Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

এরশাদের কঠোর সমালোচনায় রওশন

পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম রওশন এরশাদ। এরশাদকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কারও পকেট ভারি দেখে নমিনেশন দেয়া চলবে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিনিধি সভায় অনেককে কেবল টাকার বিনিময়ে ডাকা হয়েছে। এ ধরনের মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। তার আশঙ্কা- আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নিয়ে নানা খেলা হতে পারে। গত নির্বাচনে তিনি নিজে মনোনয়ন খেলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছেন। গতকাল রাজধানীর গুলশানস্থ ইমানুয়েলস সেন্টারে নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত পার্টির তৃণমূল নেতাদের বিশেষ প্রতিনিধি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে দলের পক্ষ থেকে যেসব প্রার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে তারা সে অর্থ সঠিকভাবে পায়নি। প্রথমে যাদের প্রার্থী করার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল শেষ পর্যন্ত তাদের প্রার্থী করা হয়নি। বিশেষ কারণে, প্রার্থীর তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে। পরীক্ষিতদের প্রার্থী না করে হঠাৎ করে দলে আসাদের প্রার্থী করে দলের ক্ষতি করা হয়েছে। হতাশা সৃষ্টি করা হয়েছে পার্টির নেতা-কর্মীদের মধ্যে। রওশন এরশাদ আরও বলেন, আমরা এককভাবে নির্বাচন করবো নাকি জোটগতভাবে করবো তা আগে চূড়ান্ত করতে হবে। দলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের দলীয় মনোনয়ন দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন রওশন এরশাদ। দলের বেশ কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সভায় উপস্থিত সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা মানবজমিনকে এ তথ্য জানান। তারা জানান, বেগম রওশন এরশাদের বক্তব্যের জবাবে এরশাদ বলেছেন, আর কোন মনোনয়ন খেলা নয়। আজ যারা এখানে উপস্থিত তারাই হবেন আগামী নির্বাচনে নিজ নিজ এলাকার সম্ভাব্য প্রার্থী। আরও  দু’দফায় সারা দেশ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের ঢাকায় ডাকা হবে তারাও নিজ নিজ এলাকায় প্রার্থী হবেন। এ সময় তিনি কাজী জাফর আহমেদকে জড়িয়ে ধরে কুমিল্লার একটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। ১১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও আর কারও নাম ঘোষণা করেননি।
পার্টি সূত্র জানায়, গতকাল ১১০টি সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে এনে  নির্বাচনের জন্য মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন  এরশাদ। সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সভা শেষে পার্টির নেতারা জানান- এরশাদ বলেছেন ২৫ বছরে মানুষ প্রতিহিংসা, সংঘাত আর ধ্বংসের রাজনীতি দেখেছে। মানুষের জীবন আজ নিরাপত্তাহীন। প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি হত্যা, খুন আর অস্বাভাবিক মৃত্যু। ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর টেন্ডারবাজিতে দেশ অস্থির। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে জঙ্গিবাদের উত্থানের কথা মানুষ ভুলে যায়নি। বিডিআর বিদ্রোহ, শেয়ার কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, দ্রব্যমূল্যের অগ্নিমূর্তি, অর্থনৈতিক বিপর্যয় আর শ্রমবাজার ধ্বংসের ঘটনায় সামনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপর্যয় নেমে আসবে। জাতীয় পার্টির আমলের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে এরশাদের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তিনি বলেন, আমরা ৯ বছর একাধারে ক্ষমতায় ছিলাম। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সমান সুযোগ পেলে আমরাই সরকার গঠন করতাম। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের প্রস্তাব পেয়েছিলাম। তাহলে আমরা তৃতীয় শক্তি হবো কেন? এখন থেকে বলবো আমরা প্রথম শক্তি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে আমরা প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা কায়েম করবো। নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার করবো। উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য চূড়ান্ত প্রার্থী। মাঠে গিয়ে কাজ শুরু করে দাও। নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন হতে পারে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করো। ৬ মাস পর তোমাদের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে। এরশাদ তার বক্তব্যে বলেন, আগামী নির্বাচনে জাপা এককভাবে অংশ নেবে এতে কোন সন্দেহ নেই। আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে কোন সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিএনপি চাইবে না আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় যাক। আর আওয়ামী লীগও চায় না বিএনপি ক্ষমতায় আসুক। এরশাদ বলেন, আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই। আজ যাদেরকে ডাকা হয়েছে আগামী তিন মাসের মধ্যে স্ব স্ব এলাকায় গিয়ে বড় ধরনের জনসভা করে শক্তি প্রদর্শন করতে হবে। এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টিকে সাধারণ মানুষই ক্ষমতায় বসাতে চায়। কারণ মানুষ আর দু’দলের প্রতিহিংসার রাজনীতি চায় না। দেশের মানুষ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ থেকে বাঁচার জন্যই মানুষ আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনতে চায়। আমাদের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আজ যাদেরকে ডাকা হয়েছে তাদের মধ্যে কমপক্ষে ৮০ জন এমপি হয়ে আসার যোগ্যতা রাখেন। নেতাদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, সামনে যে সুযোগ এসেছে তা আপনারা আনেননি। জনগণ এনেছে। আমরা জনগণের কথা বলি। এ কারণে মিডিয়া আমাদের পক্ষে এসেছে। জাতীয় পার্টির পালে হাওয়া লেগেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’৯০-পরবর্তী সময়ের যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ঠ। তারা এখন মুক্তি চায়। আমরাই পারি মানুষকে মুক্তি এনে দিতে। এরশাদ ও রওশন ছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার।
প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাজী জাফর আহমদ, গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি, এম এ সাত্তার, ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী এমপি, এম এ হান্নান, গোলাম হাবিব দুলাল, আলহাজ করিম উদ্দিন ভরসা, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, ব্রি. জেনারেল (অব.) কাজী মাহমুদ হাসান, গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল, মোস্তফা জামাল হায়দার, ফকির আশরাফ, কাজী ফিরোজ রশীদ, এস এম এম আলম, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, আহসান হাবীব লিংকন, শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এডভোকেট, আলহাজ আতিকুর রহমান আতিক, গোলাম মসিহ, এইচ এম গোলাম রেজা এমপি, ফখরুল ইমাম, সোলায়মান আলম শেঠ, নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি, এডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, আলহাজ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, সুনীল শুভরায়, এস এম ফয়সল চিশতী প্রমুখ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট