Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বাংলাদেশে সহায়তা বাতিলের হুমকি দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ’র প্রতি আহ্বান

 শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে সরকারের হস্তক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ
প্রকাশ করেছেন এক সময়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের মতো বহুমুখী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা বাতিল করার হুমকি দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান দেশগুলোর প্রতি আহ্বান পর্যন্ত জানিয়েছেন। পাশাপাশি এর প্রতিবাদে বিশ্বনেতাদের সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছেন তিনি। ১৪ই আগস্ট অনলাইনে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনের শিরোনাম- ‘ঢাকা ফরক্লোজেস দ্য গ্রামীণ ব্রান্ড’। এতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সম্ভাব্য যে কোন উপায়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উৎখাত করতে চায়। তারা মনে করেন- তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘস্থায়ী হুমকি তিনি। উইলিয়াম বি. মাইলাম বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল স্টোর ফর স্কলারস-এর সিনিয়র স্কলার। ওই প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন- বাংলাদেশে গত ১৮ মাসে গ্রামীণ ব্যাংক ও এর প্রতিষ্ঠাতা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। অনেকে মনে করেন, ড. ইউনূস এই হুমকির কথা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। কিন্তু এই মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার তার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করেছে। তার মন্ত্রিপরিষদ ক্ষুদ্রঋণের এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত পরিচালনা ট্রাস্টিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি সরকার নিয়োজিত চেয়ারম্যানকে একটি সিলেকশন কমিটি গঠনের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এই কমিটি গ্রামীণ ব্যাংকে শিগগিরই একজন নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেছে নেবে। এই সিদ্ধান্ত ড. ইউনূসকে অবমাননা করার নতুন একটি রূপ, যা শুরু হয়েছে গত বছর। ড. ইউনূস দীর্ঘদিন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত বছর সরকার তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তারপর তারা বিতর্কের ফাঁদ পাতে এই বলে যে, ক্ষুদ্রঋণদাতারা হলো ‘রক্তচোষা’। আসলে এর উল্টোটাই সত্য। তাহলো- অত্যধিক সুদে যেসব দাদন ব্যবসায়ী টাকা খাটায় গরিব ঋণগ্রহীতাদের কাছে তাদের বিকল্প হলো এই ব্যাংক। উইলিয়াম বি. মাইলাম লিখেছেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় ড. ইউনূস ব্যাংকের ঋণসুবিধা নিয়ে ব্যাংকের আইন ভঙ্গ করেছেন কিনা সে প্রশ্ন তুলে মন্ত্রিপরিষদ তার সততাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তারা আরও অভিযোগ করেছে, বিদেশ থেকে যে অর্থ পেয়েছেন তাতে ড. ইউনূস অন্যায়ভাবে কর রেয়াত নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির তদন্ত শুরু করা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কারণ, এটা ক্ষুদ্রঋণকে মডেল ব্যাংকের রূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এখান থেকে জামানত ছাড়াই বা কোন গ্যারান্টার ছাড়াই গরিব নারীদের ঋণ দেয়া হয় উপার্জনমুখী বিনিয়োগে। এই ধারণাটি ধার করে তা বিশ্বজুড়ে চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করেছে। ২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার গ্রামীণ ব্যাংককে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। তখন নোবেল কমিটি বলেছিল- তারা নিম্ন থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সৃষ্টিতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। গরিবদের নিজেদের সহায়তা করার ক্ষমতা তাদের দিয়ে তারা সরকারের ওপর ওই গরিবদের নির্ভরতার সংস্কৃতিকে খর্ব করেছে। সরকারের ওপর ওই নির্ভরতা বাংলাদেশের গরিবদের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বন্ধনে আবদ্ধ করে। উইলিয়াম বি. মাইলাম লিখেছেন- ২০১১ সালের মে মাসে আমি ঢাকা সফর করেছি। তখন ড. ইউনূসের সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তাকে আমি ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিক থেকে চিনি। বেশ কিছু দিন ধরেই তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছেন। এমনকি তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পরও। তিনি জোর দিয়ে নিশ্চয়তা চাইছিলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া তার উত্তরসূরি যাতে ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন করতে পারে। এখন এটা নিশ্চিত দেখা যাচ্ছে, তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন যে ব্যাংকের নেতৃত্ব দিয়েছেন তা নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে চলে যাবে। মাইলাম লিখেছেন- অনেক বাংলাদেশী আমাকে তখন বলেছেন এবং এখন মনে করেন যে, সম্ভাব্য যে কোন উপায়ে ড. ইউনূসকে তাড়াতে চায় আওয়ামী লীগ। অনেকেই মনে করেন, এ সমস্যার মূলে রয়েছে বাংলাদেশ যখন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছিল তখন ২০০৭ সালে ড. ইউনূস সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির একজন সম্ভাব্য নেতা হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। বাংলাদেশের তখনকার অকার্যকর বড় দু’টি দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার স্থান তাকে দিয়ে পূরণ করা হবে। ওই দু’নেত্রীর ব্যক্তিগত রেষারেষি উন্নয়নকে অসম্ভব করে তুলেছে। কিন্তু তাদের সরিয়ে দিয়ে তাদের আসনে আসার কথা ড. ইউনূস কখনও লালন করেননি। তিনি তখন তা প্রত্যাখ্যানও করেননি। তবে তৃতীয় শক্তি আসেনি। উপরন্তু অনেক বাংলাদেশী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক এখন এমন এক অবস্থায় চলে এসেছে যে, তা দুর্নীতিতে জড়িত সরকারের পক্ষে লুফে নেয়া সহজ। সরকারি কর্মকর্তারা গ্রামীণ ব্যাংকের মূল্যবান সম্পদগুলো এখন লুটেপুটে নিতে পারে। তারা এ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা নারীদের ফাঁদে ফেলতে পারে এবং তাদেরকে তাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে তারা ঋণের হার কমিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে অথবা ঋণ মাফ করে দিতে পারে। এই স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে বিশ্বনেতাদের মনোযোগী হওয়া এবং এর নিন্দা জানানো উচিত। কিন্তু তারা তা করছেন না। গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক রকম হতাশা নিয়ে আমি ২০১১ সালের সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরে আসি। তারপর আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমার উদ্বেগ নিয়ে কথা বলি। কিন্তু তারা তা তেমন গায়ে মাখেন না। তখন তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। এখন এক বছরেরও বেশি সময় পরে বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তের খবরের পর আমাকে বলা হলো- যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন। ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংককে রক্ষার জন্য পশ্চিমা যে সব নোবেলজয়ীর সমর্থন তিনি পেয়েছেন তা কাজে আসেনি। এর কারণ, পশ্চিমা সরকারগুলো ড. ইউনূসের পক্ষ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের ১৫ মাসের মধ্যে শেখ হাসিনা যে কূটচাল দিয়েছেন তা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যরা বুঝতে পারেনি। তারা ছিল মোহের মধ্যে। কিন্তু এ ব্যাংকটি রক্ষার জন্য এখন অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। এই ব্যাংক শুরুতে যে সতর্কতা উচ্চারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র এখন তা নিয়েই কাজ করছে। কিন্তু এখন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্য কোন সরকারের কথায় কান দিচ্ছেন না, তার লক্ষ্য অর্জনে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উইলিয়াম বি. মাইলাম বলেছেন, আমি নিশ্চিত, কথার চেয়ে কাজ করতে হবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান দেশগুলোর ও অন্যান্য বহুমুখী সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বব্যাংকের মতো দ্বিপক্ষীয় সহায়তামূলক কর্মকাণ্ড বাতিল করার হুমকি দিতে হবে। বিলম্বিত হওয়ায় এ কাজে এখন সহায়তাকারী পাওয়া হবে কঠিন। দক্ষিণ এশিয়ায় চাপ সৃষ্টির অন্যান্য যে বিষয় আছে তা-ও অনেক দূরের ব্যাপার। দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমাদেরকে এখন ক্ষুদ্র ঋণের এই প্রবর্তকের হারিয়ে যাওয়া ও প্রান্তসীমায় চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট