Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জাতীয় নির্বাচনের রিহার্সাল!

পলিটিক্স ইজ আর্ট অফ কমেপ্রামাইজ। সারা দুনিয়ার রাজনীতির ক্ষেত্রে এ কথা সত্য হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তা সত্য নয়। এখানে সমঝোতার নজির খুবই কম। দশম সংসদ নির্বাচন এখনও বহু দূরে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০১৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে হবে নির্বাচন। তবে নির্বাচনকে ঘিরে নানা শঙ্কা এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নানা তত্ত্ব এখন বাজারে। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিবিসি’র হার্ডটকে বহুদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব দেয়ার পর এ নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। যদিও বিরোধী দল এরই
মধ্যে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এখনকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, কে হবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান? সমঝোতার চেষ্টা যখন চলছে তখন গৃহপালিত বিরোধী দল সৃষ্টির নির্বাচনের কথাও শোনা যাচ্ছে। যদিও একদলীয় নির্বাচন অথবা গৃহপালিত বিরোধী দল তৈরির নির্বাচন কোনটাই এ ভূমে নতুন কিছু নয়।
এই যখন অবস্থা তখন গাজীপুর-৪ আসনের উপ-নির্বাচনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের একটি রিহার্সেল হয়ে যেতে পারে। আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের সংসদ থেকে পদত্যাগের পর এ আসনটি শূন্য হয়। প্রথমে স্থানীয় বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। প্রার্থী হিসেবে তারা দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ’র নাম ঘোষণা করেছিল। কিন্তু কয়দিন পর বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসে ভিন্ন। দলটির স্থায়ী কমিটি এ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৮ দলীয় জোটভুক্ত কোন দলই এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে নির্বাচন থেমে থাকছে না এতে। মহাজোটভুক্ত দু’টি দলের মধ্যেই এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টি এ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত এমনটা হলে পর্যবেক্ষকরা দশম সংসদ নির্বাচনের একই ধরনের পরিণতির দিকেও খেয়াল রাখবেন। বিএনপি’র পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বারবার বলা হয়েছে, নির্দলীয় সরকার ছাড়া দলটি কোন নির্বাচনে অংশ নেবে না। বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না আসে তাহলে কি হবে? এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সামনে কয়েকটি পথ খোলা থাকবে। বিকল্প হিসেবে জামায়াতকে নির্বাচনে নিয়ে আসার চেষ্টা করবে ক্ষমতাসীনরা। একটি সূত্রের দাবি, এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে জামায়াতের দু’-তিনজন নেতার আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ওই আলোচনা বেশি দূর এগোয়নি। শীর্ষ নেতাদের ব্যাপারে নিশ্চয়তা না পেয়ে জামায়াত কোন ধরনের সমঝোতায় যেতে চায় না। অন্যদিকে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ব্যাপারে সরকারও জামায়াতকে কোন ধরনের নিশ্চয়তা দিতে চায় না। সর্বশেষ জামায়াতের নির্বাহী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মীর কাসেম আলীকে গ্রেপ্তারের পর সমঝোতার সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করে দলটি। জামায়াতও নির্বাচনে না এলে সরকারের সামনে একটি বিকল্পই খোলা থাকবে। তা হবে মহাজোট শরিকদের আলাদা আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়া। এ ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারে জাতীয় পার্টি। এরশাদ জমানাতেই বাংলাদেশে এ ধরনের বিরোধী দলের দেখা মিলেছিল। আখেরে কোন লাভই হয়নি। দু’বছরের মাথায় সব কিছু ওলট-পালট হয়ে গিয়েছিল।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট