Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এমএলএম এর প্রভাব ও রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ

ভবিষ্যতে প্রস্তুত হবে বা ডেলিভারি দেয়া হবে এমন দ্রব্য, সঞ্চয়ের অর্থ, আমানতের অর্থ প্রভৃতি সংগ্রহের নিমিত্তে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) পদ্ধতির ব্যবহার বিশ্বে যত এমএলএম পদ্ধতির কোম্পানি আছে তারা কেউ ব্যবহার করে না। যে ক’টি দেশে এমএলএম পদ্ধতির ব্যবসা প্রচলিত আছে সেখানে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এমএলএম মার্কেটিং আইনত দন্ডনীয়। আমানত বা সঞ্চয়ের অর্থ সংগ্রহে এ পদ্ধতির ব্যবহার করা হলে, আপামর জনসাধারণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপে আমানত বা সঞ্চয়ের অর্থ উক্ত এমএলএম কোম্পনিকে দিতে থাকলে দেশের সকল আমানত একমূখী হয়ে যায় ও দেশের সকল ব্যাংক, লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান তারল্য সংকটে ভূগতে থাকবে। তফশিলি ব্যাংকগুলি জনসাধারণের আমানতের বিপরীতে সুনির্দিষ্ট একটি অর্থ থেকে কিছু অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আমানতকারীর আমানত নিরাপত্তা গ্যারান্টি হিসাবে জমা দেয়। কিন্তু এসকল বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন বিহীন এ সকল এমএলএম প্রতিষ্ঠানের কাছে আমানত রাখা অথের্র কোন নিরাপত্তা গ্যারান্টি অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা থাকে না। ফলে জনসাধারনের আমানতও ঐ প্রতিষ্ঠানের কাছে নিরাপদ থাকে না। যে কোন মুহুর্তে হায় হায় কোম্পানি হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের কয়েক হাজার কোটি টাকা প্রতারিত হবার সম্ভাবনা থেকে যায়।

 

 

এমএলএম কর্নধারদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষঃ

মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পনি (এমএলএম) ব্যবসায় জনসাধারনের মাঝে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি চেইন/সংযোগ তৈরী হয়। চেইনের সর্বশেষ ব্যক্তির সাথে চেইনের সর্ব প্রথম ব্যক্তির ব্যবসায়িক বিভিন্ন প্রয়োজনে নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। উপরন্ত ডিষ্ট্রিবিউটর প্রশিক্ষণকালীন চেইনের সর্বশেষ স্তর পর্যন্ত যে কোন রাজনৈতিক আদর্শ প্রচার ও রাজনৈতিক কার্যক্রম করার সুযোগ থাকে বলে এমএলএম ব্যবসার কর্নধারেরা এক সময় জন সংযোগের চেইনকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করে নিজেরা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়। চীন ও আমেরিকা যুক্তরাস্ট্রসহ বেশ কিছু দেশে এমএলএম কোম্পানির রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ দৃশ্যমান। মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পনি (এমএলএম) দ্বারা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের ঘটনা নিম্নে প্রদান করা হলোঃ-

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমএলএম কর্নধারদের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষঃ

১৯৯৪ সালে যুক্তরাস্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে আমওয়া নামের একটি এমএলএম কোম্পানি তার একজন সেল্স রিপ্রেসেন্টেটিভ সুয়ে মায়রিক কে রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচনে দাড় করিয়ে কোম্পানীটি তার পেছনে ৬০,৬৯,৫২৫ ডলার খরচ করে তাকে নির্বাচিত করে। সুয়ে মায়রিক নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর কোম্পানী আরও বেশী আসনে তাদের ডিষ্ট্রিবিউটরদের নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া শুরু করে ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে এমএলএম কোম্পানীর সদস্যদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করে, অর্থ খরচ করে আরও ০৫ জন ডিষ্ট্রিবিউটরকে কংগ্রেস সদস্য হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী করে আনে। তারা হলো নর্থ ক্যরোলিনা থেকে সুয়ে মায়রিক, নেব্রাস্কা থেকে জন ক্রিস্টেনসেন , মিশিগান থেকে ডিক ক্রিসলার, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রিচার্ড রম্বো ও নেভাডা থেকে জন এনসিন। এ ধরনের নির্বাচনে কোম্পানীটি খরচ করে কোটি কোটি ডলার। ১৯৯৭ সালে ফোর্ট ওর্থ স্টার ম্যাগাজিনে মলি আইভিন্স তার একটি প্রতিবেদনে লেখেন ‘‘ মার্কিন কংগ্রেসে এমএল এম ককাশ্ হলো এবারের নির্বাচনে ৫ জন এমএলএম ডিস্ট্রিবিউটর মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন’’। ০৬ জন ডিষ্ট্রিবিউটরকে কংগ্রেসম্যান হিসেবে নির্বাচিত করার পর কোম্পানীটির রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ আরও বেড়ে যায়। এর পর কোম্পানীটির ব্যবসহাপনা পরিচালক ডিক ডেভোস্ ও তার স্ত্রী বেট্সী ডেভোস্ রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহন শুরু করে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ডিক ডেভোস্ রিপাবলিক্যান দলের জাতীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক প্রধান নির্বাচিত হয় ও তার স্ত্রী বেট্সী ডেভোস্ মিশিগান অঙ্গ রাজ্যের দলীয় প্রধান নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালের মে মাসে মিশিগান অঙ্গ রাজ্যের প্রাদেশিক নির্বাচনে গভনর্র হিসেবে জেমনিফার গ্রাণহোম এর সাথে প্রতিদ্বন্দীতা করে হেরে যান। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের টনক নড়ে। মাল্টি লেভেল কোম্পনিগুলির রাজনৈতিক অভিলাষের কারণ অনুসন্ধান ও তার প্রতিকার করে।

 

 

চীনে রাজনৈতিক গোলোযোগঃ

১৯৯৮ সালে দীর্ঘ দিনের মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) প্রতিষ্ঠানের প্রতারনার পর চীনে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএ) বন্ধের দাবিতে জনরোষ সৃষ্টি হয় ও এই জনরোষ দাঙ্গায় রুপান্তরিত হয়ে সারা চীনে ছড়িয়ে পড়ে। ঐ সময় থেকে ডাইরেক্ট সেলিং আইন তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হয় ও অবশেষে ২০০৫ সালে ডিসেমবর মাসে ডাইরেক্ট সেলিং আইন তৈরী করে টেলি মার্কেটিং, ইন্টারনেট অর্ডার নিয়ে হোম ডেলিভারী, ডোর টু ডোর ও ডিট্টো পদ্ধতি জাতীয় মার্কেটিং পদ্ধতিকে ডাইরেক্ট মার্কেটিং বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত রেখে অবশিষ্ট সব ধরনের মাল্টি লেভেল মার্কেটিং নিষিদ্ধ করা হয়। ঐ ডাইরেক্ট সেলিং-এ আবার শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইন সম্পর্কিত ব্যক্তি, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, সরকারী কর্মকর্তা প্রভৃতি ব্যক্তিদের অংশগ্রহন নিষিদ্ধ ঘোষনা করে।

 

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট