Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

গায়েব হচ্ছে আন্তর্জাতিক কল

দেশে রাতারাতি গায়েব হচ্ছে আন্তর্জাতিক কল। মাত্র কিছুদিন আগে ওই কলের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি। বর্তমানে ৩ কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। ২ কোটি কল রাতারাতি গায়েব হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি অবিশ্বাস্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বক্তব্য, যেখানে কলের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়া উচিত, সেখানে ঘটছে উল্টোটি। মূলত অবৈধ কলের সংযোগ বেড়ে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটছে। এতে সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক কল নিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তা রীতিমতো লুট করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। গতকাল সংসদ সচিবালয়ে কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। জবাবে তারা অস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে বলে জানায় কমিটি। এ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য হুইপ আ স ম ফিরোজ মানবজমিনকে বলেন, আন্তর্জাতিক কল লুট করা হচ্ছে। বৈঠকে মন্ত্রণালয় যে জবাব দিয়েছে তা খুচরা জবাব। আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি আগামী বৈঠকে আন্তর্জাতিক কল গায়েব হওয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখা দিতে হবে। তা নাহলে শক্তিশালী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওদিকে কমিটি সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিটিসিএল-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কমিটি এসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে। এর আগেও সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক কল গায়েব নিয়ে আলোচনা হয়। গত বছরের নভেম্বরে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাইদ খান। অভিযোগ করে তিনি বলেন, কলের সংখ্যা নিয়ে লুকোচুরির পাশাপাশি ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে- প্রায় অর্ধেক আন্তর্জাতিক কল হিসাবের বাইরে রাখা হচ্ছে। এখনই এসব বন্ধ করা না হলে ভবিষ্যতে তা আমাদের অনেকের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। ওই সময় এ অভিযোগকে সমর্থন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব সুনীল কান্তি বোস। এদিকে গত বছর মন্ত্রণালয়ের এক হিসাবে জানানো হয়, ওই সময় প্রতিদিন দেশে গড়ে আন্তর্জাতিক কলের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ মিনিটেরও বেশি। পরে তা কমে হয় ১ কোটি ৭০ লাখ মিনিট। মাঝেমধ্যে তা ১ কোটি ১০ লাখ মিনিটে গিয়ে পৌঁছায়। ওই সময় দেশে আন্তর্জাতিক কলের সংখ্যা ৩ কোটি মিনিটেরও বেশি ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ সময় বলা হয়, কয়েক মাস আগে আইটিএক্স বিভাগের জিএমসহ ৮ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। এর পরই আন্তর্জাতিক কলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।
লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিষ্পত্তির সুপারিশ
এদিকে চারটি মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে গ্রাহকসেবার অবনতি, আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনে অব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত বিশৃঙ্খলা, ক্যারিয়ার কোম্পানির কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে অব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিটি। কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু চারটি মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে যে ধীরগতি চলছে তাতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার দ্রুত বাস্তবায়ন চায় কমিটি। তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরি হয়েছে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলে দু’পক্ষই মামলা তুলে নেবে। এখন দ্রুত এটির বাস্তবায়ন প্রয়োজন। যার যা প্রাপ্য তা বুঝিয়ে  দেয়া উচিত। বৈঠকে কমিটির সদস্য  ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, আ স ম ফিরোজ, মো. আবদুল কুদ্দুস, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী,  মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও গোলাম মোস্তফা অংশ নেন। ডাক  ও টেলিযোগাযোগ সচিব সুনীল কান্তি বোসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট