Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ঘুষের আখড়া মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়

 ঘুষের রেট নানা রকমের। ঈদ-পূজায় বেড়ে যায় এ রেট। সর্বোচ্চ হার ১৫ শতাংশ। নতুন বেতন স্কেল সংযোজন থেকে প্রথম বেতন ওঠানো পর্যন্ত কোন কাজই ঘুষ ছাড়া হয় না সেখানে। এ চিত্র মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক (সিজিএ) কার্যালয়ের। ২৩ ধরনের দুর্নীতি হয় এ কার্যালয়ে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চিত্র। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারের এ প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয়। সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও টিআইবি’র সদস্য হাফিজউদ্দিন খান এই দুর্নীতি রোধে সরকারের মনোযোগহীনতাকেই দায়ী করেন। অন্যদিকে টিআইবি’র প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অনিয়ম ও দুর্নীতির যে ক্ষেত্রগুলো টিআইবি চিহ্নিত করেছে, সেগুলো হলো- নতুন বেতন স্কেল সংযোজন, প্রথম বেতন, বোনাস, ঠিকাদারের বিল, গাড়ির  তেল/গ্যাস ও রক্ষণাবেক্ষণ বিল, ইন্টারনেট ও  টেলিফোন বিল, কুরিয়ার বিল, শ্রমিক মজুরির বিল, টিএ, ডিএ বিল, কন্টিনজেন্সি বিল, পেনশন, টাইম স্কেল সংযোজন। কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণ, বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট, এলপিসি, জিপিএফ একাউন্ট স্লিপ, জিপিএফের টাকা তোলা, পরামর্শকের বিল, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, পোশাক ভাতা, কম্পিউটার বিল এন্ট্রি, চেক ডেলিভারি ও ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি পেয়েছে টিআইবি। এছাড়া নিয়োগ, পদায়ন ও বদলিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঠিকাদারদেরকে তাদের বিলের ওপর আনুপাতিক হারে ঘুষ দিতে হয়। বিলের পরিমাণ ১ লাখ টাকা হলে ৫ থেকে ১০ ভাগ, বিল ১ থেকে ৫ লাখ টাকা হলে ১ থেকে দেড় ভাগ, বিল ৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে হলে দশমিক ৫০ ভাগ থেকে ১ ভাগ এবং বিল কোটি টাকার বেশি হলে দশমিক ২০ থেকে দশমিক ৫০ ভাগ পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। মে-জুন মাসে ঘুষের পরিমাণ ১০ ভাগ পর্যন্ত পৌঁছায়। ঈদে-পূজায় এ হার আরও বেড়ে যায়। পেনশন পেতে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি ঘুষের লেনদেন হয়। জিপিএফ-এর টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লাগে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরদের টিএ, ডিএ বিল পাস করাতে সাধারণত ১ থেকে ১০ ভাগ পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয়ের  বিল পাস করাতে ১ থেকে ৫ ভাগ পর্যন্ত ঘুষ লাগে। এতে বলা হয়, দুর্নীতির কারণে সেবা-গ্রহীতাদের হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, পদায়ন ও বদলির কারণে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত গবেষণায় পরোক্ষ সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্য ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ডিজি অফিস, ডিপার্টমেন্ট ও বোর্ড, সরকারি কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৩০টি সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিজিএ, সিএজি অফিসের প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় ১৫০ জন মুখ্য তথ্যদাতার কাছ থেকে চেকলিস্টের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সংবিধান সংশোধন ছাড়াই অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশে বাংলাদেশের হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ) কার্যালয়কে মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয় থেকে পৃথক করার ফলে সিজিএ কার্যালয়ের কার্যক্রমে সৃষ্ট স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গবেষণা ভিত্তিক প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষক দিপু রায়। মহাহিসাব নিরীক্ষক আহমেদ আতাউল হাকিম বলেন, গুরুত্ব অনুযায়ী যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়নি বলেই হিসাব ও নিরীক্ষা অফিসের কাজের ক্ষেত্রে কোন গতিশীলতা নেই। সংবিধান অনুযায়ী অডিটর জেনারেলকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তিনি নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সে অনুযায়ী কাজ করতে পারছেন না। একটি অডিট আইনের অনুপস্থিতির কারণে অডিটর জেনারেলগণ কোন প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন না। অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বনিম্ন স্তর পর্যন্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব হবে না। এম. হাফিজউদ্দিন খান বলেন, সিজিএ অফিস ঠিকমতো কাজ করছে কিনা সে বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের যথাযথ নজরদারি প্রয়োজন। এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের সবাই করে না। ব্যক্তিগতভাবে এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের ওপর বর্তিত দায়িত্ব কিভাবে পালন করছি সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়। আমাদেরকে অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে- যাতে একটি দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে পাই। সিজিএ কার্যালয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় টিআইবি বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে- অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য নৈতিক আচরণ বিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নৈতিকতা কমিটি গঠন, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতকরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের দুর্নীতি বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণের জন্য একজন ন্যায়পাল নিয়োগ, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সম্পদের বাৎসরিক হিসাব ও বিবরণ প্রকাশ এবং পর্যায়ক্রমে অ্যাক্রুয়াল ভিত্তিতে হিসাব পদ্ধতির প্রবর্তন। এছাড়াও অর্গানোগ্রাম ও জনবল, প্রশিক্ষণ এবং মনিটরিং সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট