Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করে বিএনপি: খালেদা

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর: বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘‘ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়,  দেশের জনগণের জন্য রাজনীতি করে বিএনপি। আমরা দেশ এবং জনগণকে রক্ষার জন্য আন্দোলনের সঠিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। এ কর্মসূচি আমরা চালিয়ে যাবো। এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করে দেশপ্রেমিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবো।’’

শনিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক ও লেখকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘দেশের মানুষ ভালো নেই। বিএনপি যেমন বিরোধী দল হিসেবে নির্যাতিত হচ্ছে, সরকারের সমালোচনা করায় সাংবাদিকরাও নির্যাতিত হচ্ছেন। ১৬ জন সাংবাদিককে ইতিমধ্যে হত্যা করা হয়েছে।’’

বর্তমান সরকারকে দলীয় সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘‘ সরকার প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সকল ক্ষেত্রে দলীয়করণ করেছে। প্রশাসনে অনেক ভালো ভালো লোক বিএনপি না করলেও আওয়ামী লীগ  না করার কারণে তারা পদন্নোতি পাচ্ছেন না। আবার অনেককে ওএসডি করে রাখা হয়। এটা হলো তাদের চরিত্র।’’

তিনি বলেন, ‘‘ বিএনপি একটি উন্নয়নমুখী দল। এ দলটি দেশের মানুষের জন্য কাজ করে । এ কারণেই বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে শুধু আওয়া মীলীগ নয়, আরো অনেকের সমস্যা হয়। তাই তারা বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।’’

তিনি বলেন, ‘‘ ১/১১ র অবৈধ সরকারের বিরদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেয়নি মইন-ফখরুদ্দিন। এমনকি বিএনপি যাতে বিরোধী দলে থাকতে না পারে সে ষড়যন্ত্রও করে তারা। সে সময় মিথ্যা মামলায় আটকের  পর জেল মুক্তি দেয়ার জন্য অনেক প্রস্তাব দিলেও আমি তা গ্রহণ করিনি। আমি তাদের বলেছি তোমরা দেশকে বিক্রি করে ফেলবে এটা হবে না। আমার চিকিৎসা লাগলে দেশে করবো তবুও বিদেশে যাবো না। অন্যদিকে আরেকজন নেত্রী চোখ আর কানের সমস্যার কথা বলে বিদেশ চলে গেলেন। পাশাপাশি তাদের সকল কাজের বৈধতা দেয়ার কথা বলে পাতানো নির্বাচনে জয়ী হলেন।’’

খালেদা বলেন, ‘‘দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা বিএনপি ও তারেক রহমানের বিরদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার ইমেজ নষ্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা সফল হয়নি। বিএনপি সরকারের উন্নয়নের কারণে ২০০৭ সালে নির্বাচন হলে আবারো বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এই ভেবে আওয়ামী লীগ সে নির্বাচন বানচাল করে।’’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘বিশ্বের অনেক দেশ আছে যারা বাংলাদেশকে সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু মুসলমান অধ্যুষিত এ দেশটি যাতে উন্নত হতে না পারে সেজন্য এসব দেশ ষড়যন্ত্র করে আসছে। ’’

আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার সস্তা স্লোগান দিচ্ছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা সংবিধানে  আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থার কথা বলেছি, আবার সকল ধর্মের লোকদের স্বাধীনতার কথাও বলেছি। বাঙালি বলে পার্বত্য অঞ্চলে সমস্যার সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ। আর জিয়াউর রহমান সবাইকে বাংলাদেশি বলে সে সমস্যার সমাধান করেছেন।” যারা অন্যের সহযোগিতায় ক্ষমতায় আসতে চায় তারাই দেশের মধ্যে এসব সমস্যার সৃষ্টি করে বলেও মন্তব্য করেন খালেদা।

সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আচারণের কারণে বিএনপিকে প্রেস ক্লাব, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল সমাবেশ করতে হয় বলেও জানান তিনি। কারণ সরকার আর কোথাও সমাবেশ করতে দেয় না।

সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন দাবি করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন,‘‘ সরকারের এখন ভয় হলো জনগণ। বিএনপি সবাইকে নিয়ে দেশ রক্ষার আন্দোলন করতে চায় আর এ আন্দোলনের মাধ্যমেই এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। ’’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘‘ মিথ্যা মামলার ভয় দেখানোর কারণে সরকারের দুর্নীতি নিয়ে কেউ কথা বলতে সাহস করে না। তবে আমি দেশের বড় বড় দুর্নীতিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের লোকেরা জড়িত বলার পর প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ফেলছেন। এখন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারও ছোট হয়ে গেছে। দুর্নীতি নিয়ে কথা বললে সরকারের বাধার ভয় থাকলেও একটা সময় আসবে যখন তাদের বাধা দেয়ার ক্ষমতা থাকবে না। আর জনগণও তা মানবে না।”

মন্ত্রিসভায় নতুন মুখে সরকারের রক্ষা হবে না
খালেদা বলেন, ‘‘মন্ত্রিসভায় যতই নতুন মুখ আনা হোক না কেন কোনো কাজ হবে না। এতে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। কাল যারা মন্ত্রী হয়েছেন এদের পরিচয় কি? এরা জীবনে কোনো দিন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারেননি। তাই সুযোগ পেয়ে ভাঙা ফুটো নৌকায় উঠেছেন। এতে ভাঙা নৌকা তাড়াতাড়ি ডুবতে সুবিধা হবে। এ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সবাই কম বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ। আর তোফায়েল ও মেননরা দীর্ঘদিন রাজনীতি করে বুঝেছেন সরকারের সময় শেষ। তাই তারা মন্ত্রিসভায় যোগ দেননি। তারা মানুষের পালস বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের খুব কাছের মানুষ হওয়ার পরও বিশ্বব্যাংকের চাপে আবুল হোসেনকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। হলমার্ক, শেয়ারবাজার, ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের জামাই কানাডায় দুর্নীতি করে পালিয়ে এসে এখন দেশে ভিওআইপি ব্যবসা করছেন।’’

ক্রেন দিয়ে সরকারকে তুলে উঠানো যাবে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘এ সরকার আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না, কারণ দেশের জনগণ সরকারের অবস্থা জেনে গেছে। ’’

বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই
বিএনপির মতো একটি বৃহৎ দলে কোনো কোন্দল নেই দাবি করে খালেদা বলেন, ‘‘জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিএনপিতে কোন্দল আছে বলে প্রচারণা চালাচ্ছে।” এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্দলীয় সরকার ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না এমন হুশিয়ারি দিয়ে খালেদা বলেন, ‘‘কোনো দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।’’

বিএনপি নয়, জঙ্গির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক
খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘বিএনপি কোনো জঙ্গি বা গোড়া দল নয়। এখানে সকল ধর্মের লোক আছে। তারেক রহমানের জঙ্গির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং এদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক। এর প্রমাণ তাদের আমলে উদীচী, পল্টন, রমনায় বোমা হামলা হয়। জেএমবি নেতা শায়খ আবুদর রহমান আওয়ামী লীগের নেতা মির্জা আজমের বোনজামাই।

তিনি বলেন, ‘‘ বিএনপি শুধু জঙ্গিদের গ্রেফতার করে নি, তাদের বিচারও করেছে।”  মুসলিম দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এটা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুস্থ হলেই রাজনীতিতে ফিরবেন তারেক
খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের সন্তন। বাবার আদর্শ ধারণ করে তিনি কাজ করায় দেশব্যাপী তার জনপ্রিয়তার কারণে দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা বলে তাকে নির্যাতন করা হয়। চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকলেও তিনি দলে নির্বাচিত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। তাই টাকা দিয়ে বা জঙ্গিদের সহায়তায় ক্ষমতায় আসার কোনো দরকার নেই। সুস্থ হয়ে আসলে তিনি অবশ্যই রাজনীতিতে ফিরে জনগণের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় আসবেন।”

তিনি বলেন, “যারা বিদেশে খরচের জন্য দেশ থেকে ডলার পাচার করছে, বিদেশে বিয়ে করছে, মদ খেয়ে অস্ত্রসহ আটক হচ্ছে তারেক রহমান তাদের মতো নয়। তিনি দেশের মাটি ও মানুষের জন্য রাজনীতি করেন।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘গুম, হত্যা আর দুর্নীতি এখন সরকারের নীতিতে পরিণত হয়েছে। তাই এ সরকারের বিরুদ্ধে যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন করলেও এক সময় সবাইকে এক প্লাটফর্মে এসে আন্দোলন করে সরকারকে নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা হবে। আর এদের একঘরে করে দিয়ে এমনভাবে বিদায় করতে হবে যাতে সহসা ক্ষমতায় আসতে না পারে।’’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট


One Response to ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করে বিএনপি: খালেদা

  1. rokonuzzaman

    September 17, 2012 at 11:03 am

    Tai naki.