Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সাত দিনের বেতন-ভাতা ফেরত দেবেন আবুল হোসেন

জুলাই মাসের সাত দিনের বেতন-ভাতা ফেরত দেবেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী সৈয়দ
আবুল হোসেন। কারণ তার একাউন্টে জুলাই মাসের বেতন-ভাতা ফেরত গিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দপ্তর। তারা সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ গ্রহণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দেখে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন গত ২৩শে জুলাই পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট কর্তৃক পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। এমন অবস্থায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৮(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৩শে জুলাই থেকে সৈয়দ আবুল হোসেনের মন্ত্রী পদ শূন্য হয়েছে। তাই গেজেটে উল্লিখিত দিনের পর বাকি কয়েক দিনের বেতন-ভাতা সৈয়দ আবুল হোসেন ফেরত দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের বেতন-ভাতা দেয়ার বিষয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতি চালু হয়েছে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রত্যেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দেয়া নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসের ২ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি কোড থেকে বেতন-ভাতা ট্রান্সফার হয়ে যায়। একই সঙ্গে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীর মুঠোফোনে এ বিষয়ে একটি ক্ষুদে বার্তা পৌঁছে যায়। অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতা ট্রান্সফার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরা মোবাইল ফোনে পাঠানো এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারেন। তাই পুরো মাসের বেতন-ভাতা অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ায় সাত দিনের অর্থ ফেরত দিতে হচ্ছে।
আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার ‘সুরাহা’র জন্য সরকারের হাতে আর মাত্র ৭ দিন সময় রয়েছে। অর্থাৎ আগামী ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি পুনর্বহাল না করলেও অপর দুই অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো- অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) তাদের চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াবে না। ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না সরকারের পক্ষে। এমন অবস্থার কারণেই সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের অনুমোদন শেষে গতকাল তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন গত ২৩শে জুলাই পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট কর্তৃক পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এমন অবস্থায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৮(১)(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৩শে জুলাই থেকে সৈয়দ আবুল হোসেনের মন্ত্রী পদ শূন্য হয়েছে। ওদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়া সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তাই নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রণালয়টি এখন প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই থাকছে। ওদিকে মন্ত্রিসভা থেকে তার পদত্যাগ গ্রহণ করা হলেও সংসদ সদস্য (এমপি) পদে বহাল থাকলেন তিনি। তার পদত্যাগপত্র দেয়ার এক মাস পর তা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে গত ২১শে জুলাই পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের করা দুর্নীতির অভিযোগ ও তার পরিপ্রেক্ষিতে অব্যাহত চাপের মুখে গত ২৩শে জুলাই আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন। ওদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আগে  যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালেই সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ ওঠে। তবে বর্তমান সরকার ও আবুল হোসেন নিজে এই দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছেন। বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগের মধ্যেই গেল ডিসেম্বরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে আবুল হোসেনকে সরিয়ে দেয়া হয়। তাকে দেয়া হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তবে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে দাবি করে গত ২৯শে জুন বিশ্বব্যাংক পদ্মা প্রকল্পে তাদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্ষে সংস্থাটির যুক্তি ছিল, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দায়িত্বপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিতদের মধ্যে যাদের নাম এসেছে, তদন্তের পুরো সময় ছুটিতে পাঠাতে বলা হলেও সরকার তা মানেনি। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তের সমালোচনার পাশাপাশি আবুল  হোসেনও কয়েক দিন আগে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরপর পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির তদন্ত চলাকালে দায়িত্বপূর্ণ পদে না থাকার ইচ্ছা থেকেই তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হয় বলে সরকারি সূত্র জানায়। ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে তাতে স্থান হয় সৈয়দ আবুল হোসেনের। মাদারীপুরের এই সংসদ সদস্য শেখ হাসিনার গত সরকারের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট