Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

টাওয়ার হ্যামলেটসে বাধা পেয়ে লন্ডনের রাস্তায় সৈয়দ আশরাফ

লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে বাধা পেয়ে রাজপথে সমাবেশ করতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তাকে টাওয়ার হ্যামলেটসে শুক্রবার একটি সমাবেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল চেয়ারম্যান রাজিব আহমেদ। কিন্তু আগে থেকেই কাউন্সিল চেম্বার ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। শুক্রবার কাউন্সিলের টাউন হলে সমবেত হন বিশিষ্টজনেরা। কিন্তু তখনই অগ্নিকান্ডের সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। একটানা ১৫ মিনিট এ সংকেত বাজানোর ফলে উপস্থিত অতিথিদের তড়িঘড়ি করে সরিয়ে আনা হয়। তাদেরকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সেখানেই বক্তব্য রাখেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে টাওয়ার হ্যামলেটসে। ঘটনার তদন্ত দাবি করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে দ্য ডকল্যান্ড অ্যান্ড ইস্ট লন্ডন এডভারটাইজার। মাইক ব্রুকের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের এই মন্ত্রীর টাওয়ার হ্যামলেটস অলিম্পিক বরোতে যোগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু যখন টাউন হলে ভিআইপি অতিথিদের সঙ্গে তিনি সমবেত হয়েছেন তখনই রহস্যজনকভাবে ওই আগুনের সংকেত বাজানো হয়। এতে সব আয়োজন ভেস্তে যায়। এ ঘটনায় টাউন হল কর্মকর্তারা শুক্রবারই বিরোধীদলীয় কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেন। তারা এ ঘটনার তদন্ত দাবি করেন। সৈয়দ আশরাফকে নিয়ে কাউন্সিল ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। তার এ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এরই মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন  লেবার ও টোরি দলের কাউন্সিলররা। তবে জবাবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল উল্টো কিছু অতিথিকে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ও নিয়মের ব্যত্যয় করেছেন। তাছাড়া, কাউন্সিল চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সরকারের যে সদস্যকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তা ছিল একেবারেই ব্যক্তিগত। টাউন হল থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, হলে অতিথিরা প্রবেশের সামান্য পরেই আগুনের সংকেত বাজানো হয়। ততক্ষণে অতিথিদের অনেকেই বেপরোয়া ও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতে থাকেন। আমাদের স্টাফদের সঙ্গে সহিংস আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের আগেই আমরা সতর্কতার বিষয়টি মাথায় রাখবো। তবে কোন হুমকি থাকার কথা অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলররা। উল্টো তারা যুক্তি তুলে ধরেন অনেক অতিথিকে লবিতে আটকে রাখা হয়েছিল। তাদেরকে অভ্যর্থনায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছিল না অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে। তারা অভিযোগ করেন, কাউন্সিল চেম্বার তালাবদ্ধ রাখার জন্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। লন্ডন অলিম্পিক উপলক্ষে সৈয়দ আশরাফ লন্ডনে রয়েছেন। টাউন হলে ওই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই তাকে অন্য ভিআইপি অতিথিদের সঙ্গে পাশের একটি অফিসে নিয়ে সেখানে নিজের লোকেরা তাকে ঘিরে নিরাপত্তা দেন। আগুনের সংকেত কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বাজানো হয়েছিল কিনা তা যাচাই করতে লেবার ও টোরি দলের কাউন্সিলররা সিসিটিভির ফুটেজ পরখ করার আহ্বান জানিয়েছেন। লেবার দলের ডেপুটি গ্রুপ লিডার মতিনউজ্জামান বলেছেন, আমরা নিশ্চিত হতে চাই এ ঘটনার জন্য যিনিই দায়ী হোন না কেন তার নাম প্রকাশ করা হোক। কারণ এ ঘটনা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। আগেভাগেই তার কাছে বাংলাদেশী মন্ত্রীর সফর নিয়ে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। টোরি দলের নেতা পিটার গোল্ড বলেছেন, কাউন্সিল চেম্বার বন্ধ করে রাখা আমাদের জন্য বিব্রতকর। এতে টাওয়ার হ্যামলেটসকে লজ্জায় ফেলা হয়েছে। কাউন্সিল চেম্বারের ওই হলে ভিআইপি অতিথিদের সঙ্গে আটকা পড়েছিলেন পপলার অ্যান্ড লাইমহাউজ এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিক। তিনি বলেছেন, হল ব্যবহারে এই নিষেধাজ্ঞা এক রকম অপমান। তিনি বলেছেন, আমরা অলিম্পিককে কেন্দ্র করে যখন বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত করেছি তখন এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। এক্ষেত্রে মেয়র লুৎফর রহমান বড় ভুল করেছেন। তার প্রত্যাখ্যানের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অতিথিরা অপমানিত হয়েছেন। তার এ আচরণ স্বেচ্ছাচারী, মেয়র অফিসকে হেয় করা।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট