Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘আপত্তি না থাকলে সরকারের তিন শতাংশ শেয়ার কিনতে রাজি’

গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের অন্যতম সদস্য রোজিনা বেগম বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের একশ ভাগ শেয়ারের ৯৭ ভাগ গরিব মানুষের, কেবল তিন শতাংশ সরকারের। তাই গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ একমাত্র ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদই দিতে পারে। তবে আপত্তি না থাকলে সরকারের ওই তিন শতাংশ শেয়ার গ্রামীণ ব্যাংক কিনে নিতে রাজি আছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে গ্রামীণ ব্যাংক রক্ষা ও দুর্জন প্রতিরোধ কেন্দ্র আয়োজিত ৮৫ লাখ দরিদ্র মহিলাকে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে আলোচনা সভায় তিনি বলেন,  এই ব্যাংক হাজার হাজার গ্রামীণ গরীব মানুষের কষ্টের ফসল। তাই দায়িত্বশীল হলে সরকার কখনোই এই ব্যাংকটির ক্ষতি ডেকে আনবেন না।

সরকারের কাছে রোজিনা বেগমের অনুরোধ, “চক্রান্ত করে হাজার হাজার মানুষের রুটি রুজির পথ বন্ধ করে দিবেন না”।

নিজের অভিজ্ঞতার বর্ননা দিতে গিয়ে এই সদস্য বলেন, আমার স্বামী গ্রামের হতদরিদ্র রিঙাচালক। সেই সুত্রে আমিও চিন্তা করেছিলাম আমার ছেলেরা রিঙাচালক হবে। কিন্তু গ্রামীন ব্যাংক আমাকে ভালোভাবে বাঁচতে শিখিয়েছে। এখন আমার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলী খান। তিনি বলেন, “ড. ইউনুস নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, সেজন্য যদি সরকার ইর্ষাকাতর হয়, তাহলে ভুল করবে। কারণ, এই নোবেল পুরস্কার শুধু ড. ইউনুস পাননি, সরকারও পেয়েছে। কারণ, গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারেও তিন শতাংশ শেয়ার আছে”।

আকবর আলী খান বলেন, “১৯৯৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটনের এক বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে ভুয়সী  প্রশংসা করেন । ২০০০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের একটি বক্তব্যে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে বাংলাদেশের সাফল্যের কথাও বলেন। আজ সেই প্রধানমন্ত্রীই কিভাবে ড. ইউনুসকে রক্তচোষা বলছেন তা আমার বোধগম্য নয়”।

“সরকার বলছে গ্রামীণ ব্যাংক বেশি সুদ নিচ্ছে। কিন্তু তা নিশ্চয় সরকারি ব্যাংকগুলোর চেয়ে বেশি নয়,” যোগ করেন তিনি।

কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ আনতে কতটা তদবির করতে হয়, ঘুষ দিতে হয়। তার সার্বিক হিসাব যে কোন ব্যাংকের সুদের হার ছাড়িয়ে যাবে বলেও তিনি মনে করেন।

সরকারের সাবেক এই আমলা সরকারকে অনুরোধ করে বলেন, মেহেরবানী করে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকার তার সমস্যাটা জানালে, “গ্রামীণব্যাংকও সরকারকে সহযোগীতা করবে”।

সরকার দুর্নীতির পক্ষে সাফাই  গাইছেন অভিযোগ তুলে সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, “স্টক মার্কেট থেকে অর্থ লোপাটকারীদের বিচার করতে গেলে, তারা বলে লোপাটকারীরা সন্মানী ব্যক্তি। কিন্তু নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসকে নিয়ে যখন সমালোচনা করা হয়, মিথ্যা হয়রানী এবং বক্তব্য দেওয়া হয় তখন তারা কি ড. ইউনুসকে অসন্মানী ভাবেন?”

গ্রামীণ ব্যাংকের অধ্যাদেশের পরিবর্তনের দরকার আছে কিন্তু তা গণতান্ত্রিক ভাবে হওয়া দরকার বলেও তিনি মনে করেন।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরল বলেন, এই সরকারের কার্যকলাপ দেখে মনে হয় তারা দুষ্টকে লালন করছে, আর শিষ্টকে দমন করে। এজন্যই বোধহয় রাষ্ট্রপতি অন্যায়কারীদের ক্ষমা করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থা মহাজনদের চাপে মহিলাদের আত্নহত্যার প্রবণতা বন্ধ করেছে।

তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের উপর সরকারের এই অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে দুঃখ করে বলেন, চরম অসহায়ত্ব এবং ক্ষোভ প্রকাশ ছাড়া কিছুই করার থাকে না।

সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম.মুনির উজ-জামান।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট