Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘হাসিনার কর্মকাণ্ডের দিকে সতর্ক নজর ভারতের’

 নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনাকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে হবে। ওই সব কাজ তিনি কিভাবে করবেন তা নিয়ে ভারতের সতর্ক নজর থাকবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনার বিষয়টি অনুধাবন করা না হলেও ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মতোই অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন হিন্দুস্তান টাইমসে  ‘লেট আস থিঙ্ক স্মার্ট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এর লেখক ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইয়িং (র)-এর সাবেক সচিব বিক্রম সুদ। ১৪ই আগস্টের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধের বিচার করা শেখ হাসিনার জন্য কঠিনই হবে। বিএনপিও নিশ্চিত করতে চায় নির্বাচন পর্যন্ত এই বিচার বিলম্বিত হোক। এতে আরও বলা হয়, গতকাল ছিল বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালে সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে নিহত হওয়ার পর থেকে ১৯৯১ সালে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে স্বৈরশাসন বলবৎ ছিল। জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)  ১৯৯১-এর  নির্বাচনে জয়লাভ করেছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার মাধ্যমেই বাংলাদেশে প্রায় দুই দশক পর ভারতবান্ধব সরকার ক্ষমতায় আসে। বাংলাদেশের জন্য ২০১৩ সালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এ বছরই শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুই প্রধান দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর প্রতিপক্ষ বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি নিজেদের অবস্থান দখলের প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে। দুই দলের তিক্ত বৈরিতার পরিণতিই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং ভারতের সঙ্গে এর সম্পর্ক নির্ধারিত হবে। শীর্ষ স্থান দখলের লড়াইয়ে দু’দলই বেশ কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে। ১৯৯১ সালের পর থেকে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ পালাবদল করে ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত দুই দলই প্রায় সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তাদের ২৩০ আসন নিশ্চিত করতে ৪৯.২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিএনপি ৩০ আসনের জন্য পেয়েছে ৩২.৭ শতাংশ ভোট। আওয়ামী লীগ কি এর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে? যদি তাই হয় তাহলে আওয়ামী লীগকে তাদের আসন ধরে রাখার জন্য কি করতে হবে আর তাদেরকে পরাজিত করতে বা বিরোধী দলকে কি করা উচিত হবে? এ জবাব নিশ্চয়ই আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনাকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে হবে। ভারতও বাংলাদেশের নানা ঘটনায় উদ্বিগ্ন থাকবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনার বিষয়টি অনুধাবন করা না হলেও ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেকটা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মতোই অনেকাংশে গুরুত্বপূর্ণ। যেসব বিষয়ে ঘনিষ্ঠ নজর রাখতে হবে এবং যা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে সেটি হলো ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত নৃশংসতার জন্য যুদ্ধাপরাধের বিচারের অগ্রগতি। এখন পর্যন্ত ওই বিচারে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃস্থানীয় সাত নেতা এবং পরে বিএনপিতে যোগ দেয়া দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এই নয় জনের বিরুদ্ধে ১০০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগে এ বিচারের কাজ শেষ করা শেখ হাসিনার সরকারের জন্য বেশ কঠিন হবে। বিএনপি ইতিমধ্যেই এ বিচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে শুরু করেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী উভয় দলই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রহসন বলে উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছে। গত জুন মাসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হুমকি দিয়ে বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রক্রিয়া আওয়ামী লীগই দাবির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। অবশ্য বিএনপি-জামায়াতের বর্তমান পরিকল্পনা হচ্ছে নির্বাচন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা। শেখ হাসিনা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে সাহসিকতা আর দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিচয় দিয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত এ বিচার শুরু করেছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিষয়টি এখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দুই দলের সংঘাতের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সামরিক নেতৃত্বের সরকার এবং দুই মেয়াদে বিএনপি সরকার যে ইতিহাস বিকৃতি ঘটিয়েছিল শেখ হাসিনাকে সেই বিকৃত ইতিহাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক থেকে যুদ্ধাপরাধ এবং এর সহযোগীদের ব্যাপারে সব ধরনের রেফারেন্স মুছে ফেলা হয়েছিল। এর পরিবর্তে সেখানে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের হত্যা আর ধর্ষণের ব্যাপারে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছিল। ১৯৮১ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে বাংলাদেশের গণহত্যাকে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২৬৭ দিনের ওই হত্যাযজ্ঞে কমপক্ষে ১৫ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। অন্য হিসেবে বলা হয়েছে, এতে ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা এবং দু’লাখ নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী তাদের ধর্মীয় মতবাদের ঘাঁটির কাছে এ ব্যাপারে আবেদন জানাবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এছাড়া, তারা অভিযোগ করছে- সরকার জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক ভাবে দমন করার অস্ত্র হিসেবে এ বিচারকে ব্যবহার করছে। খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদেই জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরসহ অনেক কট্টরপন্থি সংগঠন একটি বাহিনীতে যোগ দেয়। এরই ফলস্বরূপ তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ৫০টি শহরে ২০০৫ সালের ১৫ই আগস্ট একযোগে ৫০০টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বাহিনীকে নিষিদ্ধ করে এর নেতাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলেও জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ এবং জামাত-উল মুজাহেদীন বাংলাদেশের মতো এর অনুসারী সংগঠনগুলো এখনও রয়েছে। জামায়াত তাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য এদেরকে ব্যবহার করতে চাইবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিএনপি- জামায়াত নেতৃত্বাধীন দল কি আবার ক্ষমতায় আসবে? সেনাবাহিনীর সঙ্গেও শেখ হাসিনার দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে সামরিক বাহিনীর র‌্যাংকে বিপ্লব ঘটেছিল। অবশ্য সেটাকে সফলভাবে নস্যাৎ করা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সরকারের নীতির কারণে সামরিক বাহিনীর ভিতরে সরকারের বিরুদ্ধে উষ্মা কেবল বাড়ছে। হিযবুত তাহরীর এবং সেনাবাহিনীর ভেতরের ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রভাব কেবল বেড়েই চলেছে। সামপ্রতিক কিছু ঘটনাও শেখ হাসিনার পক্ষে যায়নি। তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন করা হয়নি। নয়া দিল্লি যদি কলকাতার চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে থাকে তাহলে এটা হয়তো কখনওই করা সম্ভব হবে না। এ ব্যর্থতাকে বিরোধীরা বঞ্চনা হিসেবে পুঁজি করবে। ভারত সরকারকে আরও ইতিবাচক হতে হবে। কারণ এর ফলে ভারতের প্রাপ্তি হবে অনেক বেশি। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ২.৯ বিলিয়ন ডলার প্রত্যাহার করে নেয়া শেখ হাসিনার সরকারের জন্য বড় একটি বাধা। এ ব্যাপারে ভারতের গড়িমসির কারণে চীন তাড়াতাড়ি করে সুযোগটি নিয়েছে এবং এর নির্মাণকাজে অর্থায়নের প্রস্তাব করেছে। এটা এবং তিস্তার মতো বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই অনেক সময় বলা হয় ‘ভারত প্রতিশ্রুতি দেয়, চীন পূরণ করে’। একটি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের গভীর আগ্রহ থাকা উচিত। ভারতকে এ ব্যাপারে আরও সক্রিয় হয়ে কাজ করা উচিত। অন্যথায় ডানপন্থি ধর্মীয় মৌলবাদের প্রতি বাংলাদেশের ঝুঁকে পড়া ভারতের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট