Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মালয়েশিয়ার বিস্ময়কর প্রস্তাব

 বিস্ময়কর প্রস্তাব দিয়েছে মালয়েশিয়া। পদ্মা সেতু পার হতে ট্রাকপ্রতি ২২ ডলার, প্রাইভেট কারে ১৮, মোটারসাইকেল ৯  এবং যাত্রীবাহী বাসে ৩ ডলার করে টোল আরোপ করতে হবে। প্রতি বছরই টোলের হার পুনঃনির্ধারণ করা হবে। মালয়েশিয়ার টেকনিক্যাল কমিটিই টোলের হার নির্ধারণ করবে। এতে বাংলাদেশের কোন প্রতিনিধিকে রাখা যাবে না।
গতকাল বিকালে মালয়েশিয়ার সাবেক মন্ত্রী সামি ভ্যালুর নেতৃত্বাধীন আট সদস্যের প্রতিনিধি দল সেতু ভবনে যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়। সেতু বিভাগের সচিব, প্রকল্প পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা এতে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ার প্রস্তাবে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারি কর্মকর্তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষে একান্ত আলোচনায় তারা মালয়েশিয়ার প্রস্তাব অবাস্তব, অগ্রহণযোগ্য বলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তবে যোগাযোগমন্ত্রী সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, তাদের প্রস্তাব কারিগরি কমিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার পরই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাস্তবতার আলোকেই তারা প্রস্তাব করেছেন। ব্যাপক জনগোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলেই যাত্রীবাহী বাসে অনেক কম হারে টোল ধরা হয়েছে। এছাড়া তাদের বিনিয়োগের ওপর তারা ছয় শতাংশ হারে সুদ নেবে। এই সুদ নেয়া হবে চক্রবৃদ্ধি হারে। সেতু বিভাগের একজন শীর্ষ স্থানীয় প্রকৌশলী বলেন, মালয়েশিয়ার প্রস্তাব অনুযায়ী নির্মাণ ব্যয় পড়বে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। ৩৫ বছরে তারা এই নির্মাণ ব্যয়সহ মোট প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা তুলে নেবেন। সেতু নির্মাণে মালয়েশিয়া ব্যয় করবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সমপরিমাণ অর্থের বেশি তারা মুনাফা নেবেন। সেতু নির্মাণে তারা সময় নেবেন ৩২ মাস। তারা প্রাথমিক প্রস্তাবে নির্মিত হওয়ার পর ৫০ বছর সেতু পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, টোল আদায় ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার কথা বলেছিলেন। চূড়ান্ত প্রস্তাবে তারা এই সময়কাল ৩৫ বছর নির্ধারণের কথা বলেছেন। জাইকা’র জরিপ অনুযায়ী পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যে যান চলাচল করবে দৈনিক গড়ে ২৫ হাজার। পাঁচ বছর পর তা দৈনিক ৪০ হাজারে উন্নীত হবে। এর বেশির ভাগই হবে ভারতীয়। সেতু বিভাগের স্টাডি অনুযায়ী ২০১৬ সালে সেতু চালু হওয়ার পর ২০৫০ সাল পর্যন্ত মোট টোল আদায় হবে কমপক্ষে ৪৮ হাজার কোটি টাকা (৫৮০ কোটি ডলার)। বঙ্গবন্ধু সেতুতে যে হারে টোল আদায় করা হয় পদ্মা সেতুতেও সেই হারে টোল ধরে তারা এই হিসাব করেছিলেন। মালয়েশিয়ার চূড়ান্ত প্রস্তাবে টোল আদায়ের পরিমাণ হবে অনেক বেশি।
মালয়েশিয়ার প্রস্তাবে মন্ত্রী, সেতু বিভাগের সচিব, পদ্মা সেতু প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ অন্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্ন তোলেন। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা তাদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি। তারা সেতু পরিচালনাকালীন ৩৫ বছর তাদের লোকজনদের সার্বিক দায়িত্বে থাকার কথা বলেছেন। বাংলাদেশ বা তৃতীয় কোন সংস্থা কর্তৃক টোল আদায়সহ সেতু সংক্রান্ত কোন বিষয়ে কোনরকম হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবেন না। ৩৫ বছর নির্মাণ ব্যয়সহ মুনাফা তুলে নেয়ার পরই সেতুর মালিকানা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বাংলাদেশ থেকে এতেও আপত্তি করা হয়। পরে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসার কথা বলা হলেও মালয়েশিয়ার প্রস্তাবে সেতু বিভাগের প্রবল আপত্তি রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনিক্যাল দিক ছাড়াও আর্থিক প্রস্তাব তারা অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য বলে মত প্রকাশ করেছেন। তারা ধারণা করছেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশ সরকার যে কঠিন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা সেই সুযোগই নিয়েছেন।
এদিকে অর্থমন্ত্রী সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়েও এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের মন গলাতে পারেননি। ২৯শে আগস্ট জাইকা ও এডিবির এক মাসের বর্ধিত সময়ও শেষ হবে। অর্থমন্ত্রী আশা করেছিলেন, এই সময়ের মধ্যেই বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবেন। কিন্তু তেমন কোন লক্ষণ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নিশ্চয়তা পাওয়া গেলেই অর্থ উপদেষ্টার পদত্যাগের ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্তে আসবে বলে জানা যায়।
সরকারের হাতে বিকল্প রয়েছে চীনের প্রস্তাব। চীনের প্রস্তাব আকর্ষণীয় এবং বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক বিষয় সম্পৃক্ত বলে এ নিয়ে সরকারকে দ্বিতীয় চিন্তা করতে হচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে অথবা বাংলাদেশের নেতৃত্বে কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু করার শেষ অবলম্বন রয়েছে সরকারের হাতে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের মেয়াদে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়লো। সরকারের জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প এই পদ্মা সেতু। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ডিজাইন, ড্রইং, নদীশাসন, জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, রেল সংযোগ, প্রাক যোগ্য ঠিকাদার নির্বাচনসহ সব কাজই সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করেছিল। প্রধান দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক প্রায় এক বছর ঝুলিয়ে রাখায় বাস্তবায়ন কাজ বিলম্বিত হয়। পৃথক সেতু বিভাগ গঠন, বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর টোল বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র অরিজিনের কোম্পানির কাছ থেকে সেতুর সব  মালামাল, সরঞ্জামাদি সংগ্রহের শর্ত দেন তারা। সর্বশেষ শর্ত দেন যোগাযোগমন্ত্রী, সচিব, প্রকল্প পরিচালককে অপসারণ, বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো। অর্থ উপদেষ্টাকে সরিয়ে দেয়ার শর্তও দেয়া হয়। তাদের সব কথা মেনে নেয়ার পরও বিশ্বব্যাংকের মন গলাতে পারলেন না অর্থমন্ত্রী।

তুলে নেবে ৬০ হাজার কোটি টাকা

ট্রাকপ্রতি ২২, প্রাইভেট কারে ১৮ বাসে ৩ ডলার টোল প্রস্তাব

টোল পুনঃনির্ধারণ কমিটিতে বাংলাদেশের কাউকে রাখা যাবে না

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট