Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পরেই পদ্মায় ফেরা: বিশ্বব্যাংক

ওয়াশিংটন, ২১ সেপ্টেম্বর: পদ্মা সেতু প্রকল্পে সরকারের শীর্ষস্তরের ব্যক্তিদের দুর্নীতি তদন্তে ও ভবিষ্যতে দুর্নীতি  প্রতিরোধে বিশ্বব্যাংকের বাতলানো কমপক্ষে চারটি পূর্বশর্ত পূরণে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপ সরকার সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত করার পরই সেতু প্রকল্পটিতে নতুন করে ‘সম্পৃক্ত’ হবে ব্যাংকটি। আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনস্থ প্রধান দফতর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় বিশ্বব্যাংক।

 

নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘ব্যাংক এতে রাজি হয়েছে যে, সরকারের দ্বারা সম্মত পদক্ষেপগুলোর সন্তোষজনক বাস্তবায়ন হলে, ব্যাংকের পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সমর্থনসহ পদ্মা বহুমুখী সেতুতে আবার নতুন করে সম্পৃক্ত হবে ব্যাংক।’’

 

বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পদ্মা সেতু তৈরিতে গত বছরের প্রথম দিকে বিশ্বব্যাংক, এডিবি (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক), আইডিবি (ইসলামি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) ও জাইকা’র (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) সঙ্গে ঋণচুক্তি করে সরকার। ২৯১ কোটি ডলারে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণের নকশা ও জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়।

 

কিন্তু প্রকল্পটিতে সরকারের শীর্ষস্তরের ব্যক্তিদের দুর্নীতির ষড়যন্ত্র তদন্তে বাংলাদেশ সরকার যথেষ্ট সহযোগিতা করছে না জানিয়ে গত জুনে প্রকল্পটিতে নিজেদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে প্রধান অর্থায়নকারী বিশ্বব্যাংক। দুর্নীতি তদন্তে বিশ্ব ব্যাংকের বাতলানো পথে ফিরে প্রতিষ্ঠানটিকে রাজি করাতে আড়াই মাস সময় নেয় সরকার।

 

অবশেষে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন থেকে ফিরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ইঙ্গিত দেন যে বিশ্বব্যাংক শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। রাতে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “আশা করি, কালকের মধ্যেই আপনারা সুখবর পাবেন।” কিন্তু বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে এমন কোনো সুখবর মেলেনি বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে। সদর দফতর থেকে ইংরেজিতে দেয়া বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক জানায় যে সরকারের শুরু করা তদন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে, নিরপেক্ষতার সাথে ও দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা এবং ভবিষ্যতে দুর্নীতি প্রতিরোধে নতুন ক্রয় প্রক্রিয়া প্রণয়ন হলেই প্রকল্পে নতুন করে সম্পৃক্ত হবে তারা।

 

বিশ্বব্যাংকের পুরো বিবৃতি

বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত বিবৃতিটি’র বাংলা অনুবাদ নীচে তুলে দেয়া হলো:

 

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’র ১২০ কোটি ডলারের ঋণ ২০১২’র ২৯ জুন বাতিলের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক। সেতুতে আমাদের অর্থায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির নির্ভরযোগ্য প্রমাণের আগে বাংলাদেশ সরকারকে দিয়েছিল ব্যাংকের তদন্ত সংস্থা, এবং প্রকল্পে ব্যাংকের সম্পৃক্ত থাকতে হলে বাংলাদেশ সরকারের দ্বারা বাস্তবায়িত হতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ চিহ্নিত করেছিল ব্যাংক, যেগুলো পূরণ করতে বাংলাদেশ সরকার ব্যর্থ হয়েছিল। এসব পদক্ষেপ ছিল: ক. তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্নীতি সংশ্লিষ্টতায় সন্দেহভাজন প্রজাতন্ত্রের সব কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি থেকে ছুটিতে পাঠানো; খ. তদন্ত চালাতে বাংলাদেশি দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি বিশেষ অনুসন্ধান ও প্রসিকিউশন দল নিয়োগ করা; গ. আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সব তথ্য পূর্ণাঙ্গভাবে দেখতে দেয়া- যাতে তারা তদন্তের অগ্রগতি, পর্যাপ্ততা ও নিরপেক্ষতা বিষয়ে ব্যাংক ও সহযোগী অর্থায়নকারীদের জানাতে পারে এবং ঘ. প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যাংক ও সহযোগী অর্থায়নকারীদের বাড়তি নজরদারির সুযোগ দেয় এমন নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়নে রাজি হওয়া।

 

আমাদের ঋণ বাতিলের পর উপরোক্ত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে দরকারি উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ব্যাংক যেসব দুর্নীতির প্রমাণ শনাক্ত করেছিল, সে বিষয়ে এখন বাংলাদেশ সরকার পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। বিশ্বব্যাংক জানতে পেরেছে যে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিমূলক কাজে জড়িত বলে অভিযুক্ত সরকারি লোক ও কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি থেকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে।

 

এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগে বাংলাদেশ সরকার অনুরোধ করেছে বিশ্বব্যাংক যাতে  পদ্মা বহুমুখী সেতুতে অর্থায়ন করার বিষয়টি আবারো বিবেচনা করে। নতুন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিতে সরকার রাজি হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্তভাবে সেতু নির্মাণ নিশ্চিত করতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থাসহ নতুন ক্রয় প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা করা, পূর্ণাঙ্গভাবে, নিরপেক্ষতা ও দ্রুততার সাথে তদন্তে এগিয়ে যাবে এবং সরকারি তদন্ত খতিয়ে দেখতে ও তাদের তদন্তের ফল সরকার ও বিশ্বব্যাংককে জানাতে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক প্যানেল থাকবে।

 

‘‘ব্যাংক এতে রাজি হয়েছে যে, সরকারের দ্বারা সম্মত পদক্ষেপগুলোর সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়ন হলে ব্যাংকের পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সমর্থনসহ পদ্মা বহুমুখী সেতুতে আবার নতুন করে সম্পৃক্ত হবে ব্যাংক।’’

 

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির যেকোনো নিশানার প্রতি বিশ্বব্যাংক অতন্দ্র পাহারায় আছে এবং যেকোনো মন্দ কাজের বিরুদ্ধে কঠোর পথ বেছে নিতে আমাদের দৃঢ়সংকল্প কখনো টলবে না।

 

যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় তবে বাংলাদেশের যেই জনগণ তাদের টাকার স্বচ্ছ ব্যবহার, প্রকল্পটির দুর্নীতিমুক্ত বাস্তবায়ন ও আগামী বছরগুলোতে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের দ্রুত বৃদ্ধির দাবি রাখে সেই জনগণকে উল্লেখযোগ্য সুফল এনে দেবার সম্ভাবনা ধারণ করে পদ্মা সেতু।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট