Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

পরিচালনা পর্ষদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন হুমায়ুন কবীর

সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন হুমায়ুন কবীর। নিজেকে পুরোপুরি নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে তিনি জড়িত নন বরং হলমার্কের টাকা উদ্ধার করতে তিনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, চিঠিও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের কারও কারও কারণে তাকে চেপে যেতে হয়েছিল। সূত্রমতে, দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে ওই সব কথা বলেছেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবীর। সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখা থেকে হলমার্ক গ্রুপের ২৬৮৬ কোটি টাকাসহ মোট ৩৫০০ কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায় গতকাল দুর্নীতি দমন কমিশন তলব করে সোনালী ব্যাংকের সেই সময়ের এমডি হুমায়ুন কবীরকে। সকাল সাড়ে ন’টা থেকে একটানা বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদকের ৫ সদস্যের একটি অনুসন্ধানী টিম। বিকাল সাড়ে চারটায় দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দ্রুত হেঁটে দুদকের দক্ষিণ দিকের গেট পার হয়ে সেগুনবাগিচা সড়কের দিকে চলে যান। এ সময় তার আগে পিছে ছুটতে থাকে প্রায় অর্ধশত ক্যামেরাম্যান ও সাংবাদিক। একপর্যায়ে দৌড়ে গাড়ির দিকে এগোতে চান হুমায়ুন কবীর। সাংবাদিকরা ঘিরে ধরে তাকে। এভাবে প্রায় চল্লিশ মিনিট হাঁটাহাঁটি দৌড়াদৌড়ির পর এক পর্যায়ে গাড়িতে উঠে এলাকা ত্যাগ করেন তিনি। হুমায়ুন কবীর গাড়িতে ওঠার পর সাভারের হেমায়েতপুরের আসাদুজ্জামান নামের এক সাবেক কলেজ শিক্ষক তার গাড়ি রোধ করে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন- ওই ব্যাটা চোর, তানভীরকে অবৈধভাবে টাকা দিয়ে বড়লোক বানিয়েছে বলে তানভীর আমার বাবার ভিটা থেকে আমাকে উচ্ছেদ করে আমার জায়গা দখল করে নিয়েছে।
ক্যামেরা ও সাংবাদিক পরিবেষ্টিত দ্রুত হেঁটে চলা অবস্থায় হুমায়ুন কবীর বলতে থাকেন, আমি মিডিয়াকে কিছু বলবো না। আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্য কাউকে ভাবতে হবে না। আমার কিছু হবে না। আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না। তিনি বলেন, হলমার্ক ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কিনা, সেটা আমি দুদককে বলেছি। একই ভাবে পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকার কথাও বলেছি। আরও যা তথ্য দেয়ার প্রয়োজন সেগুলো আমি দুদকে দিয়েছি।
সূত্র জানায়, হুমায়ুন কবীরের জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি দুদকের অনুসন্ধানী টিম। তিনি তাদের অনেক প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। নিজের দোষ চাপা দিতে সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন। হলমার্ক কেলেঙ্কারির বিষয়টি সোনালী ব্যাংকের বোর্ড সভায় আলোচনা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে বলেছেন, তার অজ্ঞাতে রূপসী বাংলা শাখা থেকে ওই টাকা ছাড় করা হয়েছে।
অভিযোগ আছে, হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদের কাছ থেকে হুমায়ুন কবীর একটি পাজেরো ভি সিক্স গাড়ি নিয়েছেন। টাকাও নিয়েছেন বিপুল অংকের। তবে হুমায়ুন কবীর তা অস্বীকার করেছেন।
এদিকে দুদক সূত্রে জানা গেছে, তাদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, হলমার্ককে ঋণ দিতে রাজনৈতিক চাপ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টার প্রভাবের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব কেবল সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখাতেই ছিল না ওই প্রভাব ছিল ব্যাংক কেন্দ্রীয় অফিস পর্যন্ত। হুমায়ুন কবীর দুদককে জানিয়েছেন, রূপসী বাংলা শাখার ঋণ প্রদানের সীমা আনলিমিটেড বলে তারা তাদের ইচ্ছেমতো ঋণ দিয়েছে। হলমার্কের ২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে মাত্র ৭শ কোটি টাকার প্রস্তাব বোর্ডে আসে। বাকিটা আসেনি। তবে গত মে মাসে হলমার্ক ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে রূপসী বাংলা শাখার ওই আনলিমিটেড ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। দুদকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রূপসী বাংলা শাখা হলমার্ককে বেআইনিভাবে ঋণ দিলেও প্রতিমাসে তার প্রতিবেদন এমডির কাছে পাঠানো হয়েছে ২০০৯ সাল থেকে। ওই ঋণ কার্যক্রম চলে আসলেও এমডি রূপসী বাংলা শাখার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে এমডি হুমায়ুন কবীরও ওই লুটপাটের দায় এড়াতে পারেন না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট