Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘রমজানের শেষে ঐ এল খুশীর ঈদ’

ঢাকা, ১৯ আগস্ট: শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে। কাল ঈদুল ফিতর। চাঁদ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল না। কারণ ৩০ রোজা হয়েছে। এরপরও পশ্চিম আকাশে সবাই এক ফালি চাঁদ খুঁজে বের করেছে। এই চাঁদ দেখার যে কী আনন্দ! শহুরে মানুষ হয়তো এটি অনুধাবন না করলেও গ্রামে আনন্দ সব আনন্দের সেরা। ঈদের চাঁদ দেখতে পারাটাকে সৌভাগ্য হিসেবে মনে করা হয়।

এখন খুশির তুফান সারা দেশে। রেডিও টিভিতে বাজছে কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী ও অতুলনীয় গান ‘ও মন রমজানের শেষে ঐ এল খুশীর ঈদ’। এই সুরটি কানে আসলেই মনে হয় হ্যাঁ ঈদ এলো।

ঈদে বাড়ি গেছেন কর্মীজীবী মানুষ। প্রতিবছরই বাড়ি ফেরার ভোগান্তি পোহাতে হয়। কিন্তু কাইকে থামাতে পারে না। শত বাধা পেরিয়ে ঠিকই বাড়ি পৌঁছেন পিতা, ভাই, বোন আর সন্তান। বাড়ি পৌঁছা মানে সব ভোগান্তি আর ক্লান্তির অবসান। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। বাড়ি ফেরার আনন্দের সঙ্গে আর কোনো কিছুরই তুলনা হয় না।

আসলে আপনজন ছাড়া কোনো উৎসবই উৎসব নয়। ঈদ আমাদের সামষ্ঠিক জীবনে যে মিলন ও শুভবুদ্ধির দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তার মূল্য অপরিসীম।

ঈদে প্রবাসীরা দেশে ফিরতে প্রবাসী আকুল হয এবং ফিরেও। প্রিযজনের সঙ্গে ঈদ করার যে আনন্দ তা কেবল একাকী করলেই উপলব্ধি করা যায়। একা একা আনন্দ হয় না, দুঃখ হয়, কষ্টরা এসে বুকে বাসা বাঁধে।

রাজধানী ঢাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। যানজট নেই। এ এক অচেনা ঢাকা। হয়তো কারো কারো ভালো লাগে। তবে এ ভালো লাগা সাময়িক। অস্বস্তিও হয়। কেমন যেনো। এই ফাঁকা ঢাকা ভালো লাগে এমনটি জোর করে বলা যাবে না। খুব মোটা মানুষ যদি হঠাৎ শুকিয়ে যান, কেমন লাগবে? ঢাকার একটা নিজস্ব চেহারা আছে। সেটাতেই আমরা অভ্যস্ত। হঠাৎ এত ফাঁকা! মনটাও ফাঁকা হয়ে যায়।

ঈদে রাজধানীতে নিরাপত্তার প্রশ্ন আসে। পুলিশ বলছে, বন্ধের সময় শপিং মলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত। বাসাবাড়িতে ভালোমতো তালা দিয়ে দেশের বাড়িতে যেতে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। তার এই বক্তব্যকে হাস্যকর বললেও তিনি যে আতঙ্ক ও আশঙ্কার মাত্রা বাড়াতে পেরেছেন তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

পুলিশ বলছে তারা রাজধানীতে তিনস্তরে নিরাপত্তা ছক করেছে। কিন্তু পুলিশের এসব ছক যে কেবল মুখের কথা তা দেশবাসী জানে। একজন তো রেগেই বলে ফেললেন, ‘‘পুলিশ কেবল দুটো ছক করতে জানে- একটি হচ্ছে মানুষকে হয়রানি, আরেকটি ঘুষ খাওয়ার ছক, নিরাপত্তার ছক পুলিশের জানা নাই।’’ এই নিয়ে তর্ক করলে হেরে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এ বিষয়ে চুপ থাকাই ভালো।

কিন্তু চুপ থাকলেই তো আর সমাধান নয়। সমাধানহীন সমস্যা নিয়ে নগরবাসী অভ্যস্ত। এরপরেও বলা যায়, নিরাপত্তাহীনতাই ঈদের আনন্দের সবচেয়ে বড় বাঁধা।

বদলে যাচ্ছে অনেক কিছু
সময়ের সাথে সাথে ঈদের আনুষ্ঠিকতারও অনেক বদল ঘটেছে। একসময় ঈদ সংখ্যা ছিল ঈদের আলোচ্য বিষয়। এখন আর সেটি আগের মতো নেই।  যারা লেখালেখি করেন কেবল তারাই এর খোঁজ রাখেন। সাধারণ জনগণ এ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।

এর জায়গা দখল করেছে টেলিভিশন। দুই ডজনেরও বেশি টিভি চ্যানেলে এত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে যে কারো পক্ষে এর একশভাগের একভাগও দেখা সম্ভব নয়। আর অনুষ্ঠানের চেয়ে বিজ্ঞাপনেরই সময় বেশি। এরপরেও বলা যায়, এখন টেলিভিশন ঈদ উৎসবের অংশ হয়ে গেছে। এর ভালো মন্দ নিয়ে তর্ক করা যাবে, কিন্তু এড়ানো যাচ্ছে না।

এক সময় ঈদকার্ডের কতোই না রমরমা ব্যবসা ছিল। আজাদ প্রোডাক্টস এই ঈদকার্ড বিক্রি করেই নামডাকঅলা হলো। কিন্তু সেই দিন আর নেই। মোবাইলে এসএমএস করে ঈদ শুভেচ্ছা দেয়া এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। আর ফেসবুক টুইটারে যা হচ্ছে, তা তো এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। চাঁদ-তারা-ফুল-পাখি কত যে ছবি! কত যে ডিজাইন! তার ইয়ত্তা নাই। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ব্লগ। মোটকথা, ভার্চুয়াল জগত এখন তরুণদের ঈদের সময়ের অনেকটাই খেয়ে নিচ্ছে। আর প্রিয়জনের সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলার যে আনন্দ তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল জগতে আবেগের মাত্রা কম, যোগাযোগ সহজ। আর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক বিপরীতমুখি। এ কারণেই অনেক আগেই যাযাবর লিখে গেছেন, ‘বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ।’

কিন্তু আমাদের আবেগের পরিমাণ সম্ভবত এত কম নয় যে শেষ হয়ে যাবে। বাসে-লঞ্চে-ট্রেনে ঘরমুখো মানুষকে দেখলে সেটি টের পাওয়া যায়। যে জাতির নাড়ির টান এত প্রবল তারা আবেগহীন হয়ে যাবে- এমনটি হতে পারে না।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট