Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান: জাতিসংঘ বলছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনী জড়িত, বাংলাদেশের ‘না’

ঢাকা, ৮ আগস্ট: মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যের সর্বশেষ সহিংসতা ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা’ নয়, বরং রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নির্মূল অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি- এমনটি যখন বলছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো, এমনকি জাতিসংঘও সর্বশেষ সহিংসতায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনী জড়িত বলে উল্লেখ করছে; তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, এটা রাষ্ট্রীয় নির্যাতন নয়, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।

ভারতের বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনডিটিভি’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এ দাবি করেন। চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বারখা দত্তকে মঙ্গলবার দেয়া সাক্ষাৎকারটির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত হয় বুধবার।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আরাকান রাজ্যে গত জুন থেকে চলমান রোহিঙ্গা দমনাভিযানের শুরু থেকেই কোনো আশ্রয়াপ্রার্থীকে নিজেদের সীমানায় ঢুকতে না দেবার ঘোষণা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার।

এ প্রসঙ্গে আলাপে বারখা দত্ত উল্লেখ করেন যে, অনেকে বলছেন বাংলাদেশ যদি তাদের ঢুকতে দিতো তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সাহায্য নিয়ে এগিয়ো আসতো।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “শরণার্থী শিবিরগুলোতে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাসহ অনেকে সাহায্য করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এটা এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যে আমরা আর এ ভার নিতে পারছি না।”

দীপু মনি বলেন, ‘‘আমরা যা করেছি তা হচ্ছে, যখন কিছু লোক নৌকায় করে এসেছিল তখন আমরা তাদের জ্বালানি দিয়েছি, আমরা তাদের ওষুধ দিয়েছি, আমরা তাদের জ্বালানি দিয়েছি যাতে তারা নৌপথে আটকে না পড়ে এবং আমরা তাদের ফিরিয়ে দিয়েছি।’’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘এবারও কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছিল, অতীতের মতো রাষ্ট্রীয় নির্যাতন নয়। ঘটনাগতভাবেই এবার অতীতের চেয়ে ভিন্ন অবস্থা ছিল। সে কারণেই আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের প্রতিক্রিয়া কোনোভাবেই অযৌক্তিক ছিল না। এবং আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা সঠিক কাজটিই করেছি। আমরা যা দিতে পারতাম, তার সর্বোচ্চই দিয়েছি।’’

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন ও বাংলাদেশ সরকার চলমান সহিংসতায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও বেসরকারি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, অধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলছে ভিন্ন কথা।

আরাকানের রাজধানী আকিয়াব (সিতউয়ি), মংডু ও বুথিডং শহ কয়েকটি শহরের স্থানীয় সূত্র ও আরাকান ভিত্তিক কয়েকজন মানবাধিকার কর্মী ও ব্লগার, গত ৩ জুন সহিংসতা শুরু হবার দুদিন পর চট্টগ্রাম ফিরে আসতে সক্ষম হওয়া বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী ব্যবসায়ী এবং ইয়াংগুনস্থ বার্মিজ মুসলিম অ্যাসোয়েশন (বিএমএ) –এর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে ভিত্তিতে গত ৮ জুনই বার্তা২৪ ডটনেট ‘মিয়ানমারে সহিংসতায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলছে’ শীর্ষক খবর প্রকাশ করে।

খবরে বলা হয়, ‘‘চলমান রোহিঙ্গা বিরোধী সহিংসতায় আরো একটি নতুন মাত্রা হচ্ছে, দেশটি এখন পর্যন্ত যাদের ‘অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী’ হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করে রেখেছে রাষ্ট্রীয়ভাবে- আইন অনুযায়ী নাগরিকত্বের স্বীকৃতিহীন সেই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ই শুধু নয়- দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসী নানা জাতিগোষ্ঠির ইসলাম ধর্মালম্বী সংখ্যালঘুরাও এর শিকার। তাছাড়া সরকার এবং রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো একে স্রেফ ‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা’ বলে বর্ণনা করা হলেও এখন প্রমাণ মিলছে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী এতে সক্রিয়ভাবে সংখ্যালঘুদের দমনে অংশ নিয়েছে।’’

এরপর জুন মাসের শেষ দিক থেকে আল জাজিরা ও এবিসিসহ বৃটেনের দি গার্ডিয়ান এমন পরিস্থিতির সত্যতা নিয়ে অনেক খবর দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অধিকার সংস্থাগুলো মিয়ানমার সরকারকে অভিযুক্ত করেছে সংখ্যালঘু দমন ও বর্ণবাদী সহিংসতা দায়ে। সর্বশেষ জাতিসংঘও এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে মিয়ানমার সরকারকে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রধান নাভি পিল্লাই গত ২৮ জুলাই এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী দাঙ্গাকারীদের হাত থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষা করার পরিবর্তে তাদের ওপর দমন অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “বিভিন্ন নিরপেক্ষ সূত্র থেকে আমাদের কাছে স্রোতের মতো খবর আসছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী মুসলমানদের সঙ্গে চরম বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী আচরণ করেছে। এমনকি তারা মুসলিম নিধনেও অংশ নিচ্ছে।”

জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের প্রধান বলেন, মিয়ানমার সরকার আরাকান প্রদেশ সফরের জন্য জাতিসংঘের পরিদর্শক টমাস ওজিয়া’কে যে আমন্ত্রণ জানিয়েছে তা আশাব্যাঞ্জক হলেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের কোন বিকল্প হতে পারে না।

পরে জাতিসংঘ দূতকে একদিনের আরাকান সফরের অনুমতি দেয় মিয়ানমার সরকার। সফর শেষে মানবাধিকার বিষয়ক দূত টমাস ওজিয়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে উল্লেখ করে সহিংসতা বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান গত রোববার। তিনি জরুরি ভিত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

কিন্তু বুধবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন পরিস্থিতির সতত্য অস্বীকার করেন।

এদিকে আরাকান রাজ্য থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আসা অনিবন্ধিত শরণার্থীদের চিকিৎসাসহ ন্যূনতম মানবিক ত্রাণ সেবাদানকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থ কার্যালয়ে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা। এ বিষয়ে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে একটি খবর দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের কক্সবাজারে আশ্রিত এসব রোহিঙ্গা শরণার্থীর সাহায্যার্থে নিয়োজিত তিনটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কাজে গত বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। সংস্থা তিনটি হচ্ছে ফ্রান্স ভিত্তিক ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (মেডিসিন সান ফ্রন্টিয়ার্স- এমএসএফ) ও অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার এবং বৃটেন ভিত্তিক মুসলিম এইড- ইউকে। এনজিও ব্যুরোর নির্দেশে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন তাদের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

প্রসঙ্গত, অর্ধশতাব্দি কাল ধরে চলা রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের মুখে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা প্রায়ই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত শিবিরে বাস করছে তারা। এদের অনেককে দেশে ফেরত নিলেও ‘বাধ্যতামূলক শ্রমশিবিরে’ বন্দি জীবনযাপন করতে বাধ্য করার অভিযোগ আছে মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট