Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গোয়েন্দা নজরদারিতে সাবেক আমলাদের কালো তালিকা

সাবেক সিনিয়র আমলাদের পাশাপাশি শতাধিক ওএসডি আমলাকে সরকার নজরদারিতে রেখে একটি তালিকা প্রস্ত্তত করা হয়েছে।এ তালিকায় রাখা হয়েছে সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তির একান্ত সচিব (পিএস) ও সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস)-দের ।

 

সাবেক সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও রয়েছেন বেশ কালো অবস্থানে।

 

ইতোমধ্যেই কিছু কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না তাদের । কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সংগঠনে নীতিনির্ধারণী কাজে তাদের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, ঐ তালিকায় বর্তমানে প্রশাসনে ৬৭ জন সচিব বা সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন সচিব বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত আছেন।

 

এদিকে  প্রশাসনে এখন অতিরিক্ত সচিব ২৫৫ জন। তাদের মধ্যে ৩৪ জন বর্তমানে ওএসডি। এদের অনেকেই নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। কেউ কেউ বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই ওএসডি।

 

তালিকায় রয়েছেন- ড. শেখ আবদুর রশীদ, নাসিমুল গনি প্রমুখ। তারা দিনের পর দিন ওএসডি থেকে বেতন-ভাতাদি তুলছেন।

 

আবার বাইরে যুগ্ম-সচিব পদে ৬২৬ জন ও উপ-সচিব পদে ১হাজার ৫’শ ২০ কর্মকর্তা বর্তমানে প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে ১৪৪ জন যুগ্ম-সচিবসহ সব মিলিয়ে এ দুই পর্যায়ে ৫ শতাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের কোন কাজ নেই।

 

জানা যায় একটি গোয়েন্দা সংস্থা শীর্ষ পর্যায়ে দিনের পর দিন ওএসডি থাকা কর্মকর্তাদের গতিবিধি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেছে।

 

ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পেশ করা প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছেন, সাবেক চারদলীয় জোট সরকারের সুবিধাভোগী আমলারা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ব্যবহারের বাহানায় নিয়মিত সচিবালয়ে আসেন। তারা সচিবালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের হলরুমে বসে সুবিধাবঞ্চিত এবং ওএসডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করেন। সরকারবিরোধী কর্মকান্ডেও তাদের যোগসাযোষ বা সম্মতি লক্ষনীয়।

 

তাই এখন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের হলরুমে নিয়মিত কারা আসেন, এসে কি করেন তা তীক্ষ্নভাবে নজরদারি রাখার প্রয়োজন মনে করছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত গোয়েন্দারা।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪ই জুলাই সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এএসএম আবদুল হালিমের নেতৃত্বে রাজধানীর একটি হোটেলে প্রকাশ্যে সেমিনারের আয়োজন করেন ‘রিটায়ার্ড সিভিল অফিসার্স ফাউন্ডেশন’ নামক বিএনপি- জামায়াতের সুবিধাভোগী সাবেক আমলারা।

 

উক্ত সভায় বর্তমানে ওএসডি ও সদ্য পদোন্নতি বঞ্চিত কিছু আমলাও উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে উপস্থিত ওএসডি কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা যেতে পারে।

 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সরকারের বিপক্ষে নেমেছেন ৬০০ ওএসডি কর্মকর্তা। কিভাবে সরকারকে পদত্যাগ করানো যায় সে চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত তারা।

 

প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ কওে বলা হয়েছে, ওএসডি কর্মকর্তারা প্রশাসনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাবেক আমলারা অস্থিরতা সৃষ্টিতে মহাজোট সরকারের সুবিধাবঞ্চিত আমলাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

 

সরকারের এমন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সচিবালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার আশংকা ও জনপ্রশাসনে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারেন এমন অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৯ জুলাই সাবেক মন্ত্রিপরিষদেও ১ সচিবসহ ৩১ জন সাবেক অতিরিক্ত ও যুগ্ম-সচিবের সচিবালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ।

 

প্রাথমিক পর্যায়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এএসএম আবদুল হালিম ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব এসএম জহুরুল ইসলামসহ অবসরে যাওয়া ৩১ শীর্ষ কর্মকর্তার সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গণভবন ও কেপিআইভুক্ত সব এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

 

নিষেধাজ্ঞা জারির তালিকায় ৩১ কর্মকর্তার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও ছিলেন সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা ২৩ জন, অতিরিক্ত সচিব ৪ জন এবং যুগ্ম-সচিব ৪ জন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখার আদেশে ১৫ জন কর্মকর্তার নাম, পদবি ও প্রবেশ পাস নম্বর এবং অন্যদের নাম, সর্বশেষ পদবি উল্লেখ করা হয়।

 

এবার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে ।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোন কর্মকর্তা সম্পর্কে সন্দিহান প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই সচিবালয়ে প্রবেশে উক্ত কর্মকর্তার  নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট