূল্য নিয়ে খালেদার বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পরও আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছি। বিএনপি সরকারের আমলে চালের কেজি প্রতি মূল্য ছিল ৪০ টাকা। এখন তা কমে প্রকারভেদে ২২ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”

তিনি বলেন, এটা বোঝার জন্য মেট্রিকে শুধু অংকে পাশ করার দরকার হয় না। আমাদের সরকারের সময় মানুষের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। মাথাপিছু আয় ৬৬০ ডলার থেকে বেডে ৮৫০ ডলারে উত্তীর্ণ হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩ হাজার টাকা।

ক্ষেতমজুররা আগে যেখানে ১০০ টাকা মজুরি পেত, তা আজ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, দারিদ্র্যের হার কমেছে ১০ ভাগ। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৭ শতাংশ। রিজার্ভ ১১ বিলিয়নের উপরে। রেমিটেন্স বেড়েছে ১৯.৪ ভাগ। রপ্তানি বেড়েছে ৭৫০ কোটি ডলারের বেশি। ৬৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। মানুষের এই ভালো থাকা এবং দেশের অগ্রগতি উন্নয়ন বিরোধী দলীয় নেত্রীর পছন্দ হয় না বলে মন্তব্য করেন হানিফ।

বিদ্যুত খাত নিয়ে খালেদার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘বেগম জিয়ার শাসনামলে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়েনি, বরং কমেছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ খাতে তারা লুটপাট করেছিল। খাম্বা নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিল। সে সময় তারা ৯ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছিল।’’

হানিফ বলেন, ‘‘আমরা বেগম জিয়া ও তার তল্পিবাহকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এই হুমকি, ধমক দিয়ে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রজাতন্ত্র কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা যাবে না। বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত সচেতন। তারা কোনো অবস্থাতেই বিএনপি-জামায়াত জোটের অন্ধকার যুগে দেশকে আর ফিরে যেতে দেবে না। অতএব, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেগম জিয়ার ‘দেখে নেয়ার’ আস্ফালন কোনোদিনই আলোর মুখ দেখবে না।’’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, উপ দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন, এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট