Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পদ্মা সেতু: ছুটিতে ‘দুর্নীতিগ্রস্তরা’

কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর: ভারতের কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে ‘দুর্নীতিগ্রস্ততের’ ছুটিতে পাঠিয়ে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংককে ফিরিয়ে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ আনন্দবাজার লিখেছে, “দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি ছেড়ে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। প্রকল্প যত দিন চলবে, তত দিন অভিযুক্ত মন্ত্রী-উপদেষ্টা-অফিসারদের ‘ছুটিতে পাঠানোর’ শর্তও দিয়েছিল। সরকার তা মেনে নেয়ায় শুক্রবার বিশ্বব্যাংক জানাল, তারা এই প্রকল্পে বিনিয়োগে তৈরি। বিদেশি ঋণ ও লগ্নি আনতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ শাসকরা যখন উদাসীন, বিশ্বব্যাংকের লগ্নি ফেরাতে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রভাবশালী মন্ত্রী-আমলাদেরও রেয়াত করলেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।”

পত্রিকাটি আরো লিখেছে, “পদ্মার উপরে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বিতল সেতুটি নির্মাণে ২৯৭ কোটি ডলার খরচ ধরা হয়েছে, যার মধ্যে ১২০ কোটি ডলার বিশ্বব্যাংকের ঋণ। কিন্তু ২৯ জুন বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করে জানায়, দুর্নীতির ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ সরকারকে দেয়া হলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, “সরকারি সূত্রের খবর, বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ করেছিল তখনকার যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা মসিউর রহমান, সেতু-সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া ও বেশ কয়েক জন অফিসারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভা রদবদলে আবুল হোসেনকে সরিয়ে নতুন যোগাযোগ মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে ওবায়দুল কাদেরকে। উপদেষ্টা মসিউর রহমানকে সরানো না হলেও সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সচিব ও দাগি অফিসারদেরও বদলি করা হয়েছে।”

আনন্দবাজার জানায়, “এরপরে প্রধানমন্ত্রীর আর এক উপদেষ্টা গওহর রিজভি একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে যান। তাদের বোঝান, সরকার দুর্নীতির অভিযুক্তদের ‘ছুটিতে পাঠিয়েছে’। এর পরেই বিশ্বব্যাংক ফের প্রকল্পে ফেরার কথা ঘোষণা করে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশে উত্তর ও দক্ষিণাংশের মধ্যে যোগাযোগ মসৃণ করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই পদ্মা সেতু। বিশ্বব্যাংক ছাড়াও এডিবি ৬১.৫ কোটি, জাইকা ৪০ কোটি এবং আইডিবি ১৪ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলারের ঋণ দেয়া থেকে পিছিয়ে যাওয়ায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ ধরে রাখার স্বার্থে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ”

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে আনন্দবাজার লিখেছে, “শাসক আওয়ামী লিগের এক নেতার কথায়, এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা মোটেই সহজ ছিল না শেখ হাসিনার। বাংলাদেশের নেত্রী সর্বস্ব পণ করে দলীয় স্বার্থের উপরে উঠে ফিরিয়ে আনলেন বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগকে। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তোলার পরে সরকার ও প্রশাসনকে বিদ্ধ করতে ছাড়েনি বিরোধী বিএনপি। এমনকি সরকারের ইস্তফাও দাবি করেছিল সরকার। তাদের কথায়, এই ঘটনায় বাংলাদেশের মুখে চুনকালি পড়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক ফিরে আসার পরে তারা কিছুটা চুপ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত অবশ্য বলেন, বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে ভাবমূর্তিও ফিরেছে বাংলাদেশের। আর তা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সিদ্ধান্তেই।”

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট