Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন: খালেদা

দিনাজপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর: জাতীয় সংসদে নির্বাচনকালীন প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ছোট মন্ত্রিসভার কথা নাকচ করে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘‘কোনো ফর্মূলা দিয়ে কাজ হবে না। দলীয় নয়, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। তা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবো, সরকার পালানোর পথ পাবে না। তারা আত্মসমপর্ণ করতে বাধ্য হবে।’’

রোববার বিকেলে দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানে (বড় মাঠ) জনসভায় তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করে আগামী দিনে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা চান।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এই জনসভার আয়োজন করে। বিরোধী দলীয় নেতা জনমত গঠনের অংশ হিসেবে মাসব্যাপী ঘোষিত গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুরে এই জনসভা করেন।

খালেদা জিয়া এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী, ৬ অক্টোবর হবিগঞ্জ ও ৯ অক্টোবর বরিশালেও জনসভা করবেন।

দিনাজপুরের জনসভার জন্য শনিবার বিকেলে ঢাকা থেকে বগুড়া সার্কিট হাউজে রাতযাপন করেন খালেদা জিয়া। রোববার বেলা ১২টায় দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

বিকেল ৪টা ৫৫ থেকে এক ঘণ্টার বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা, দুর্নীতি, পদ্মা সেতু প্রকল্প, শিক্ষাঙ্গনে দলীয়করণ, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পূঁজিবাজার, বিদ্যুৎখাত, সীমান্ত হত্যা, নতজানু পররাষ্ট্র নীতিসহ সরকারের ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘এই সরকার জনগণকে ভয় পায়। সেজন্য তারা ফ্যাসিস্ট কায়দায় বিরোধী দলের আন্দোলন দমাতে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। সরকারকে বলতে চাই, আপনাদের বন্দুক, কামান, টিয়ারগ্যাসে কাজ হবে না। অবশ্যই জনগণের কাছে আত্মসমপর্ণ করতে হবে।’’

বিরোধী দলীয় নেতা নির্দলীয় সরকারের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকালীন ছোট মন্ত্রিসভা থাকবে। আমরা বলতে চাই- আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। কারণ তারা কেবল অর্থ চুরি নয়, ভোটও চুরি করে। ’’

আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি বিশেষ করে পদ্মা সেতুর বাতিল হওয়া ফান্ড ফিরে পেতে বিশ্বব্যাংকের সব শর্ত মেনে নেয়ার কথা তুলে ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘নাকে খত দিয়ে কান ধরে উঠাবস করে বিশ্বব্যাংকের ফান্ড নিয়েছে তারা।’’

তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতির কারণে মহাজোট সরকার এখন বিশ্বচোর ও মহাচোর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই জনসাধারণকে বলছি, সরকারের লোকজনকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের কান ধরে ওঠবস করাবেন। তারা বুঝে গেছে, ক্ষমতা ছেড়ে দিলে জনগণ তাদের ছাড়বে না। তাই ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’’

আওয়ামী লীগ সরকার মহাচোর
খালেদা জিয়া দেশের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির জন্য সরকারকে দায়ী করে বলেন, ‘‘এই সরকার বাংলাদেশকে শেষ করে দিয়েছে। হলমার্ক, পূঁজিবাজার, রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টসহ সর্বত্র দুর্নীতি করে তারা জনগণের অর্থ লুট করেছে। মহাজোট সরকার মহাচোর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই চোরদের বাইরে জায়গা হবে না। তাদের জেলখানায় জায়গা হবে।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘এই সরকারের মাথায় পচন ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা দুর্নীতিতে ব্যস্ত হয়ে গেছে।’’

হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীরের কথা উলেস্নখ করে তিনি বলেন, ‘‘সরকারের সঙ্গে এ ব্যক্তির ওঠাবসা রয়েছে।’’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘সরকার পূঁজিবাজার, হলমার্কসহ কোনো ঘটনার বিচার করতে পারেনি। তারা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।’’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন আজ্ঞাবহ
খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারা ভোট চুরি করার জন্য এখন থেকে প্রশাসনকে ঢেলে সাজাচ্ছে। জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগকে তারা দলীয়করণ করেছে।’’

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার গভর্নর জেনারেল স্যার নিনিয়ান এসে প্রস্তাব করেছিলেন, দুই দল থেকে সমান সংখ্যক মন্ত্রী নিয়ে একটি ছোট মন্ত্রিসভার অধীনে নির্বাচন করা। কিন্তু ওই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তা মেনে নেননি। যে ফর্মুলা তিনি গ্রহণ করেননি এখন তা জনগণ গ্রহণ করবে না। আমরা মনে করি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’’

পদ্মা সেতু প্রকল্পে সরকারের নাকে খত
দিনাজপুরের জনসভায় খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘‘১০ মাস আগে বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে নিলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের এই অবস্থা হতো না। সরকার এখন নাকে খত দিয়ে কান ধরে ওঠবস করে তাদের শর্ত মেনে নিয়েছে। বিশ্বব্যাংক এই সরকারকে বিশ্বচোর বলেছে বলে তারা অর্থায়ন বাতিল করেছিল।’’

পদ্মা সেতু নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নানা রকম ঘোষণার সমালোচনা করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাংক সেতু প্রকল্পে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও সরকার প্রথমে তা করেনি। বরং প্রধানমন্ত্রী বললেন, নিজেদের অর্থায়নে সেতু করবেন। এরপর চাঁদা তুলে করবেন। এমনকি শিশুদের টিফিনের টাকা দিয়ে সেতু নির্মাণ করবেন।” এই সরকার চাঁদাবাজ সরকার। তারা চাঁদা তুলবেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুস প্রসঙ্গ
খালেদা জিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘অধ্যাপক ইউনুস বাংলাদেশের গর্ব। তিনি ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এখন নোবেল পুরস্কারের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। নোবেল কমিটির কাছে লেখা উচিৎ দুর্নীতির জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া যায় কিনা। তাহলে আওয়ামী লীগ নেত্রীকে দুর্নীতির জন্য নোবেল দেয়া যেতে পারে।”

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতিবাজ
বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীরের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ১৭ বছরের জেল হয়েছিল। নির্বাচনে অনিয়মের জন্য উচ্চ আদালতে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে গেছে। একটি রিট করে তিনি সদস্যপদ টিকিয়ে রেখেছেন।’’

জঙ্গিবাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সর্ম্পক
খালেদা জিয়া দাবি করে বলেন, ‘‘বড় জঙ্গি শাইখ আবদুর রহমান আওয়ামী লীগের মির্জা আজমের বোনের জামাই ছিলেন। ওই জঙ্গিকে আমরাই গ্রেপ্তার করে শাস্তির বিধান করেছি। তাদের সময়ে রমনা বটমূল, যশোরের উদীচী, পল্টনের সিপিবি, গোপালগঞ্জে জঙ্গিরা বোমাবাজি হয়েছে। জঙ্গিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগেরই সর্ম্পক রয়েছে, বিএনপির নয়।’’

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আওয়ামী লীগের নেতারা ওপারে পালিয়ে গিয়েছিল। আজ তারা বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক নয়। আমি বলছি, জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক, স্বাধীনতার ঘোষক।’’

প্রশাসনের লোকদের নিরপেক্ষ হওয়ার আহবান
পুলিশ ও জনপ্রশাসনকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচার হিসেবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের লোকজন দুর্নীতি করে অনেক টাকা বানিয়েছে। তারা পালিয়ে যাবে। কিন্তু আপনাদের এদেশেই থাকতে হবে। তাই কোনো দলের পক্ষে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।’’

তিনি প্রশাসনের লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘অন্যথায় আগামীতে আপনাদের জন্য সমস্যা হতে পারে। কারণ যারা দলের পক্ষে কাজ করছে, জনগণের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন, তাদের নাম-ঠিকানা আমরা সংগ্রহ করে রাখছি।’’

আগামী দিনের অঙ্গীকার
খালেদা জিয়া আগামীতে ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবো। দেউলিয়াত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করে আত্মনির্ভরশীল ও স্বনির্ভর দেশে পরিণত করব।’’

এ লক্ষ্যে দেশের জনগণকে আগামীতে কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহবান জানান তিনি।

জেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফর রহমান মিন্টুর সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, মির্জা আববাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুল রহমান পটল, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান,মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, ফজলুল হক মিলন, হারুন অর রশীদ, সাংসদ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সাবেক সাংসদ নাজিম উদ্দিন আলম, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, ছাত্র দলের সভাপতি আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, জেলা সাধারণ সম্পাদক মুকুর চৌধুরী, সাবেক সাংসদ আক্তারুজ্জামান মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১৮ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহম্মেদ, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, কর্মপরিষদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি অলি আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাপ সভাপতি জেবেল রহমান গানি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি শেখ শওকত হোসেন নিলু প্রমূখ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে আসার পর তার বড় বোন সাবেক সংসদ সদস্য খুরশিদ জাহান হকের ছবি সম্বলিত অসংখ্য রঙিন বেলুন আঁকাশে উড়িয়ে দেয়া হয়। বক্তব্যের শুরুতে খালেদা জিয়া দিনাজপুরের উন্নয়নে তার বড়বোন চকলেট আপার (খুরশিদ জাহান হক) স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জনসভা শেষে খালেদা জিয়া দিনাজপুর সার্কিট হাউজ থেকে রাত সাড়ে ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট