Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

কুষ্টিয়ায় চেয়ারম্যানকে হত্যার পর মাথা নিয়ে উল্লাস

চরমপন্থি ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের স্বর্গভূমি বলে পরিচিত জনপদ কুষ্টিয়ার মাটি আবারও রঞ্জিত হলো এক জনপ্রতিনিধির রক্তে। প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে কুপিয়ে দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করেছে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার দুই সঙ্গীকে। হত্যার পর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলামের ছিন্ন মস্তক নিয়ে উল্লাস নৃত্য করতে করতে বীরদর্পে চলে যায় সন্ত্রাসীরা। গত চার দশক ধরে কুষ্টিয়াতে  সন্ত্রাসীদের আঘাতে একের পর খুন হচ্ছেন জনপ্রতিনিধি। ’৭৩ সালে ঈদের জামাতে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হন খোকসা কুমারখালী আসনের সে সময়ের এমপি বর্তমান এমপি সুলতানা তরুণের শ্বশুর গোলাম কিবরিয়া। গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছে আমবাড়িয়ার পার্শ্ববর্তী কয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমির হোসেন আমু, তৌহিদুল ইসলাম বাচ্চু। গত বছর অল্পের জন্য নিজ বাড়ির বৈঠক খানায় বোমা হামলা থেকে বেঁচে যান কুষ্টিয়ার দৌলতপুর আসনের এমপি আফাজউদ্দিন। সেখানে বোমা হামলায় মারা যায় তিন জন। কুষ্টিয়ায় জনপ্রতিনিধি খুনের তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলো খোকসার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের নাম।
কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে ট্রলারে ভরদুপুরে শতাধিক যাত্রীর সামনে চরমপন্থিরা গুলি ও গলা কেটে নুরুল ইসলামসহ তিন জনকে হত্যা করেছে। এ সময় তারা চেয়ারম্যানের মাথা কেটে নিয়ে যায়।
গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউপির শিলাইদহ খেয়াঘাটের পদ্মা নদীতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
জানা গেছে, খোকসা উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও  আমবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম (৪৭) পাবনা আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিয়ে সঙ্গীসহ শিলাইদহ কুঠিবাড়ীর শিলাইদহ ঘাট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তার সঙ্গে নিহতরা হচ্ছেন- আফজাল (৪৫) ও ভুট্টো (৪৫)।
ট্রলারের মাঝি প্রত্যক্ষদর্শী আবু হানিফ জানান, দুইটার দিকে তিনি পাবনার চরসাধিপুর খেয়াঘাট থেকে ট্রলারে শতাধিক যাত্রী নিয়ে শিলাইদহ খেয়াঘাটের দিকে রওনা হন। মাঝনদীতে আসার পর হঠাৎ ছোট ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা তার নৌকা থামানোর সংকেত দেয়। এরপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তার নৌকায় ঝাঁপ দিয়ে উঠে পড়ে। সন্ত্রাসীরা প্রথমে চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর তার মাথা কেটে লাথি  মেরে দেহ নদীতে ফেলে দেয়। এরপর চেয়ারম্যানের সঙ্গী কুমারখালী উপজেলার দমদমা গ্রামের ভুট্টো ও পশ্চিম আমবাড়িয়া গ্রামের আনসার আলীকে গুলি করে হত্যা করে। আনসার আলীর মৃতদেহ তারা নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
এ সময় ট্রলারে থাকা মাছ ব্যবসায়ী আজমত আলী গুলিবিদ্ধ হন। তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ট্রলার যাত্রী সাদেক শেখ জানান, ট্রলারটি মাঝ নদীর কাশবনের কাছে পৌঁছলে সেখানে একটি নৌকায় ওত পেতে থাকা চরমপন্থিরা মাঝিকে ট্রলার থামাতে নির্দেশ দেয়। পরে তারা অস্ত্র উঁচিয়ে চেয়ারম্যানকে বহনকারী ট্রলারের যাত্রীদের ভয়  দেখায় এবং মাথা নিচু করে থাকতে বলে। এরপর দুর্বৃত্তরা ইউপি চেয়ারম্যান ও বাকি দু’জনের ওপর গুলি চালায়। তারা গুলির পর ইউপি চেয়ারম্যান ও আফজাল আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে এবং তাদের লাশ নদীতে ফেলে দেয়। দুর্বৃত্তরা  চেয়ারম্যানের মাথা নিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে  নৌকায় করে চলে যায়।
শিলাইদহ ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন তারেক জানান, ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে খেয়াঘাটে গিয়ে এক জনের (ভুট্টো) গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পান।
নিহত ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এক সময় চরমপন্থি দলের নেতা ছিলেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় পালিয়ে দেশের বাইরে চলে যান। পরে এলাকায় ফিরে এসে নিজ নামে বাহিনী তৈরি করেন। ইউপি নির্বাচনের আগে একে-৪৭ রাইফেলসহ পাবনা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। জামিনে ছাড়া পেয়ে নির্বাচন করেন তিনি। ওই অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিয়ে গতকাল বাড়ি ফিরছিলেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, গতকাল দুপুর দুইটার দিকে একটি মামলায় পাবনা কোর্টে হাজিরা শেষে ট্রলারযোগে পাবনা থেকে কুষ্টিয়া আসার সময় কুমারখালীর পদ্মা নদীতে সশস্ত্র চরমপন্থিরা অপর একটি নৌকাযোগে তাদের আক্রমণ করে এবং মাঝির কাছ থেকে ট্রলারের হ্যান্ডেল ছিনিয়ে নেয়। এরপর একে একে তিনজনকে প্রথমে গুলি করে হত্যা করে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং তার সঙ্গী আনসার আলীকে গলা কেটে লাশ নদীতে ফেলে দেয়। ওই ট্রলারে থাকা গুলিবিদ্ধ ভুট্টোর লাশ পুলিশ উদ্ধার করলেও এখনও পর্যন্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং আনসারের লাশ উদ্ধার করতে পারেনি।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা) এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম হত্যার কারণ জানতে পারেনি পুলিশ। একটি সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ কলহে জর্জরিত কুষ্টিয়ার খোকসা-কুমারখালী আসনের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নিহত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ছিলেন এলাকার বর্তমান এমপি সুলতানা তরুণের সমর্থক। নির্বাচনী এলাকায় সুলতানা তরুণের বিরোধী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে ওই সূত্রটি জানিয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট