Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি, শর্তহীন আলোচনা চায় আওয়ামী লীগ

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা কেমন হবে তা নিয়ে প্রধান বিরোধী দলসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে কোন দলের শর্ত মেনে আলোচনায় বসতে নারাজ। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করেন আলোচনার টেবিল থেকেই সমাধান আসবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনা না হওয়ার পেছনে বিরোধী দলের অনিচ্ছাকেই দায়ী করছেন সরকারি দলের নেতারা। এদিকে ত্রয়োদশ সংশোধনীর চূড়ান্ত রায় প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ এসেছে এবং আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনের বিষয়ে সমাধানে পৌঁছা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। সূত্র জানায়, রায়ের পর আওয়ামী লীগের দলীয় গণ্ডিতে আলোচনা না
হলেও শিগগিরই এ নিয়ে দলীয়ভাবে আলোচনা হবে। উচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে যে সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামো নিয়ে চিন্তাভাবনাও হচ্ছে দলীয়ভাবে। এছাড়া ক্ষমতাসীন দল নির্বাচন নিয়ে তার আগের অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসেছে। প্রথমে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার চিন্তা থাকলেও পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীই সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। দলটির সূত্র জানিয়েছে, এ ধরনের একটি সরকার কাঠামো নিয়েই চিন্তাভাবনা চলছে। এ ধরনের সরকার কাঠামো নির্ধারণ হলে নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া এবং ছোট মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্ব থাকবে প্রেসিডেন্টের ওপর। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংসদ ভেঙ্গে দেয়া এবং নির্বাচনকালীন সময়ের মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে তাও প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করবেন। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন, নির্বাচনের পদ্ধতি কেমন হবে এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে কোন স্পষ্ট ধারণা এ পর্যন্ত দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতারাও একটি দিকনির্দেশনা চাইছেন। সূত্র জানায়, শিগগির দলীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এ আলোচনার মূল ভিত্তি হবে ত্রয়োদশ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায়। দলীয়ভাবে আলোচনার পরই এ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করবে ক্ষমতাসীন দল। এ বিষয়ে প্রধান বিরোধী দলসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে পারে সরকারি দল। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে প্রেসিডেন্ট যে রাজনৈতিক সংলাপ করেছিলেন এর আদলে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংলাপ করা হতে পারে। তবে এটি ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে করা হবে না প্রেসিডেন্ট উদ্যোগ নেবেন তা নির্ধারণ হবে পরিস্থিতির ওপর। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছে, যে প্রক্রিয়া বা কাঠামোতেই নির্বাচন হোক তা আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছে তা অনুসরণ করা অপরিহার্য। তবে রায়ই শেষ কথা নয়। নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার কাঠামো কেমন হবে তা আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি একেবারেই রাজনৈতিক। তাই রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান করতে হবে। আলোচনার উদ্যোগ কারা নেবে বা এর প্রক্রিয়া কেমন হবে জানতে চাইলে প্রবীণ এ নেতা বলেন, আলোচনার জন্য এর আগে প্রধানমন্ত্রীই আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন সর্বদলীয় সরকার হলে এখানে বিরোধী দল অংশ নিতে পারে। এজন্য তরা সংসদে আলোচনা করতে পারে। সংসদের বাইরেও আলোচনা হতে পারে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম  সদস্য সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ বিষয়ে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আদালতের সংক্ষিপ্ত রায় দেয়ার পর সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিরোধী দলকে বারবারই আলোচনার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা আলোচনায় সাড়া দেয়নি বা আগ্রহ দেখায়নি। সব সময়ই তারা আলোচনার জন্য শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। শর্ত দিয়েতো কোন আলোচনা হয় না। আগে শর্ত দিলে আলোচনার কোন সুযোগ নেই। একতরফা কোন আলোচনা হতে পারে না। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকেও এ বিষয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে আলোচনায় এগিয়ে আসা উচিত।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, আগামী মাসের শুরুতে এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে বৈঠক করা হতে পারে। এরপর মহাজোটের শরিকদের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনকালীন সরকার কাঠামো নির্ধারণে মহাজোটের শরিকরা আগে থেকেই আলোচনার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট