Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচে কম খাদ্য নিরাপত্তা বাংলাদেশে

ঢাকা, ১০ আগস্ট: বিশ্বের মোট ১০৫টি দেশের নাগরিকদের খাদ্য ক্রয়ক্ষমতা, খাদ্যের সহজলভ্যতা এবং খাদ্যমানের বিবেচনা করে দি ইকনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’র প্রকাশিত বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচক ২০১২’তে দেখা গেছে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা সবচেয়ে কম।

আঞ্চলিক ভিত্তিতে শ্রেণীবিন্যাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পেছনে থাকার একইসঙ্গে সারা বিশ্বের ‘স্বল্প আয়ে’র ২৪টি দেশের মধ্যেও মিয়ানমার ও নেপালের চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

সূচকে দেখা গেছে শ্রীলংকা, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, ও নেপালের বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা অনেক কম। আর বৈশ্বিকভাবে খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থা ৮৪ তম। খাদ্য ক্রয়ক্ষমতা, সহজলভ্যতা এবং মানের বিবেচনা ভিত্তিক সূচক নির্ধারণী মোট ১০০ মানের মধ্যে বাংলাদেশের প্রাপ্তি মাত্র ৩৪.৬।

আলাদা আলাদা বিষয়ের প্রতিটিতে ১০০ মানের মধ্যে আটটিতে বাংলাদেশের অর্জন ২৫-এর নীচে। এগুলোকে সূচকের নিয়ম অনুসারে খাদ্য নিরাপত্তার মাত্রা বাড়ানোর পথে বাংলাদেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে  কৃষিখাতে গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মসূচি, এবং খাদ্যরুচিতে বৈচিত্র নেই। এছাড়া মাথাপিছু জিডিপি, অনুপুষ্টি উপকরণ, ও আমিষের মান বাড়াতে হবে, দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসরত মানুষের পরিমাণ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি কমাতে হবে এবং খাদ্য সরবরাহের পর্যাপ্ততা বাড়াতে হবে।

অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশে তিনটি ইতিবাচক শর্ত আছে বলে উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হচ্ছে খাদ্যের পুষ্টিমান খুবই ভালো- এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন একশতে একশ। তাছাড়া কৃষি উৎপাদন পরিবর্তনশীল (১০০’তে ৯৪.২) এবং কৃষকরা খুব সহজেই অর্থায়নের সুবিধা পান (১০০ তে ৭৫)।

সূচকে দেখা যায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খাদ্য নিরাপত্তার দেশ হচ্ছে শ্রিলংকা, মোট ৪৭.৪ মান পেয়ে বৈশ্বিক অবস্থা ৬২তম। ভারত ৪৫ মান নিয়ে ৬৬তম, ৩৮.৫ মান নিয়ে পাকিস্তান ৭৫ তম, ৩৭.২ মান নিয়ে মিয়ানমার ৭৮তম এবং এরপরে আছে নেপাল ৭৯তম।

সম্পদশালী রাষ্ট্রগুলোই খাদ্য নিরাপত্তার এই সূচকে ওপরের দিকে আছে; সবার ওপরে আছে যথাক্রমে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও ফ্রান্স, এরপরেই আছে উত্তর ইউরোপিয় দেশগুলো ও অস্ট্রেলিয়া।

দি ইকনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’র তথ্য অনুসারে, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা’র বিশ্বে খাদ্য অনিরাপত্তার বার্ষিক অবস্থা, আন্তর্জাতিক খাদ্য নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান’র বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক এবং ম্যাপলক্রফট’র খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সূচক সহ খাদ্য নিরাপত্তার ওপর অন্যান্য গবেষণার ওপর ভিত্তি করে এই সূচকটি তৈরি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই সূচকে যখন বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার এই অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তখন বিগত সরকারের মতো বর্তমান সরকারও যদিও দাবি করে আসছে যে দেশ খাদ্যে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’। কিন্তু  দি ইকনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এই সূচকে দেখা যাচ্ছে বর্তমানেও ‘খাদ্য সরবরাহের পর্যাপ্ততা’র ক্ষেত্রে মোট ১০০ মানের মধ্যে বাংলাদেশের প্রাপ্তি মাত্র ২২.৪।

এছাড়া, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কোনো সুফল যুক্ত হচ্ছে না খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ানোর পথে। যে তিনটি দিককে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা’র শক্তিশালী দিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে তার দুটোই- খাদ্যের পুষ্টিমান এবং কৃষি উৎপাদনের পরিবর্তনশীলতা স্পষ্টতই প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া সুবিধা। তৃতীয়টির ক্ষেত্রেও- খুব সহজেই কৃষকদের অর্থায়নের সুবিধা পাচ্ছেন প্রধানত ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে।

এদিকে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাচ্ছেন বৃটিশ সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ আয়োজিত ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইভেন্ট’- এ যোগ দিতে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এ আয়োজন থেকে বিশ্বের দরিদ্র শিশুদের পুষ্টি উন্নয়ন ও অনাহারের হার কমানোর প্রচেষ্টা জোরদার করতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহবান জানাবেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট