Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

সাঈদীর মামলা: ৩১ সাক্ষী বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা যাবে না

ঢাকা, ১ আগস্ট: মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ৩১ জন সাক্ষী বিষয়ে জেরায় তদন্ত কর্মকর্তাকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল (১)এ।

মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে ৪৬ জন সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যে জবানবন্দি দিয়েছেন তা তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়।

বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১’র চেয়ারম্যান বিচারক নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনকে জেরার সময় এ আদেশ দেন বলে জানান আইনজীবী তাজুল ইসলাম।

ট্রাইব্যুনাল তাদের মধ্য থেকে ১৫ জনের জবানবন্দি তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে আদেশ দেন গত ২৯ মার্চ। বাকি ৩১ জনের জবানবন্দি আদালত গ্রহণ করেননি। এই ৩১ জন সাক্ষী বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার সময়  কোনো প্রশ্ন করা যাবে না বলে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

বুধবার জেরার সময় ১৫ জন সাক্ষীর বাইরে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে ট্রাইব্যুনাল এ সিদ্ধান্ত জানান। এ বিষয়ে আজ ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক এবং  বেশ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে মাওলানা সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার সময় ছারছিনা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. শরাফত আলী এবং আরেক সাক্ষী আব্দুর রাজ্জাক বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এদের দুজনকে তিনি প্রসিকিউশনের কাছে হাজির করেছিলেন। এরপর এ বিষয়ে আরো প্রশ্ন করলে তখন ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারক নিজামুল হক বলেন, তারা কি ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে আছেন নাকি বাইরে? মিজানুল ইসলাম বলেন,  ৪৬ জনের মধ্যে তারা আছেন।

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, ৪৬ জনের মধ্যে ১৫ জন বাদে বাকি ৩১ জনের বিষযে তদন্ত কর্মকর্তাকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। কোনো প্রশ্ন এলাউ করা হবে না।

অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ৪৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি তাদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন জানানো হয়। ৪৬ জন সাক্ষী হাজির করতে না পারা বিষয়ে তারা অনেক কারণ উল্লেখ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি ৪৬ জন সাক্ষী বিষয়ে তারা অনেস্টলি আবেদন করেননি। তারা বলেছেন আসামিপক্ষের লোকজন সাক্ষীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়েছে, ভয়ভীতি দেখিয়েছে। ৪৬ জন সাক্ষীর তালিকা থেকে প্রথম ১৯ জনের মধ্য হতে আপনারা ১৫ জন সাক্ষী বিষয়ে আবেদন গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, এই ১৫ জন বিষয়ে তারা আবেদনে উল্লেখ করেছেন একজনের ভ্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। তিন জন ঢাকায় আনার পর আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাবার কথা বলে পালিয়ে গেছেন বা পালিয়ে ভারতে চলে গেছেন।

বাকিদের আসামিপক্ষের লোকজনের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাক্ষ্য না দিতে আসার জন্য ভয় দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে। কাজেই ৪৬ জন সাক্ষী বিষয়ে যে দরখাস্ত তারা দিয়েছেন তার প্রতিটি শব্দ বিষয়ে জেরার করার অধিকার আমাদের রয়েছে।

এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারক নিজামুল হক বলেন, “আমরা ১৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করেছি। বাকি ৩১ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করিনি। কাজেই তাদের জবানবন্দি  বিষয়ে প্রশ্ন করা যাবে না।”

মিজানুল ইসলাম বলেন, “আমি আপনার সঙ্গে একশভাগ একমত। তাদের জবানবন্দি বিষয়ে আমি একটি প্রশ্নও করবো না। আমরা  আবেদন বিষয়ে প্রশ্ন করবো।”

ট্রাইব্যুনাল বলেন, “আমরা কিন্তু ৪৬ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করিনি। করলে করতে পারতাম। করিনি কারণ বাকিদের বিষয়ে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তাছাড়া তাদের এখনো সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আনার সুযোগ রয়ে গেছে।”

মিজানুল ইসলাম বলেন, “আপনারা ১৫ জনের জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের বিষয়ে কিন্তু আদেশে একবারও একথা বলেননি যে, বাকিদের বিষয়ে তাদের দাবি মিথ্যা। আমরা বলছি এই আবেদন অনেস্টলি করা হয়নি। সে কারণে আমরা ৪৬ জনের বিষয়ে যে দরখাস্তা তার সব বিষয়ে জেরা করতে চাই।

মিজানুল ইসলাম বলেন, বাকিদের বিষয়ে প্রশ্ন করার অধিকার  চেয়ে আমরা একটি আবেদন করব।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, আবেদন করতে পারেন। সেটা আপনাদের ব্যাপার। তবে তা বাতিল হবে। এখনই আবেদন দিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু ১৫ জনের বাইরে  অন্য সাক্ষী বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না।

তখন সাঈদীর অপর আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেন, আবদেন করার আগেই তা বাতিল করে দিলেন?

এ পর্যায়ে তাজুল ইসলাম অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলামের সঙ্গে পরামর্শ করছিলেন। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারক নিজামুল হক তাজুল ইসলামকে উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মি. তাজুল ইসলাম, আপনার একটা কথা আমাদের কানে এসেছে। আমি আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা না বলার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে তাজুল ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, আমি কী বলেছি, আমিতো আমার সহকর্মীর সঙ্গে পরামর্শ করছি।

বিচারক নিজামুল হক বলেন, আপনি কী বলেছেন তা আমি শুনেছি। তাজুল ইসলাম বলেন, কী শুনেছেন বলেন তাহলে।

বিচারপক নিজামুল হক বলেন, আপনি আপনার পাশের আইনজীবীকে বলেছেন, চলেন তাহলে চলে যাই। আপনি একথা বলেননি?

তাজুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করছি আপনি ভুল শুনেছেন। আমি একথা বলিনি। বিচারক নিজামুল হক বলেন, আপনি কি বলেছেন বলেন তাহলে। তাজুল ইসলাম বলেন, আমি আমার সহকর্মীকে বলেছি আমাদের প্রশ্ন যদি গ্রহণ না করা হয় তাহলে এখানে থাকার তো কোনো অর্থ হয় না।

বিচারক নিজামুল হক বলেন, তাহলে এটা কি চলে যাওয়া বোঝায় না? তাজুল ইসলাম বলেন, না এটা চলে চাওয়া বোঝায় না। আমি আমার পাশের আইনজীবীর সঙ্গে কি বলি বা না বলি সেটা আপনার শোনার কথা নয় (ইউ আর নট সাপোজড টু হেয়ার ইট)। আমারও আপনাদের মধ্যকার অনেক কথাবার্তা শুনি। কিন্তু সেগুলো শুনিনি বলেই ধরে নেই।

একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী কিছু একটা বলেন। তখন তাজুল ইসলাম তীব্রস্বরে তাকে লক্ষ্য করে বলেন, “ডোন্ট শাউট, ডোন্ট শাউট।”

ওই সময় চেয়ারম্যান বিচারক নিজামুল হক বলেন, আপনি এভাবে তাকে শাউট না করার জন্য বলতে পারেন না। আমরা পারি। আমরা দেখছি মি. তাজুল ইসলাম আপনি শাউট করছেন। এরপর ট্রাইব্যুনালের অপর বিচারক আনোয়ারুল হক বলেন, এটি নিয়ে আর সামনে না আগাই। যা হয়েছে এখানেই ভুলে যান।

প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পুরো সময় চুপচাপ বসে ছিলেন ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য বিচারক একেএম জহির আহমেদ।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট