Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সিলেট হাউজ নিশ্চুপ সাইয়ারার চোখে পানি

 চার মাস কেটে গেল। ঈদ আসছে। কিন্তু বাবা ফিরে আসেনি। ফেরার নাম গন্ধও নেই। প্রতিবছরের মতো বাবার  হাত ধরে যাওয়া হয়নি মার্কেটে। পোশাকের রঙ নিয়ে খুনসুটি করছে না কেউ। বেড়ানোর প্রস্তুতিও নেই। মায়ের বিমর্ষ মুখ। ভাইদের চেহারায় জমেছে কালো মেঘ। ঈদের আনন্দ নেই সিলেট হাউজে। নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর শিশুকন্যা সাইয়ারা নাওয়ালের চোখে পানি।
ইলিয়াস আলীর রাজনৈতিক সহকর্মী ও পারিবারিক বন্ধু ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, সারা বছরই লোকে গিজগিজ করতো ইলিয়াস আলীর কাকলী ডিওএইচএস-এর বাসা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসতো ঘন হতো ভিড়। উপচে পড়তো উৎসবের আবহ। ঈদের দিন প্রিয় নেতা ইলিয়াস আলীর বাসায় ছুটতেন দলীয় অনুসারীরা। ছোট্ট সে বাসায় লোক ধরতো না। ইলিয়াস আলী অনুসারীদের বলতেন, একটু অপেক্ষা করো। বনানীতে বাড়িটির কাজ শেষ হলেই সবাই একসঙ্গে বসতে পারবে। সবাইকে নিয়ে নতুন বাড়িতে ঈদ করবো। বনানীর ‘সিলেট হাউজ’-এ তিনি উঠেছিলেন বছরের শুরুতে। কিন্তু অনুসারীদের নিয়ে নিজের বাড়িতে ঈদ করা হয়নি তার। নতুন বাড়িতে বাবার সঙ্গে কাটবে না তার সন্তানদের ঈদ। বনানীর ‘সিলেট হাউজ’ নামের এই বাড়িতে এবার নেই কোন ধরনের ঈদ প্রস্তুতিও। আপনজনের মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যরা রূঢ় বাস্তবতা মেনে সামলে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু আপনজন নিখোঁজ হলে তাদের সান্ত্বনার জায়গা থাকে না। তাদের প্রতীক্ষা ফুরোয় না, মাটি হয়ে যায় উৎসবের আনন্দ।
ড. হিলালী বলেন, ইলিয়াসের তিন সন্তান বাবাকে ছাড়া কখনও ঈদ করেনি। ঈদের আগে বাবার সঙ্গে মার্কেটে মার্কেটে ঘুরে কেনাকাটা করেছে। এবার ইলিয়াস আলী নেই, তার পরিবারে ঈদও নেই। ইলিয়াসের ছোট্ট মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল বাবাকে ছাড়া ঈদ করতে চাইছে না। কেনাকাটা করতে মার্কেটে যেতে চাইছে না। তার একটাই কথা, ‘আমার বাবাকে এনে দাও। বাবার সঙ্গে মার্কেটে যাবো। বাবার সঙ্গে ঈদ করবো।’ একইভাবে ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, আমাদের ঈদ হারিয়ে গেছে। ঈদের দিন সবার জীবনে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে। কিন্তু আমাদের পরিবারে বয়ে আনছে কান্নার রোল।’ ড. হিলালী বলেন, ইলিয়াসের অনুুপস্থিতির যন্ত্রণা নিয়েই এবার গ্রামের বাড়িতে ঈদের দিন কাটাবে তার পরিবার। শোকে শয্যাশায়ী দাদিকে সঙ্গ দেবে ইলিয়াসের সন্তানরা। শাশুড়ির আঁচলে আশ্রয় খুঁজবে ইলিয়াসের স্ত্রী।
ড. হিলালী জানান, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর লন্ডন থেকে ছুটে এসেছে তার ছোটভাই আছকির আলী। ভাইয়ের ছোট ছোট সন্তানদের বাবার স্নেহে আগলে রেখেছে। চাচার স্নেহে মাঝে-মধ্যে বাবার কথা ভোলার চেষ্টা করতো সাইয়ারা নাওয়াল। আছকির সিলেটে মায়ের কাছে যাওয়ায় কয়েকদিন ধরে ছোট্ট মেয়েটি নিশ্চুপ হয়ে গেছে। কেবল কাঁদছে।
ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে আবরার ইলিয়াস। এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো সে শুনতে পেয়েছিল বাবার নিখোঁজ সংবাদ। বুকে পাথর চেপে পরের পরীক্ষাগুলোতে অংশ নিয়েছিল আবরার। কিছুদিন আগে ফল প্রকাশ হয়েছে। মেধাবী আবরার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ইলিয়াস আলীর ছোট ছেলে লাবিব শারার রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র। ছোট মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। এখন স্কুল-কলেজ বন্ধ। তারা তিনজন সারা দিন বাসায়ই থাকছে। সব সময় গেটে তালাবন্ধ বাসায় তাদের দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। কিন্তু ভয় আর আতঙ্কে গুমরে মরছে বাইরে বেরুনোর আগ্রহ। ঈদের কোন কেনাকাটা হয়নি তাদের। ইলিয়াস আলীর ছোট ছেলে লাবিব শারার জানায়, প্রতি বছর বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরে ঈদের কেনাকাটা করি। ঈদ করি সিলেটে গ্রামের বাড়িতে। গত বছর বাবা আমাকে একটি শর্ট পাঞ্জাবি কিনে দিয়েছিল। এবার সে স্মৃতি মনে পড়ে খারাপ লাগছে। কেনাকাটায় আমাদের কারও কোন আগ্রহ নেই। তবু ছোট্ট সাইয়ারা নাওয়ালের জন্য কিছু কেনাকাটা হয়তো করতে হবে। উল্লেখ্য, গত ১৭ই এপ্রিল মধ্যরাতে বাড়ি ফেরার পথে মহাখালী এলাকা থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। স্বজনরা জানান, আনসার ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ফলে ছোট্ট শিশুকে নিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় প্রহর গোনা আনসারের পরিবারেরও কারও ঈদের কেনাকাটা হয়নি।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট