Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের স্বাধীনতা চায় আমেরিকা

ওয়াশিংটন, ১১ আগস্ট: আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক প্রিন্সিপাল ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগসহ সার্বিক কাজের ক্ষেত্রে তার দেশ চায় ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদ স্বাধীন থাকুক। তিনি এও বলেন যে, এখন নতুন এমডি নিয়োগে পরিচালনা পরিষদ ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পরামর্শ নিলে ‘খুব ভালো হয়’। এ বিষয়ে একটি বিশেষ সাক্ষৎকার ভিত্তিক প্রতিবেদন শনিবার প্রচারিত হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বেতার- ভয়েস অব আমেরিকা’য়।

আনিস আহমেদে’র নেয়া সাক্ষাৎকারে জেফ পায়টের কছে জানতে চাওয়া হয় যে যুক্তরাষ্ট্র যে উদ্বেগ প্রকাশ করছে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনার বিষয়ে তার কারণ কি ?

পায়ট বলছেন যে, বাংলাদেশের সুশীল সমাজের সজীবতা এবং এই সুশীল সমাজের সংগঠনগুলো যে সাফল্য অর্জন করেছে অর্থনৈতিক এবং তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়নে, সেটি বাংলাদেশকে দিয়েছে নিজস্ব এক বৈশিষ্ট । আর এই সাফল্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ  হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক। সুতরাং আমরা ওই ব্যাংকটির অব্যাহত কার্যকারিতা , সংহতি ও স্বাধীনতা দেখতে আগ্রহী। সুতরাং আমাদের উদ্বেগ হচ্ছে যে এমন কোন পদক্ষেপ নেওযা উচিৎ নয় যা কীনা ব্যাংক পরিচালনায় প্রভাব ফেলবে এবং নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে গ্রাহক ও অংশীদারদের ভূমিকাকে খাটৌ করে। সুতরাং আমাদের কথা হচ্ছে যে ব্যাংকটির নিয়ম-নীতি সেই ভাবেই সমুন্নত রাখা হোক যাতে বোর্ডের মহিলা সদস্যরা যথারীতি ব্যাংকের পরিচালনায় তাদের ভূমিকা পালন করতে পারে।

পায়টের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সচিব বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে প্রকৃত পক্ষে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান নন, বোর্ডই ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নিয়োগ দেবে এতে কি এ বিষয়টি নিয়ে কোন ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসন ঘটছে?

তিনি বলেন, দেখুন আমাদের মূল কথাটা হচ্ছে যে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ করুক এবং খুব ভালো হয় যদি এ ব্যাপারে ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূসের পরামর্শে তা করা হয়। আমরা এমন যে কোন পদক্ষেপকে স্বাগত জানাবো যা ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে গোটা বোর্ডের ভূমিকা নিশ্চিত করে । আর যেমনটি গোড়াতেই বলেছি ব্যাংকের স্বাধীনতা রক্ষা করার ওপরই আমরা জোর দিচ্ছি যা কীনা ব্যাংকের সকল গ্রাহক –অংশীদারের স্বার্থের অনুকুল হবে।

ড. ইউনূসের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ  দিয়েছে যে ৬০ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যে বেতন এবং ভাতা পেয়েছেন তা বৈধ হয়েছে কীনা সেটা খতিয়ে দেখতে । নোবেল বিজয়ী ড. ‍মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো  সম্ভাব্য ব্যবস্থা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মন্তব্য কি ?

আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রিন্সিপাল ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি বলেন যে দেখুন প্রথমত আমরা ড. ইউনূসকে একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে, বাংলাদেশের  অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম একজন  সফল নেতা হিসেবে  এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সম্মানিত একজন ব্যক্তি হিসেব গভীর ভাবে শ্রদ্ধা করি।

তিনি বলেন যে অবিশ্বাস্য রকমের চমকপ্রদ কাজ যে তার স্থাপিত প্রতিষ্ঠানটি করছে সেটি দেখার অভিজ্ঞতা তার হয়েছিল। তবে এ কথা বলে ও বলবো যে বাংলাদেশের নিজস্ব আইন সমুন্নত রাখতে হবে।

গ্রামীণ ব্যাংক কিংবা অধ্যাপক ইউনুসের ব্যাপারে সরকার যে রকম ব্যবস্থাই নিক না কেন, তাতে কি বাংলদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সম্পর্কে কোন রকম নেতিবাচক ছায়াপাত ঘটবে , আমার এই প্রশ্নের জবাবে পায়ট বলেন  যে বিষয়টিকে আরো ইতিবাচক ভাবে দেখতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্য এবং বাংলাদেশে সুশীল সমাজের সাফল্য আসলে বাংলাদেশ সরকারের  প্রতি  এবং বাংলাদেশের জনগণ যে সাফল্য অর্জন করছে তা আমাদের সম্মানেরই অংশ। ইতিবাচক ভাবে দেখলে বলবো যে গ্রামীণ ব্যাংক একটি সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং সব রাজনৈতিক নেতারই অহঙ্কার করার কথা। আর আমরা আশা করবো  যে সরকার এবং নেতারা এমন ব্যবস্থা নেবেন যাতে সেই সা্ফল্যের কথা সংরক্ষিত থাকে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট