Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

১৪ আগস্টের রেলের টিকিট ২ ঘণ্টায় শেষ

ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য রেলের আগাম টিকিট বিক্রির প্রথম দিন গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে সকালে প্রচণ্ড ভিড় থাকলেও দুপুরের পর স্টেশন ছিল অনেকটাই ফাঁকা। তবে টিকিট প্রত্যাশীদের অনেকে টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বরাবরের মতোই রেলস্টেশনে রাত কাটান। টিকিট ছাড়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ১৪ আগস্টের সব আসনের টিকিট শেষ হয়ে যায়। শনিবার রাত থেকে স্টেশনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাননি বেশির ভাগ যাত্রী। এ ব্যাপারে কমলাপুর রেলস্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অনেক যাত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে স্টেশন ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ করেন।
টিকিট বিক্রির প্রথম দিন কমলাপুর রেলস্টেশনের অধিকাংশ টিকিট প্রত্যাশী ছিলেন শিক্ষার্থী।
তবে ঈদের ঝক্কিঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য
পরিবারকে আগেভাগে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার জন্যও অনেকে কাটছেন তিন-চারদিন আগের টিকিট। বেসরকারি একটি ফার্মে চাকরিরত রোমেল কমলাপুর রেলস্টেশনে প্রথম দিকেই টিকিট পাওয়া সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের একজন। তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যা থেকে তিনি স্টেশনে অপেক্ষা করে রোববার সকালে টিকিট পান। পরিবারের ঈদের কেনাকাটা এখনও হয়নি জানিয়ে রোমেল বলেন, আগে ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করা, পরে কেনাকাটা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল শনিবার রাত ১১টা থেকে স্টেশনে বসে থেকে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার প্রথম শ্রেণীর টিকিট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন উচ্চৈঃস্বরে। ১৪ তারিখের টিকিট কিনতে আসা সাফায়েত হোসেন বলেন, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে এখানে দাঁড়িয়েও তূর্ণা-নিশীথা ও গোধূলির কোনো টিকিট পাওয়া যায়নি। টিকিট কিনতে আসা ফৌজিয়া আক্তার বলেন, কমলাপুর স্টেশনেই লাইনে দাঁড়িয়ে গতকাল সেহরি খেয়েছেন। তবুও চট্টগ্রামের কোনো আসনের টিকিট মেলেনি। তিনি অভিযোগ করেন, তার আগে মাত্র ৪০ জন থাকলেও চট্টগ্রামের কোনো ট্রেনের আসন তিনি পাননি।
যাত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার খায়রুল বশীর বলেন, সবার আসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কারণ চাহিদার তুলনায় রেলের আসন সংখ্যা অনেক কম। বিভিন্ন কোটার বিষয়ে তিনি বলেন, আসনের ক্ষেত্রে কিছু কোটা রয়েছে, যেমন_ স্টাফ, ভিআইপি ও রেগুলার কোটা। ই-টিকিটিংয়ের জন্য ২৫ শতাংশ কোটা রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা স্টেশনে ঈদে প্রতিদিনের বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে মোট আসন সংখ্যা ১২ হাজার ৯৪৯। এর মধ্যে ই-টিকিটিংয়ের জন্য বরাদ্দ ২৫ ভাগ, ভিআইপি আসন ৫ ভাগ এবং স্টাফদের জন্য মোট আসনের ৫ ভাগ বরাদ্দ।
কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা যায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটের মহানগর গোধূলি, মহানগর প্রভাতী ও তূর্ণা-নিশীথার সব আসনের টিকিট শেষ। ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের সব রুটের ট্রেনেরও আসন শেষের পথে বলে একাধিক বুকিং সহকারী জানান।
টিকিট বিক্রির প্রথম দিন কালোবাজারিদের খুব একটা দৌরাত্ম্য ছিল না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এমনকি লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে কিছু টাকার বিনিময়ে টিকিট কিনে দেওয়া চক্রেরও দেখা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রেলওয়ের নিরাপত্তা বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় প্রধান ইকবাল হোসেন সমকালকে বলেন, সকালেই আমরা ওই চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে লাইন থেকে বের করে দিয়েছি। ফলে লাইনে কোনো ঝামেলা নেই। তবে এ অবস্থা টিকিট বিক্রির আগামী দিনগুলোতেও থাকবে কি-না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন অনেকে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেনাসের কর্মী জাহিদ হোসেন জানান, অতিরিক্ত দামে টিকিট কাটতে হয়নি, রাতে কালোবাজারিদের ঝামেলা ছিল না, সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনে ফেললাম। প্রতিবার টিকিট বিক্রির প্রথম দিন এরকমই থাকে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, মন্ত্রী বা টিভি ক্যামেরা প্রথম দিন থাকে বলে সবকিছুই নিয়মমাফিক চলে। তবে বিক্রির শেষদিন এবং যাত্রার শুরুর দিন থেকে কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যে টেকা যায় না।
কমলাপুরের স্টেশন মাস্টার জানান, এ বছর টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রেল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নিজেদের দায়িত্বের অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ করছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, র‌্যাব, ডিএমপি ও জিআরপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট