Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

আসামগামী ট্রেনে মুসলমানদের খুঁজে বের করে মারা হয়

কলকাতা, ২১ আগস্ট: শনিবার গভীর রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে বিশেষ ট্রেনে যাওয়ার সময় যেই ১৪ জন মুসলমানের ওপরে হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ বা রেল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু না জানালেও আহত এক ব্যক্তির পরিবার সেই ঘটনার বিবরণ জানিয়েছেন। তার বড়ভাই জিলান আহমেদ চৌধুরী টেলিফোনে শাহজাহানের কাছ থেকে ঘটনার যে বিবরণ জানতে পেরেছেন, সেটাই তিনি জানিয়ে বলেছেন, “ব্যাঙ্গালোর থেকে একই ট্রেনে আসছিল যারা – তারা খুঁজে খুঁজে মুসলমানদের বার করে।” খবর বিবিসি বাংলা’র।

নিজের গ্রাম হাইলাকান্দি থেকে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে জিলান আহমেদ চৌধুরী বলেন ট্রেনে হামলাকারীরা প্রত্যেকের পরিচয় পত্র দেখতে চায়। তারপরে বগির সব দরজা বন্ধ করে মুসলমান যাত্রীদের মারধর শুরু করে।

“মোবাইল ফোন, টাকা পয়সা – সব কেড়ে নেয়া হয়। যারা মারছিল, তারা সংখ্যায় প্রায় ৪০-৪৫ জন ছিল আর সবাই আসামের লোক। লোহার রড দিয়ে মারা হয় – চাকুর কোপও দেওয়া হয়।”

তিনি আরো জানিয়েছেন যে মৃতদেহগুলো গ্রামে পৌঁছেছে, সেগুলোর মুখে-মাথাতেও একই রকমের কাটা দাগ রয়েছে – যেটা আমার ভাই জানিয়েছে।

তার ভাইয়ের বরাত দিয়ে জনাব চৌধুরী বলেন প্রায় দুই-আড়াই ঘন্টা ধরে অত্যাচার চালানোর পরে এক এক করে ওই যাত্রীদের চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হয়।

“এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে পুলিশ আসে নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে এক ডাক্তারের মোবাইল ফোন থেকে বাড়িতে খবর দিয়েছে ভাই।”

আসামের দাঙ্গার পরে ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বসবাসকারী অসমীয়াদের ওপরে হামলা হতে পারে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাঙ্গালোর থেকে আসামগামী একটি বিশেষ ট্রেন থেকে আসামের হাইলাকান্দি অঞ্চলের চারজন মুসলমানকে মেরে ফেলে দেওয়া হয় শনিবার গভীর রাতে।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা জলপাইগুড়ির বেলাকোবা ও ফালাকাটা এলাকায় ওই চারজন ছাড়াও অন্তত ১০ জনকে গুরুতর আঘাত করার পরে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হয়।

গত সোমবার আরেকজন অসমিয়া ব্যক্তির মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে উত্তরবঙ্গেরই আরেকটি রেলাইনের ধারে।

ভরত সঁইকিয়া নামের ওই ব্যক্তিও বিশেষ ট্রেনে করে ব্যাঙ্গালোর থেকে আসাম পালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, তবে কীভাবে তিনি মারা গেছেন সে বিষয়ে এখনও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে কিছু বলে নি।

ওই ঘটনায় আহতদের পাঁচজনকে গোহাটি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে অন্য তিনজনের অবস্থা সঙ্কটজনক বলে হাইলাকান্দির পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট ব্রজেনজিৎ সিংহ জানিয়েছেন।

জনাব সিংহ জানিয়েছেন যে ওই তিনজনকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।

ওদিকে, ব্যাঙ্গালোর থেকে ‌একই ট্রেনে আসছিলেন, এরকম এক যুবক এখনও নিখোঁজ বলে তাঁর পরিবার জানিয়েছে।

অন্য সহযাত্রীরা বলতে পারছেন না যে ট্রেনে মারধর শুরু হওয়ার পরে জাকির হুসেন নামের ওই যুবকের কী হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে আহত ও নিহতদের তালিকায় ওই যুবকের নাম নেই – তারাও খোঁজ চালাচ্ছেন।

এদিকে, ব্যাঙ্গালোর থেকে বিশেষ ট্রেনে পালিয়ে আসার সময়ে আসামের হাইলাকান্দির যে বাসিন্দাদের মেরে ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তাদের জানাজার পরে দাফন করা হয়েছে।

হাইলাকান্দির পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন গোটা পর্ব শান্তিতেই কেটেছে – যদিও চাপা উত্তেজনা ছিল। বাড়তি পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছিল আজকের জানাজা ও দাফনের প্রেক্ষিতে।

সকাল আটটার সময়ে মৃতদেহগুলি গোহাটি থেকে হাইলাকান্দি পৌঁছায় আর দুপুর একটার মধ্যে দাফন শেষ হয়ে যায়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট