Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

বিশেষজ্ঞদের মত- এতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি হবে

ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া মেধার সঠিক যাচাই হবে না। এতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি হবে। শুধু প্রভাবশালী মহলের ছেলে-মেয়েরাই ভর্তি হবে। ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া মেধা চলে যাবে নির্দিষ্ট কিছু পকেটে। তারাই নির্ধারণ করবে কারা মেডিকেলে পড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের কোন ছেলে-মেয়ে মেডিকেলে পড়তে পারবে না। পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে জিপিএ’র ভিত্তিতে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তির সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসকরা এ মন্তব্য করেন। রোববার এক সভার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক জানান, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য চলতি বছর থেকে আর ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে না। এখন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএ’র ভিত্তিতেই এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। হাইকোর্টে রিট-ও করেছেন একজন আইনজীবী। প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাবিদরাও। ভর্তির আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা মিলিয়ে অন্তত জিপিএ-৮ থাকার শর্ত দেয়া হয়েছে। চলতি বছর ১০টি শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬১ হাজার ১৬২ জন। আর জিপিএ-৫ থেকে ৪ পেয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৬৩৯ জন। সব মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থী ২ লাখ ৮২ হাজার ৮০১ জন। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী থেকে কিভাবে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন অনেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, মেডিকেলে ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়ে থাকে। অতীতে যে প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা হয়েছে সেটাই ছিল উত্তম পথ। তা নিয়ে কেউ কোন প্রশ্ন তোলেনি। নিজেদের হাতে কেন দায়িত্ব তুলে নিয়েছে ? কে এই দায়িত্ব পালন করবে? কে সেই নেতা? এতে ভর্তি বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, গত বছর অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও মেডিকেলের আশায় ভর্তি হয়নি। তাদের কি হবে? ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাটা মূল বিষয়। এটা কেন উঠিয়ে দিচ্ছে ? শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার সুযোগ দিতে হবে। তারা ছোট শিশু নয়। এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেছে। একবার ভর্তি হলে তাদের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি হবে। পরীক্ষা না থাকলে ভর্তি বাণিজ্য হবে। ভর্তি পরীক্ষাই উত্তম পন্থা। ঢাবি’র আরেক সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সর্বদা পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এটা একটা ঐতিহ্য হয়ে গেছে। প্রভাবশালীদের নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের জন্য এটা করা হয়েছে। পরীক্ষা কমিটি বা কলেজের অধ্যক্ষদের দিয়ে তাদের ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করাবে। পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের স্বার্থ হাসিল হতো না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটা পদ্ধতি চলে আসছিল। এটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিল। সরকার কি সেটাতে আস্থা রাখতে পারছে না ? তাতে কি সমস্যা ছিল তা যথাযথভাবে সরকার ব্যাখ্যা করেনি। ভর্তি প্রক্রিয়া পরিবর্তন নিয়ে কি সেভাবে আলোচনা হয়েছে? আমরা বিষয়টা পুরোপুরি জানি না। কেন তারা বাতিল করলো সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেনি। তিনি বলেন, জিপিএ’র ভিত্তিতেও ভর্তি করা যায়। সেক্ষেত্রে বোর্ড থেকে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর উত্তোলন করতে হবে। সে নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি করলে কোন সমস্যা নেই। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আরও বলেন, সরকার এলাকা ভিত্তিক কোটা ব্যবস্থা চালু করতে পারে। সেক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েদের ও অভিভাবকদের হয়রানি কমবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কাতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। তাদের তেমন সমস্যা নেই। এখন প্রশ্ন হলো, আমাদের পাবলিক পরীক্ষা কতটা স্বচ্ছভাবে হচ্ছে বা মানুষ কতটা আস্থা রাখতে পারবে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক তাজমেরী এসএ ইসলাম বলেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের গ্রেট ইন্টারেস্ট আছে। এর ফলে মেধার যাচাই হবে না। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ হবে। অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার এটা করেছে। নির্দিষ্ট কিছু লোকের পকেটে মেধা চলে যাবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হয়ে আসছে। এটা বাতিল করার কারণ হচ্ছে নিজেদের লোকদের ডাক্তার বানানো। যাতে সাধারণ ঘরের কোন ছেলে-মেয়ে ডাক্তার হতে না পারে। বাংলাদেশ চিকিৎসা সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক জিএস ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, পরীক্ষা বাদ দেয়াটা ঠিক হয়নি। সরকার বুয়েটের মতো শর্ত দিয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমাতে পারতো। নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা হতে পারে। তিনি বলেন, সরকার যে পদ্ধতির কথা বলছে তাতে সমস্যা হবে। অনেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। মেডিকেলে সিট সংখ্যা কম। কাকে রেখে কাকে বাদ দেবে? তিনি বলেন, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কথাও বাদ দেয়া যায় না। দেখা গেল একই জিপিএ পেয়েছে কয়েকজন। সেক্ষেত্রে কাকে রেখে কাকে বাদ দেবে- এটা একটা প্রশ্ন থেকে যাবে। তিনি বলেন, সরকার হয়তো কোচিং বন্ধ করতে গিয়ে ও শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের হয়রানি কমাতে গিয়ে এটা করেছে। কিন্তু তারা এটা প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা ছাড়া মেধার যাচাই সঠিকভাবে হয় না। শুধু এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করা সঠিক হবে না। জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি হুসাইন আহমেদ তফসির বলেন, পরীক্ষা বাদ দিয়ে সরকার কাজটা ঠিক করেনি। তিনি বলেন, পরীক্ষা ছাড়া মেধার যাচাই হবে না। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে মেধার যাচাই হবে না। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ প্রাধান্য পাবে। মেডিকেলে ভর্তিচ্ছুক ফেরদৌসী আরা বলেন, যাদের জিপিএ একটু কম, তারা তাহলে কি করবে? ভর্তি পরীক্ষার সময় কাছাকাছি চলে এসেছে। তাই এখন তো আর বুয়েট বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নেয়া যাবে না। ফেরদৌসী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসিতে ভাল ফলের জন্য পাঠ্য বইয়ের নির্দিষ্ট কিছু অংশ ভালভাবে পড়লেই হয়। কিন্তু মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করার জন্য পুরো বই পড়তে হয়। তাই আমাদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ দেয়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হোক।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট