Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

লিমনের ওপর হামলার সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

র‌্যাব-এর গুলিতে পঙ্গু লিমন, তার মা হেনোয়ারা বেগম ও বড় ভাই হেমায়েত হোসেন সুমনের ওপর হামলাকারী র‌্যাব-এর সোর্স পরিচয়দানকারী সন্ত্রাসী ইব্রাহিম হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। গতকাল রাজাপুর থানার উপ-পরিদর্শক বাদল ফকির সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখান থেকে যে কোন সময় অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার আফম আনোয়ার হোসেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা লিমন, তার মা ও বড় ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছেন বলে তার দেয়া অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। লিমন হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আমাদের ওপর লিডার ইব্রাহিমের সন্ত্রাসী হামলার তদন্তে যেভাবে পুলিশ সত্যতা পেয়েছে আমি আশা করি আমার অসহায় পরিবারের নামে করা ইব্রাহিমের মিথ্যা মামলারও সঠিক তদন্তে সেটি যে স্বাভাবিক মৃত্যু তা প্রমাণ হবে।
রাজাপুর থানার এসআই বাদল ফকির বলেন, তদন্তে লিমনের পরিবারের ওপর যে হামলা হয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুতরাং সত্য ঘটনা উল্লেখ করেই আমি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।
ঝালকাঠি সহকারী পুলিশ সুপার আফম আনোয়ার হোসেন তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আজ (গতকাল সোমবার) যে কোন সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।
ঈদের দিন বিকালে ঈদ শেষে লিমন তার মা ও বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা সদরের ভাড়া করা বাসায় যাওয়ার সময় ইঁদুরবাড়ী সেতুর কাছে ইব্রাহীম হাওলাদার ওরফে লিডার ইব্রাহিম তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে লিমন, লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম ও ভাই সুমন আহত হন। ঘটনার পর আহত লিমন ও তার মা রাজাপুর থানায় যাওয়ার চেষ্টা করলে ইব্রাহিমের লোকজন তাদের বাধা দেয়। এ ঘটনায় লিমনের মা ঘটনার দিন রাতেই রাজাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে লিপিবদ্ধ করে তদন্ত শুরু করে।
লিমনের পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার কপি রাজাপুর থানায়
অপরদিকে পঙ্গু লিমনের পরিবারের বিরুদ্ধে লিডার ইব্রাহিমের করা হত্যা মামলার এজাহারের কপি রাজাপুর থানায় এসে পৌঁছেছে। ঝালকাঠি আদালতের পাঠানো মামলার তদন্তের নির্দেশ কপি গত ২৬শে আগস্ট রোববার রাতে রাজাপুর থানার ওসি’র দায়িত্বে থাকা এসআই হালিম তালুকদার গ্রহণ করেছেন বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জরুরি কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় মামলা এজাহার হিসেবে এখনই গ্রহণ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন।
গত ২৩শে আগস্ট লিডার ইব্রাহিম তার শ্যালক ইব্রাহিমকে হত্যার অভিযোগ এনে ঝালকাঠি জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতে লিমনের মা-বাবা-ভাইসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে বিচারক রাজাপুর থানা পুলিশকে অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।
এর আগে ঈদের দিন লিমন, তার মা হেনোয়ারা বেগম ও ভাই সুমনের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত করে ইব্রাহিম। মারামারির ঘটনা শুনে ইব্রাহিমের শ্যালক ইঁদুরবাড়ী এলাকায় যাওয়ার সময় পথেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য লিমনের পরিবারের নামে ইব্রাহিম আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে বলে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেছেন।
বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবে মানবাধিকার কমিশন
ওদিকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, র‌্যাবের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পা হারানো ঝালকাঠির কলেজছাত্র লিমন হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্র্টে আবেদন করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। আগামী রোববারের মধ্যে এ আবেদন করা হবে। একই আবেদনে লিমনের নিরাপত্তা ও তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর ওপর স্থিতাবস্থ্থা চাওয়া হবে। গতকাল কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান। র‌্যাবের সোর্স হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম হাওলাদার লিমনের পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের পর এভাবে নিজেদের অবস্থ্থান জানাল কমিশন।
গতকাল রাজধানীর মগবাজারে কমিশনের কার্যালয়ে চেয়ারম্যান বলেন, সোমবার কমিশনের সভায় লিমনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, লিমন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে করা সব মামলার বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হবে। কমিশনের পক্ষে এডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজ আবেদনটি দাখিল করবেন। আমরা আশা করি, তদন্ত হলে মামলাগুলো মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। আর মামলাগুলো খারিজ হলে আমরা রাষ্ট্রের কাছে লিমনের জন্য ক্ষতিপূরণ চাইব। তিনি বলেন, ঈদের দিন ও তার আগের দিন লিমন ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর যে নিষ্ঠুরতা ঘটেছে, তাতে আমরা মর্মাহত এবং উদ্বিগ্ন। সারাদেশ থেকে অসংখ্য নাগরিক তাদের উদ্বেগের কথা আমাদের জানিয়েছেন। সংবাদকর্মীরাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, কমিশন কি ব্যর্থ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক বলেছেন, কমিশন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ করা উচিৎ। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, লিমন পঙ্গু হওয়ার পর থেকে কমিশন তার পাশে রয়েছে। তাকে আমরা আইনি সহায়তা দিতে পারি, দিচ্ছি। আমরা বসে নেই। আমরা এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে লিমনের বিরুদ্ধে দায়ের সব মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত তেমন কোন সাড়া দেয়নি। আমরা বলেছি, রাষ্ট্র্র ক্ষমতাবান। তার কাছে একজন পঙ্গু নাগরিক বড়ই অসহায়।
চেয়ারম্যান বলেন, গত ১১ই জুলাই আমরা এ ব্যাপারে স্ব্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারপরও ইতিবাচক কোন অগ্রগতি হয়নি। বরং ঈদের দিন লিমনদের ওপর হামলা ও তারপর মামলা দরিদ্র-অসহায় পরিবারটিকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। লিমনের পঙ্গু হওয়া ও তার পরের ঘটনাক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক বা একাধিক ব্যক্তির ভুলের কারণে এটা ঘটেছে। শুরুতেই এই ভুল স্ব্বীকার করে ব্যবস্থা নেয়া হলে জল এত ঘোলা হতো না। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে উদ্ধৃত করে বলেন, কাজ করতে গেলে ভুল হতেই পারে, যারা কাজ করে ভুল তাদেরই হয়। কিন্তু সেটা সংশোধন করে নেয়াও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দিয়ে কোন অন্যায়কে কখনও সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তিনি বলেন, সরকারকে অনেক সময় কোন মহল ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. মিজানুর রহমান বলেন, কমিশনের কোন নির্বাহী ক্ষমতা নেই। আমাদের কাজ শুধু সুপারিশমূলক। তবে লিমনের ওপর হামলার ঘটনা জানার পরপরই আমি তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। এরপর স্থ্থানীয় পুলিশ সুপারকে ফোন করে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছি। সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কাজী রিয়াজুল হক, সদস্য এডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজ, সচিব তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও পরিচালক শামীম আহমেদ প্রমুখ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট