Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

টি-২০ বিশ্বকাপে জাদুকরি সব মুহূর্ত

 টি-২০ খেলা মানেই ক্রিকেট বিনোদনের পসরা। আর এ বিনোদন থেকে ক্রীড়ামোদী দর্শকদের বঞ্চিত রাখেনি এই ধারার তিনটি বিশ্বকাপও। কখনও রুদ্ধশ্বাস চার-ছক্কা, আবার কখনও ব্যাটসম্যানের বুড়ো আঙুল মাড়ানো বিষময় ইয়র্কারে সরব দর্শক চোখ ভরেই গিলেছেন টি-২০ ক্রিকেট। এখানে তিন বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর ফ্ল্যাশব্যাক ধরা হলো মানবজমিন পাঠকের সামনে
আশরাফুলের রেকর্ড, ক্যারিবীয়দের হার (২০০৭) : মোহাম্মদ আশরাফুল তার ব্যাটের ধার দেখান এ বিশ্বকাপে। ২০ বলে অর্ধশতক তুলে নিয়ে আশরাফুল ভেঙে দেন লঙ্কান ব্যাটসম্যান জয়সুরিয়ার ২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডটি। আর এতে ১৬৫ রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ পায় স্মরণীয় এক জয়। ড্যারেন পাওয়েলের এক ওভারে টানা চার বাউন্ডারিতে এদিন চমকের শুরুটা করেন আশরাফুল। অবশ্য একই বিশ্বকাপে ১২ বলে অর্ধশতক তুলে যুবরাজ ভেঙে দেন আশরাফুলের রেকর্ডটি।
৬ বলে যুবরাজের ৬ ছক্কা (২০০৭) : এ স্মৃতি নিশ্চয়ই ভুলে যেতে চাইবেন ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল ১৭১/৩। ভারত ততক্ষণে সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে ইনিংসের শুরুতে সেওয়াগ ও গম্ভীরের ব্যাটিং ছন্দে। কিন্তু ম্যাচ শেষে দিনটি হয়ে আছে শুধুই যুবরাজের। ভারত ইনিংসের ১৯তম ওভারে প্রতিপক্ষ বল হাতে ব্রড সামনাসামনি যুবরাজের। প্রথম বলে দারুণ টাইমিংয়ে যুবরাজ হাঁকান ছক্কা। এর পর ওভারের প্রতি বলেই ব্যতিক্রম দেখাতে চান ব্রড। আর যুবরাজের সুইট-টাইমিংয়ে প্রতিবারই দড়ির বাইরে উড়ে আছড়ে পড়েন ব্রড। এদিন শেষ পর্যন্ত ১২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন বাঁ-হাতি স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান যুবরাজ। যে কোন ধরনের ক্রিকেটে এটি দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড। টি-২০ এর প্রথম ওই বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত শিরোপা নিজ দেশে উড়িয়ে নেয় ভারতীয়রাই।
বিশ্বকাপে একমাত্র ‘বোল আউট’ (২০০৭) : ম্যাচের টাই ভাঙতে বিচিত্র এ নিয়মের ক্রিকেট খেলা দর্শক দেখতে পায় প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে। আর এ ক্রিকেট নাটকটিও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বড় মঞ্চে। গ্রুপের ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে এ দিন ভারতের সংগ্রহ ছিল ১৪১/৯। ম্যাচের তিন ওভার বাকি থাকতে পাকিস্তানকে ১০৩ রানে বেঁধে রেখে অনেকটাই ফেভারিট ভারত। কিন্তু পাক ব্যাটসম্যান মিসবাহ উল হক ও ইয়াসির আরাফাত শেষ ১৭ বলে ৩৮ রান তুলে নিলে সমান হয়ে পড়ে দু’দলের  রান। আর টাই ভাঙতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে বোল আউট দেখে দর্শক। উন্মুক্ত স্ট্যাম্পে বল ছুড়ে খেলা হচ্ছিল এ বোল আউট। এতে ভারতের সেওয়াগ, হরভজন ও রবিন উথাপ্পা স্ট্যাম্প ভাঙতে পারলেও ব্যর্থ হন ভারতের ইয়াসির, আফ্রিদি ও উমর গুল। ভারত বোল আউটে জয় পায় ফুটবলের মতো ৩-০ ব্যবধানে।
জিম্বাবুয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হার (২০০৭) : দিনটি আলাদাভাবে স্মরণীয় জিম্বাবুয়ে ভক্তদের কাছে। এ দিনের পুরো স্মৃতিটাই জিম্বাবুয়ের সাফল্যের। বল হাতে শুরুতে জিম্বাবুয়ে পেসাররা ১৯/৩ স্কোরে শাসনে রাখেন অসিদের। প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তিন দাপুটে অসি ব্যাটসম্যান ম্যাথিউ হেইডেন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও রিকি পন্টিংকে। আর ম্যাচের শেষে অস্ট্রেলিয়ার ১৩৯ রানের টার্গেট পার করে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানরা। অসি পেসার নাথান ব্রেকেনের শেষ ওভারে ১২ প্রয়োজন ছিল জিম্বাবুয়ের। লেগ বাই থেকে অতিরিক্ত ৪ রান আদায়ে জয় শেষ। এক বল অব্যবহৃতই রাখে জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানরা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হল্যান্ডের জয় (২০০৯) : লর্ডসের গৌরবময় মাঠে আসরের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু কে ভেবেছিল দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে এ দিন ইংলিশদের হার অপেক্ষা করছে। আগে ব্যাট করে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ১৬২/৫। আর শেষ ওভারে রায়ান টেন ডেসকাটে ও শিফারলি জুটি ব্যতিক্রমী ব্যাটিংয়ে হল্যান্ডকে এনে দেন দারুণ জয়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য হল্যান্ডের প্রয়োজন হয় ৭ রানের। স্টুয়ার্ট ব্রডের প্রথম পাঁচ বলে দেখেশুনে পাঁচটি সিঙ্গেলস নিলেন ডেসকাটে-শিফারলি। শেষ বলে দুই রানের দরকারে চোখ বুঁজে ব্যাট চালালেন শিফারলি। প্রান্ত বদল করলেন ব্যাটসম্যানরা। নিজেই ফিল্ডিংয়ে বল কুড়িয়ে স্ট্যাম্প ভাঙতে গেলেন ব্রড। স্ট্যাম্প ভাঙলো না। কাজের কাজ হলো ওভার থ্রো থেকে হল্যান্ড স্কোরবোর্ডে জমা করে জয়সূচক রানটি!
আজমলের হতাশায় মাইক হাসি (২০১০): ওয়েস্ট ইন্ডিজে সেবারের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হতাশার এ চিত্র পাকিস্তানের। ১৪৫ রান তাড়া করতে গিয়ে এক সময় জয়ের জন্য ১৭ বলে ৪৮ রানের দরকার হয় অস্ট্রেলিয়ার। আর ততক্ষণে নিজ দলকে ফাইনালে দেখতে পাচ্ছিলেন পাকিস্তান ভক্তরা। কিন্তু ক্রিজে অস্ট্রেলিয়ার দুই ব্যাটসম্যান মাইক হাসি ও মিশেল জনসন পরপর দুই ওভারে তুলে নিলেন ১৮ ও ১৬ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে সাঈদ আজমলের বিপক্ষে তখন অস্ট্রেলিয়ার জয়ে দরকার ১৮ রান। তিন ছক্কা ও এক চারে তাই তুলে দেখালেন মাইক হাসি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট