Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জেরায় তদন্ত কর্মকর্তার অসত্য তথ্য বাদ দিলেন ট্রাইব্যুনাল

ঢাকা, ৫ আগস্ট: চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের তদন্তকর্মকর্তা হেলালউদ্দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অসত্য তথ্য দেয়ায়, তা আদালতের নজরে এসেছে। পরে তথ্যের অসত্য অংশটি জেরার অংশ থেকে তা বাদ দিয়েছেন আদালত।

রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই বিষয়টি জেরার পরে মামলার রেকর্ড থেকে বাদ দেয়া হয়।

ক্ষতিগ্রস্থের বাড়িতে তদন্তের সময় না গিয়েও তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন জেরার  সময় এক পশ্নের জবাবে বললেন, তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছেন। পরে ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি আসলে ওই বাড়িতে যাননি।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী সমর মিস্ত্রী, সুমতি রানী এবং আশিষ কুমার মন্ডল তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রদত্ত জবানবন্দীতে বলেছেন, ১৯৭১ সালে মনিন্দ্র মিস্ত্রিরির বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

রোবাবার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে জেরার সময় সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম প্রশ্ন করেন, আপনি কি  তদন্তকালে মনিন্দ্র মিস্ত্রির বাড়ি গিয়েছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা ‘‘গিয়েছি’’ বলে জবাব দেন।  তিনি কবে সে বাড়িতে যান, কত সময় থাকেন তাও জানান। কিন্তু অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম এ বিষয়ে  বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার পরে এবং ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি  পর্যালোচনা করলে দেখা যায়  তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন আসলে মনিন্দ্র মিস্ত্রীর বাড়ি যাননি। তবে তিনি জবাব দেন ‘‘গিয়েছি’’ বলে।

জেরার সময় সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করেন ‘‘আপনি মনিন্দ্রের বাড়ি গেছেন?’’ জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, হ্যাঁ। বাড়িতে ওই সময় কাকে পেয়েছিলেন? জবাবে তিনি বলেন কাউকেই পাইনি। কত তারিখ সে বাড়িতে গেলেন? জবাবে ২৯/৯/২০১০ তারিখ। বিকাল তিনটা থেকে সোয়া চারটা পর্যন্ত ছিলাম।

পরে আইনজীবী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান ঐ বাড়িতে তিনি যে গেছেন সে মর্মে আপনার নোটে কি লেখা আছে, আশপাশের কার কার সঙ্গে দেখা হয়েছে তা জানানোর জন্য। কর্মকর্তা বলেন,  নোটে তেমন কিছু লেখা নেই এ বিষয়ে।

পরে মিজানুল ইসলাম বলেন, হয় আমাদের না হয় ট্রাইব্যুনালকে সে নোট দেখানোর জন্য। এরপর তার কাছ থেকে ট্রাইব্যুনাল তার নোট দেখার জন্য সেটি নেন ।  ট্রাইব্যুনাল নিয়ে পর্যালোচনা করেন। ট্রাইব্যুনাল বলেন, তিনি আশিষ কুমার মন্ডল, সুমতী রানী এবং সমর মিস্ত্রির বাড়ি গেছেন তা লেখা আছে। মনিন্দ্রের বাড়ি  যাওয়ার বিষয়ে কিছু লেখা নেই।

এরপর কোর্ট সিদ্ধান্ত দেন  মনিন্দ্রের বাড়িতে যাওয়া বিষয়ে যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছে তা বাদ দেয়ার। তিনি  মনিন্দ্রের বাড়ি ‘‘গিয়েছি’’ বলে উত্তর দিলেও তিনি আসলে ওই বাড়িতে যাননি  মর্মে উত্তরটি রেকর্ড করা হয় ট্রাইব্যুনালের রেকর্ডে।

জেরায় মিজানুল ইসলামকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মনজুর আহমদ আনসারী ও আবু বকর সিদ্দিক। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট  গিয়াসউদ্দিন আহমেদ মিঠ ও নজির আহমদ হোসাইনি।

অন্যদিকে  মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ আগামী ২৬ আগস্ট পুনরায় নির্ধারন করা হয়েছে। রোববার তার বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহনের কথা ছিল। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে  তদন্ত কর্মকর্তার জেরা আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে শেষ করার জন্য নির্ধারন করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সে কারনে মাওলানা নিজামীর মামলার তারিখ পেছানো হয়েছে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট