Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে

জ্বালানি তেল ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানি কমতে থাকায় আমদানি ব্যয়ের নিম্নমুখী ধারায় শুরু হয়েছে নতুন অর্থবছর। পাশাপাশি প্রবাসী আয় বাড়তে থাকায় গত ছয় মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।

২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছে। আর এর ইতিবাচক প্রভাবে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে।

এই অর্থ দিয়ে চার মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি ব্যয় মেটানোর কারণে মাসখানেক আগে রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছিল।

কর্মকর্তারা জানান, রেমিটেন্সের ওপর ভর করে ডলারের প্রবাহ ‘সন্তোষজনক’ অব¯’ায় থাকায় ডলারের বিপরীতে ক্রমশ শক্তিশালী হ”েছ দেশি মুদ্রা টাকা।

বুধবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের বিনিময়ে পাওয়া গেছে ৮১ টাকা ৭০ পয়সা। বৃহস্পতিবার তা কমে হয়েছে ৮১ টাকা ৬০ পয়সা। গত জানুয়ারি মাসে দেশে ডলারের বিনিময় হার প্রায় ৮৫ টাকায় উঠেছিল।

রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্সের ওপর এর প্রভাব এড়াতে গত জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার কিনলেও টাকার বিপরীতে ডলারের দরপতন ঠেকানো যায়নি। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠানো কমিয়ে দেবেন- এমন আশঙ্কা থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, “গত কয়েক মৌসুম বাম্পার ফলনের কারণে চাল আমদানি করতে হচ্ছে না। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এ কারণেই আমদানি ব্যয় কমছে।”

তবে কড়াকড়ির কারণে শিল্প ¯্হাপনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি যাতে না কমে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখত।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম দুই সপ্তাহের (১৪ জুলাই পর্যন্ত) আমদানি সংক্রান্ত যে তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায় ওই সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানির জন্য ১১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। এই পরিমাণ গত বছরের একই সময়ে চেয়ে ৫৮ শতাংশ কম।

জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনে আমদানির নিস্পত্তির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম দিকে আগের বছরের (২০১০-১১) মতোই আমদানি ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল। কিš‘ অর্থবছরের শেষ দিকে তা কমে আসে।

২০১১-১২ অর্থবছরে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। এই সময়ে তিন হাজার ৬৯২ কোটি ৬১ লাখ (৩৬ দশমিক ৯২ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খোলা হয়। অথচ এর আগের অর্থবছরে এলসি খোলার পমিাণ ৪২ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে, অর্থ্যাৎ জুলাই-মে সময়ে তিন হাজার ২৯৪ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছিল ৪২ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

অন্যদিকে ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ১২ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ১০ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। এ বছর রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৪ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

আর আমদানি খাতে জ্বালানি তেল ছাড়া অন্য সব পণ্যেরই আমদানি কমেছে।

গত অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে খাদ্য (চাল ও গম) আমদানির জন্য এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ৬৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি কমেছে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ৬ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য পণ্য আমদানি কমেছে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।

তবে এই সময়ে জ্বালানি তলে আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে দাবি করে গভর্নর ক বলেন, “আমদানি ব্যয় কমায় অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো এখন ইতিবাচক। রেমিটেন্স বাড়ছে। রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের ওপরেই থাকবে বলে আশা করছি। রাজস্ব আদায়ের গতিও বেশ ভাল।”

সব মিলিয়ে সামনের দিনগুলোতে অর্থনীতি ‘ভালোর দিকেই’ যাবে বলে আশা করছেন আতিউর রহমান।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, “সার্বিকভাবে আমদানি ব্যয় কমা ভাল। তবে শিল্প ¯’াপনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যে মূলধনী যন্ত্রপাতি- তার আমদানি কমলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।”

“মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমলে শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর সেক্ষেত্রে সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নিয়েছে, তা অর্জিত নাও হতে পারে”, বলেন এই গবেষক।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট