Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ঈদের পর চূড়ান্ত আন্দোলন বিএনপির

ঈদের পর নতুন করে জনমত গঠনের আন্দোলনে নামবে বিএনপি। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে জেলা ও বিভাগীয় সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচির মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমেই শুরু হবে সে আন্দোলন। সরকারের আচরণের ওপর ভিত্তি করে তীব্র হবে আন্দোলনের মাত্রা। সরকার দমন-নিপীড়নের পথে গেলে হরতালের মতো কর্মসূচি দিতেও দ্বিধা করবে না বিরোধীদল। সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলনের ওয়ার্মআপ শুরু হলেও জোরদার করা হবে বছরের শেষে। আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখবে বিএনপি। সরকারের তরফে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামবে বিরোধীদল। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা এমন মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। দলীয় সূত্র জানায়, ঈদের পর কয়েকটি জেলা সফরে যাবেন বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি দেশের সর্বশেষ সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য দেবেন। একই সময়ে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি, মানববন্ধন, জনসংযোগের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে কিছু সাংগঠনিক টিম গঠন করা হবে। টিমগুলো সারাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলাগুলোতে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠন ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিগুলো নিরসনের উদ্যোগ নেবেন। একই সময়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশী রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। ঈদের পর আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঈদের পর নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আমরা নতুন করে আন্দোলন শুরু করবো। শান্তিপূর্ণ সে আন্দোলন সরকারের আচরণের ওপর ভিত্তি করে গতি পাল্টাবে। তাই এখনই কর্মসূচি নিয়ে কিছু বলা যাবে না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিক্ষোভ, মানববন্ধন, অনশন, রোড মার্চ, লংমার্চ, হরতাল ও অসহযোগ সব ধরনের কর্মসূচিই দেয়া হবে। তবে তীব্র আন্দোলনের স্বার্থে কঠোর কর্মসূচিই দেয়া হবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, আন্দোলন হঠাৎ করেই হয় না। নির্দলীয় সরকারের দাবি, নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর সন্ধানসহ জাতীয় একাধিক ইস্যুতে আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে। রমজানের কারণে কড়া আন্দোলনে কিছুটা ছেদ টানা হয়েছে। ঈদের পর নতুন করে জনমত গঠনের কর্মসূচির মাধ্যমেই আন্দোলন শুরু হবে। সরকার জনগনের দাবিগুলো মেনে নিলে দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল। না মানলে পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র হবে এবং চূড়ান্ত রূপ পাবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ বলেন, চট করে আন্দোলন হয় না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনবিচ্ছিন্ন সরকারের বিরুদ্ধে ঈদের পর লড়াই শুরু হবে। বিরোধী নেতা নিজেই জনমত গঠনের উদ্দেশে দেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেলা সফর করে জনসভা করবেন। সরকার জনগণের দাবি মেনে না নিলে সময়ের সঙ্গে আন্দোলন বেগবান হবে। পরবর্তী যে কোন পরিস্থিতির জন্য দায়ী থাকবে সরকার। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই অগণতান্ত্রিক পথে হেঁটেছে। সরকারের বিপরীতে বিএনপির অবস্থান ছিল পরিবর্তনমুখী। কিন্তু এ ইতিবাচক অবস্থানকে দুর্বলতা বিবেচনা করে সরকার দমন-নিপীড়ন, খুন-গুমের রাজনীতি করেছে। এখন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে জবাব দেয়ার চূড়ান্ত সময় আসছে। সময়ের বিবেচনায় কর্মসূচি প্রণয়ন করবে নীতিনির্ধারক মহল। তবে রমজানসহ নানা কারণে চলমান আন্দোলনে দীর্ঘ বিরতির ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা নিষ্ক্রিয়তার সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের পর প্রথমেই নেতাকর্মীদের মধ্যে আন্দোলনের মেজাজ তুঙ্গে তোলার কর্মসূচিই আসতে পারে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট