Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে রাজি করান, ওআইসি’কে রাষ্ট্রপতি

মক্কা, ১৬ আগস্ট: মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘুদের (রোহিঙ্গা) রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন-সহযোগিতা দেয়ার মাধ্যমে তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবন যাপনের ব্যবস্থা করতে দেশটির সরকারকে রাজি করাতে ওআইসি’র (অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কান্ট্রিস) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। সৌদি আরবের মক্কা’য় সংস্থাটির চতুর্থ বিশেষ অধিবেশনের সমাপনীতে বৃহস্পতিবার তিনি আহ্বান জানান। খবর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস’র।

ওআইসি’র এই বিশেষ অধিবেশনটিতে সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নিয়েছেন।

অধিবেশনের সমাপনীতে রাষ্ট্রপতি তার বক্তৃতায় বলেন, ‘‘এই দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে আমাদের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।’’ সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রাষ্ট্রপতি জানান, মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে সর্বশেষ সহিংসতার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার দূতও মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম সংখ্যালঘুদের অবস্থা গভীর উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিষয়টি শুধু মুসলিমদের ও তাদের ইমানের সুরক্ষার নয় বরং সার্বজনীন মানবাধিকারের জন্য উদ্বেগের।

তিনি বলেন, ‘‘পৃথিবীর নৈতিকতার পুনর্জাগরন ঘটাতে হবে আমাদের এবং এই সংখ্যালঘুদের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে দরকারি পদক্ষেপ নিতে হবে।’’

রাষ্ট্রপতি বলেন, মুসলিমদের প্রতি এমন নির্যাতন ও বেইনসাফির দৃষ্টান্ত হয়ে আছে ফিলিস্তিনের প্রশ্নটি।

জিল্লুর রহমান বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণের মৌলিক অধিকারের প্রতি বাংলাদেশ বরাবরই তার অনড় ও অবিচল সমর্থন বজায় রেখে আসছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘প্রথাগত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি, বিশেষত অমুসলিম দেশগুলোর জনগণ যাতে (সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে) তাদের সরকারকে প্রভাবিত করতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের সৃজনশীল কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।’’

পৃথিবীর মোট রাষ্ট্রসংখ্যার তিন ভাগের একভাগই মুসলিম দেশ এবং মোট জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ মুসলিম- এ বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে ইসলামের মহান শিক্ষা নিয়ে পৃথিবীতে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার কাজে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে মুসলিমরা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতির কারণে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের এই সুমহান মূল্যবোধ হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখন প্রচুর সংঘাত ও মতানৈক্যের মুখোমুখি হচ্ছি। এসব আজ শুধু মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে নয়, বরং দুঃখজনকভাবে মুসলিমদের নিজেদের মধ্যেও।’’

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কালে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে রাষ্ট্রপতি তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘এমনকি এই রমজান মাসেও সিরিয়ায় সীমাহীন হত্যাযজ্ঞ অবশ্যই ধৈর্য্য ও দয়াশীলতার ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’’

তিনি বলেন, এইসব সংঘর্ষেরে চালিকাশক্তি প্রসঙ্গে বিতর্ক হতে পারে; কেউ এগুলোকে গণতন্ত্র অর্জনের পথে দরকারি ক্ষয়ক্ষতি হিসাবে দেখতে পারেন, কেউ এগুলোকে বিশ্বায়নের প্রভাব বলতে পারেন, কেউ একে বাইরের শক্তির ষড়যন্ত্রও বলতে পারেন। কিন্তু যুক্তি যাই হোক না কেনো, কোনো পরিস্থিতিতেই এমন দুর্ভোগ ন্যায্যতা পায় না।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের নাগরিকদের মৌলিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে এমন মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। ক্ষুধা, ভয় ও অমর্যাদার থেকে মুক্তি নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এমন রাজনৈতিক সংকট এড়ানো সম্ভব।’’

তিনি বলেন, ‘‘মধ্যস্থতা ও আলোচনার ইসলামি ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে এর একটা অহিংস সমাধানে পৌঁছাতে হবে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ আশা করে সিরিয়া সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।’’

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট