Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নবম সংসদের সামনে মেয়াদ বাড়ানোর হাতছানি

অদ্ভুত এক সাংবিধানিক সঙ্কটের দিকে এগুচ্ছে বাংলাদেশ। পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে। বেশ কিছু বিস্ময়কর পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ রয়েছে বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোতে। কেন আওয়ামী লীগ সংসদ নির্বাচন তিন মাস এগিয়ে আনলো তা এক বিরাট রহস্য। সে রহস্যের জট আস্তে আস্তে খুলতে শুরু করেছে।
সংশোধিত সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে ক. মেয়াদ-অবসানের কারণে, সংসদ ভাঙিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং খ. মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাঙিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে: তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপদফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপদফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।’ ১৯৭২ সালের সংবিধানেও অদ্ভুত এ বিধান ছিল। সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান যেটিকে চিহ্নিত করেছেন, ৭২ এর সংবিধানের অন্যতম দুর্ঘটনা হিসেবে। তার ভাষায়, এটা একটা ভুল ছিল। তবে ওই অনুচ্ছেদ কখনও কার্যকর হয়নি। পরে ত্রয়োদশ সংশোধনীতে ওই বিধান বাতিল হয়ে যায়। সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান সংবিধানে যুক্ত হয়। সংসদ রেখে সংসদ নির্বাচন সারা দুনিয়াতেই এক নজিরবিহীন ঘটনা। ১২৩(৩) বহাল রেখে নির্বাচন হলে দশম সংসদ নির্বাচনের সময় কল্পনাতীত কিছু দৃশ্যের অবতারণা হবে। ১. নির্বাচনের সময়ও তিন শ’ সংসদ সদস্যের পদ কার্যকর থাকবে। নির্বাচনের দিনও সংসদ সদস্যের স্টিকার নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন তারা। ২. নির্বাচনের পরে একইসঙ্গে বাংলাদেশে সংসদ থাকবে দু’টি। নবম এবং দশম সংসদ দু’টি সংসদই জীবিত থাকবে। নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকবেন ছয় শ’। এ ব্যাপার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সাবেক ডিন ড. বোরহান উদ্দীন খান। তিনি বলেন, ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ বর্তমান সংবিধানে যেভাবে আছে তা থাকা সমীচীন নয়। এতে নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড কার্যকর থাকবে না। তবে সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ না করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী লাভজনক পদে থেকে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংসদ সদস্য পদ লাভজনক নয় কোন আইনে এ ধরনের কথা বলা নেই। পদত্যাগ না করে তাদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার বৈধতা নিয়ে নিশ্চিতভাবেই আদালতে রিট হবে। সুপ্রিম কোর্টেই বিষয়টি সুরাহা হতে পারে। তিনি বলেন, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে নির্বাচনের পর একইসঙ্গে দু’টি সংসদ কার্যকর থাকবে। নবম সংসদের তিন শ’ এবং দশম সংসদের তিন শ’ সদস্য একসঙ্গে সংসদ সদস্যের মর্যাদা ভোগ করবেন। এটি হবে জটিল পরিস্থিতি। আইনের এই অধ্যাপক বলেন, চতুর্থ সংশোধনীতে বিধান ছিল সংসদ চাইলে নিজেই নিজের মেয়াদ বাড়াতে পারবে। বর্তমান ১২৩(৩) অনুচ্ছেদেও তাত্ত্বিকভাবে একই ধরনের সুযোগ রয়েছে। দশম সংসদ নির্বাচনের পরও প্রেসিডেন্ট চাইলে নবম সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে পারবেন। ওই সংসদ দশম সংসদ নির্বাচনের ফল এবং নির্বাচন বাতিল করে দিতে পারবে। এবং নিজেরাই নবম সংসদের মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারবে। ড. বোরহান বলেন, এভাবে আওয়ামী লীগ হয়তো তাদের ভিশন ২০২১ পূরণ করতে পারে। এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তবে ড. বোরহান উদ্দীনের এ মতের সঙ্গে একমত নন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. এম জহীর। তিনি মনে করেন, ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তেমন কোন বাধা হবে না। তিনি বলেন, সংসদ বহাল থাকলেই যে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না তা বলা যায় না। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতাশালী করতে হবে। প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলামের মত, সংসদের সাধারণ মেয়াদ তার প্রথম বৈঠকের পর পাঁচ বছর হবে, যদি না প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙে দেন। কোন সাধারণ নির্বাচনের পর ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। কনস্টিটিউশনাল ল’ অব বাংলাদেশ বইয়ে তিনি এমত দিয়েছেন। একটি সহযোগী দৈনিকে ড. আকবর আলি খানের দেয়া বক্তব্যও এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। যেখান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের পর ফলাফল যদি ক্ষমতাসীন দলের মনঃপুত না হয়, তাহলে তারা পুরনো সংসদ ডেকে নির্বাচনী ফল বাতিল করে সংসদের মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারে। সংসদ রেখে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে খোদ মহাজোটেই প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৫শে জুন সংসদে বাজেট আলোচনায় এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পঙ্গু হাঁস হতে পারে। কিন্তু সংসদ পঙ্গু হাঁস হতে পারে না। সংসদের বৈঠক না-ই ডাকা হতে পারে কিন্তু সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার তো খর্ব হবে না। নির্বাচন কমিশন কোন আইন দিয়ে তা অকার্যকর করতে পারবে না। সংসদেই মেননের এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তবে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেনও মনে করেন সংসদ বহাল রেখে সংসদ নির্বাচন করলে লেভেল প্লেইং ফিল্ড হবে না। ১০ই আগস্ট তিনি বলেছিলেন, এর ফলে একদল লোক নির্বাচনে এমপি থেকে নিজেই পুনরায় এমপি কিংবা অন্যের জন্য এমপির প্রভাব খাটানোর সুযোগ পাবেন। সুতরাং লেভেল প্লেইং ফিল্ড হচ্ছে না। নবম সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৪ সালের ২৪শে জানুয়ারি। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী এর পূর্ববর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট