Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

মঙ্গল গ্রহে মানুষের মুখের ছবি!

পৃথিবীর প্রতিবেশী হিসেবে মঙ্গল গ্রহের প্রতি মানুষের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বেশি। কারণ, এ গ্রহটি নিয়ে যতো গবেষণা হয়েছে, তা সৌর জগতের আর কোন গ্রহ নিয়ে হয়নি। মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে বেশ কিছু ধারণা প্রচলিত ছিল। কয়েকটি অভিযান থেকে প্রাপ্ত তথ্যও এসব ধারণা সৃষ্টিতে সহায়তা করেছিল। এসব ধারণা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে মানুষকে আলোড়িত করেছে ও ভাবিয়েছে। মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কে এমনই একটি ধারণা ছিল যে, এর আকৃতিতে মানুষের মুখমণ্ডলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ ছবি পাওয়া গেছে। কিন্তু এ ধারণা কতোটুকু যুক্তিযুক্ত বা এর বিশ্বাসযোগ্যতাইবা কতোটা, তা নিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা কিছু তথ্য দিয়েছেন। আসলেই কী মানুষের মুখের গঠনের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহের আকৃতির কোন মিল আছে? ১৯৭৬ সালে নাসার ভাইকিং-১ মহাকাশযানটি মঙ্গল গ্রহের কিছু ছবি তুলে আনে। তাতে দেখা যায়, মানুষের মুখাবয়বের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের একটি অংশের মিল রয়েছে। পরে বিজ্ঞানীরা নভোযানের পাঠানো ওই ছবিটি আলো-আঁধারির খেলা বলে শনাক্ত করেন। কিন্তু এ খবর প্রকাশ হতেই মানুষের উন্মাদনা পারদের শীর্ষবিন্দু ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে কন্সিপিরেসি তত্ত্ববিদরা মঙ্গল গ্রহে প্রাপ্ত ওই মুখাবয়বের ছবিকে কেন্দ্র করে বললেন, মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব বিদ্যমান। বাজারে প্রচলিত ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোও সঙ্গে সঙ্গে লুফে নিল এ খবর। ১৯৯৩ সালে জনপ্রিয় টিভি শো ‘এক্স-ফাইলসে’ও  বিষয়টি দেখানো হয়। ১৯৯৮ সালের ঘটনা। নাসার বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহে নতুন অভিযান চালালেন। এবার যে স্থানটিতে তারা এর আগে মানুষের মুখের ছবি দেখতে পেয়েছিলেন সেখানে দেখলেন, সেই আকৃতিতে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। ২০০১ সালে আরও একটি অভিযানে আরও বেশ কিছু ছবি তোলা হলো। বেশ স্পষ্ট এ ছবিগুলো নিয়ে গবেষণার পর মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানালেন, মঙ্গল গ্রহে পাওয়া মুখের ছবিটি আসলে শুধুই উঁচু কোন পর্বতের ছবি। দূর থেকে ছবি তোলায় সেটাই মানুষের মুখের মতো মনে হয়েছিল। আর এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটলো একটি ভুল ধারণার। মানুষও বঞ্চিত হলো তার জল্পনা-কল্পনার খোরাক থেকে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট