Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সরকারপতন আন্দোলনে সবদলকে অংশ নেয়ার আহ্বান খালেদার

 ঈদের পর সরকার পতন আন্দোলনে অংশ নিতে ১৮ দলীয় জোটের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সরকারবিরুদ্ধ সব দলকে এক প্লাটফর্মে আসার কোন বিকল্প নেই।

শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ চত্তরে পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের ২ নম্বর  এলডি হলে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত ইফতারে এসে বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। তিনি এও বলেন, ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলনকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দেশের একটি মানুষও বর্তমান সরকারের কাছে নিরাপদ নয়। আদালতগুলোতে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারবিভাগ পুরোটাই দলীয়করণ করেছে এই সরকার।
গেল সাড়ে তিন বছরে ১৪জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে  দাবি করে বেগম জিয়া বলেন, সরকারের হাতে প্রতিনিয়ত মানুষ গুম হচ্ছে, খুন হচ্ছে। সরকারের ভাওতাবাজি আর দুর্নীতিতে মানুষ কষ্টে আছে বলেও জানান বিএনপি নেত্রী।

খালেদা জিয়া বলেন, লীগের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, সরকারের দুর্নীতির ফলে উন্নয়ন সহযোগীরা তাদের সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে।

বিএনপি সরকার পদ্মাসেতুর কিছু কাজ করেছিলো জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এই সেতুর কাজ শুরুর আগেই সরকার দুর্নীতি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবার থেকে শুরু করে সরকারি দলের সকলেই দুর্নীতিবাজ।

সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, যে মন্ত্রীকে দেশপ্রেমিক বলা হয়েছে, তিনি দেশপ্রেমিক নন, অর্থলোভী, টাকা প্রেমিক। দেশের সড়কগুলোর বেহাল দশা তারই বড় প্রমাণ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দেশে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এসবের সমাধানের জন্য দেশবাসী তাকিয়ে আছে ১৮দলীয় জোটের দিকে।

দলীয় সরকার নয়, নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবি হবে, তাই তারা এপথে পা রাখতে চাইছে না।

সরকারি দলের প্রতি উদ্দেশ্য করে বেগম জিয়া বলেন, দুর্নীতি করে ভোগ করা যায় না। দুর্নীতি আর জুলুম বন্ধ করে নিজেদের জায়গা পরিস্কারের পরামর্শ দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

লুটপাটের জন্য শাস্তি পেতে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ঈদের পরে কঠোর আন্দোলন হবে।

সন্ধ্যা ৬টা ২৯ মিনিটে ইফতার মাহফিলে আসেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। এসময় ইফতার মাহফিলে আগত অতিথিরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানান। বেগম জিয়াও হাত নেড়ে অভিনন্দনের জবাব দেন।

ইফতারের আগে মোনাজাতে অংশ নেন বিরোধী দলীয় নেতা। দেশ ও মুসলিম উম্মাহের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকা ইফতার মাহফিলে বক্তৃতা করেন।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে মঞ্চে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, মির্জা আব্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া, প্রবীন আইনজীবী ব্যারিষ্টার রফিক উল হক, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি ড. অলি আহমেদ, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির সভাপতি এডভোকেট আবদুল মোবিন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী সোহেল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

এছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট আহমেদ আজম খান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, সালাউদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট