Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

যাত্রীদের রোষানলে পালিয়ে গেলেন বিমানের কর্মকর্তারা

 ক্ষুব্ধ যাত্রীদের রোষানলের মুখে পালিয়ে গেলেন বিমানের কর্মচারী ও কর্মকর্তারা। গতকাল বিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৬ নম্বর গেটে এ ঘটনা ঘটেছে। বিমান ও পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিকাল ৩টার পর থেকেই শ’ শ’ যাত্রী বিমানের সেলস কাউন্টারের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ফ্লাইটের নিশ্চয়তা না পেয়ে কাউন্টারের গ্লাস ভাঙচুর করেন। চেয়ার ছুড়ে মারেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দিকে। এতে সেলস কাউন্টার, বোর্ডিং কার্ড শাখা ও লাগেজ চেকিং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে রিয়াদের একটি ফ্লাইটে ৪৬ জন যাত্রীকে উঠিয়ে দেয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। বাকি যাত্রীদের বিভিন্ন হোটেল ও মেসে নিয়ে রাখা হয়েছে। এদিকে গত চারদিন ধরে ফ্লাইটের অপেক্ষায় বসে রয়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী। ইতিমধ্যে এদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এদের একজন নোয়াখালী জেলার ছাকায়েতুল্লাহ। তিনি বলেন, আজ রাতেই  ভিসার মেয়াদ শেষ হবে। সময়মতো যেতে না পারলে চাকরি চলে যাবে। গুনতে হবে জরিমানা। ফিরতে হবে খালি হাতে। স্যার, আমার জন্য কিছু একটা করেন। সামনে যাকে পাচ্ছিলেন তাকে ধরেই এমন আকুতি করছিলেন তিনি। বলেন, ১৫ই সেপ্টেম্বর ২টা ৫০ মিনিটে রিয়াদে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। ওই ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর গতকাল পর্যন্ত জানতে পারেননি কখন তিনি বিমানে চড়তে পারবেন। অথচ আজকের মধ্যেই তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। একই ভাবে নানা আশঙ্কা মাথায় নিয়ে গত ৪ দিন ধরে বিমানের অপেক্ষায় রয়েছেন হাসান আলী। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার শ্যামগ্রামে। গত ১৬ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার মালয়েশিয়া রওনা হওয়ার কথা ছিল। ওই ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর তিনি এখন উত্তরা স্কাইলিঙ্ক নামে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে আছে আরও ২৭ জন। এরা হলেন কাপাসিয়ার জাকির হোসেন, নারায়ণগঞ্জের আমির আলী, নরসিংদী জেলার শাহিন মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ফোরকান, কুমিল্লা জেলার সোহেল, আবুল মিয়া, আলী হানিফ, টাঙ্গাইলের মনির হোসেন, কুষ্টিয়ার কামরুজ্জামান, ফরিদপুরের আমির হোসেন, চুয়াডাঙ্গার লিটন ও  জামালপুরের সাইফুল ইসলাম। আমির হোসেন বলেন, গত ১৪ই সেপ্টেম্বর বিজি-০৮২৬ ফ্লাইটে মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই ফ্লাইট  বাতিল হওয়ার পর এখনও বিমানের নিশ্চয়তা মেলেনি। কামরুজ্জামান বলেন, আমি মালয়েশিয়ার লিঙ্কন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে বিমান বন্দরে অপেক্ষা করেই। ১৬ই সেপ্টেম্বর যেতে না পারার কারণে এখন জরিমানা গুনতে হবে। ওদিকে উত্তরা ইন ও অ্যারোলিঙ্কসহ প্রায় ১৭টি আবাসিক হোটেল ও মেসে রাখা হয়েছে শ’ শ’ যাত্রীকে। তাদের প্রত্যেকেরই ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাত্রী রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া ও ফ্রান্সের। সময়মতো যেতে না পারলে অন্ততপক্ষে ২০-২৫ জনের চাকরি চলে যাবে। বিমানের এমন ফ্লাইট বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বিমানের  পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ। তিনি বলেন, বিমানের ফ্লাইট সূচির বিপর্যয়ে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। অনাকাঙিক্ষত দুর্ভোগের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। তার মতে, গত ২-৩ দিন ধরে বিমানের ফ্লাইট বিপর্যয় শুরু হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছে তিন কারণ। যাত্রীর ওভার ফ্লো (বাড়তি যাত্রী) সীমিত এয়ার ক্রাফট ও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তিভিত্তিক জাহাজ ভেগে যাওয়ার ঘটনায় বিমানের সেবা ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, আশা করছি আগামী ৫ দিনের মধ্যেই সেবায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। ইতিমধ্যে কুয়ালালামপুর, রিয়াদ ও মাসকটসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় এক হাজার যাত্রীকে বিকল্প ফ্লাইটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে।  বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ চলছে। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ফ্লাইটের দাবিতে রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত-ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। গত দু’দিন ধরে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন দুবাইগামী আলাউদ্দিন ও তার পরিবার। এক পর্যায়ে গতকাল বিকালে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজেই যাত্রা বাতিল করে বিমানবন্দর ছেড়ে বাড়িতে চলে গেলেন। যাওয়ার আগে বলে গেলেন, বিমানের হয়রানির কথা চিন্তা করেই এক সপ্তাহ সময় হাতে নিয়ে টিকিট কেটেছিলাম। দুই দিন স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু ছেলে-মেয়েরা অসুস্থ হওয়ায় কেরানীগঞ্জের বাড়িতে চলে যাচ্ছি। তার স্ত্রী নূর জাহান বলেন, রোববার রাত ১টায় তার ফ্লাইট ছিল। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ফ্লাইটের খবর জানাতে পারেনি বিমান।  বিমান সূত্রমতে, গতকালও বিমানের ৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সকাল ৬টা, সকাল ৮টা, হংকংগামী দুপুর ১টা ৫০ মিনিট, ব্যাংককগামী বিকাল ৪টা, দুবাইগামী বিকাল ৫টা ও মালয়েশিয়াগামী রাত ৮টার ফ্লাইট বাতিলা করা হয়। এছাড়া আগের বাতিল করা ফ্লাইটের প্রায় চার হাজার যাত্রীর চাপের কারণেই নির্ধারিত ফ্লাইটের সময়সূচির বিপর্যয় ঘটেছে।
বিমান নিয়ে সংসদে ক্ষোভ
সংসদ রিপোর্টার জানান, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শিডিউল বিপর্যয় এবং বিমানের পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) জামাল উদ্দিন আহমেদের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একমাত্র স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল আজিম ও জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু। ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানকে রক্ষায় অবিলম্বে বিমান চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং এ ব্যাপারে সংসদে বিমানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছেন তারা। গতকাল মাগরিবের বিরতির পর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তারা এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় সভাপতির আসনে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী। মোহাম্মদ ফজলুল আজিম বলেন, বাংলাদেশ বিমানের আজ বেহাল অবস্থা। হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান দিয়েই যাচ্ছে, চরম অব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন রুটে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীদের রেখে বিমান ভেগে যাচ্ছে। বিমানের পরিচালনা বোর্ড ঠিক মতো কাজ করছে না। পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সুপার পাওয়ার। মন্ত্রী আসেন- মন্ত্রী যান। কিন্তু ওই সুপার পাওয়ারের কিছু করতে পারেন না। এই একজন মাত্র ব্যক্তিকে বিমান থেকে কেউ সরাতে পারেননি। এই ব্যক্তি গত কয়েক বছরে সার্বিকভাবে বিমানকে বিধ্বস্ত করে ফেলেছেন। তিনি বলেন, এবার হজযাত্রীদের পারাপার সমপূর্ণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ১ লাখ হজযাত্রী এবার হজে যাবেন। কিন্তু বিমানের ব্যবস্থা নেই। যাদের কারণে এই অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারের ভাল দক্ষতা আছে। সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কয়েকজন মন্ত্রীও ভাল কাজ করছেন। কিন্তু কিছু সেক্টরে কতিপয় ব্যক্তি বা ব্যক্তিবিশেষের কারণে আজ দেশের এই নাজুক অবস্থা। তিনি বলেন, হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির কারণে শেয়ারবাজারে কেলেঙ্কারি হলো। তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হলো না। সরকারের কিছু কিছু লোক তাদের আস্কারা দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ কারণে হলমার্কের মতো আবার আরেকটা ঘটনা ঘটল। এ ঘটনার প্রায় ১ মাস হতে চললো। কিন্তু আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। অনুরূপভাবে গুটি কয়েক ব্যক্তির কারণে পদ্মা সেতু আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ফজলুল আজিম আরও বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী বিদেশ ঘুুরছেন। আজও তিনি অধিবেশনে উপস্থিত নেই। জানি না এসব ব্যাপারে উনি কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমাদের অর্থমন্ত্রী বলেন, ৪ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি কিছুই না। যেখানে ব্যাংক সেক্টরে ৪০ হাজার কোটি টাকা আছে। ব্যক্তি বিশেষের কারণে বুয়েট এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা আনার জন্য তিনি সরকারের বিশেষ ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্যক্তি বিশেষের জন্য সরকারের প্রাণ কাঁদবে কেন? ১৫ কোটি মানুষের দেশে তারা কারা? আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি- তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। বিমানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন। এ সময় জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু একই বিষয়ের অবতারণা করে বিমানের দুর্নীতি নিয়ে বিমানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে বলেন, রোববার রাতে আমি বিমান বন্দরে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখলাম, বিমানের কোন শিডিউল ঠিক নেই। অনেকেই ছোট ছোট ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বসে আছেন, কান্না-কাটি করছে। সামগ্রিকভাবে বিমান আজ একটি অকর্মণ্য, বিপর্যস্ত ও অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বিমান পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান রয়েছেন, যার কারণে কয়েক বছর ধরে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এতো কিছুর পরও কেন ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? এ বিষয়ে আমি বিমানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট