Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

নিউ ইয়র্কে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু তদন্তে কমিটি গঠনের দাবি

নিউজ ওয়ার্ল্ড, নিউ ইয়র্ক থেকে: জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। এজন্য ২৭শে জুলাই থেকে এক মাসের সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু না করলে প্রবাসীদের নিয়ে একটি সার্বজনীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। উপেক্ষা, অবহেলা বা চিকিৎসার ত্রুটিতে তিনি মারা গেছেন কিনা এটা বের করাই তদন্ত কমিটি গঠনের লক্ষ্য।
নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মনোয়ার হোসেইন পিয়াল এ দাবি জানিয়েছেন। গত শুক্রবার নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, এ তদন্ত কমিটির দাবিতে প্রবাসীদের সোচ্চার করতে মনোয়ার হোসেইন পিয়াল লস এঞ্জেলেস থেকে নিউ ইয়র্ক আসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের ক্যান্সার অপারেশন সম্পূর্ণ সফল হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন শাওন ও প্রকাশক মাজহার।
তারপর তাকে বাড়িতে নেয়া হলো তড়িঘড়ি করে। একদিন পরেই তিনি চেয়ার উল্টে পড়ে যান। এখান থেকেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে।
আমরা জানতে চাই এ ধরনের একটি জটিল অপারেশনের রোগী যখন চেয়ার থেকে পড়ে গেলেন তখন সঙ্গে সঙ্গে তাকে বেলভ্যু হাসপাতালে না নিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর অবস্থার অবনতি হলে জ্যামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো কেন।
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, প্রাইভেট কারে হুমায়ূন আহমেদের মতো ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়ার উদ্যোগ নিলো কারা। এরপর গাড়িতে অবস্থা খারাপ হলে তার জন্য ডাকা হলো এম্বুলেন্স। অথচ তিনি পড়ে যাওয়ার পর পরই এম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নিলে হয়তো সংক্রমণ এড়ানো যেতো। কারণ, ক্যান্সারে নয়, হুমায়ূন আহমেদের ইন্তেকালের কারণ হচ্ছে সংক্রমণ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যারা হুমায়ূন আহমেদের পরিচর্যায় নিয়োজিত ছিলেন তাদের গাফলতি এক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রেখেছে কিনা সে প্রশ্ন আজ সবার। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এটা কোনভাবেই জানা যাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হুমায়ূন আহমেদের ডায়বেটিস ছিল বলে আমরা শুনেছি। একজন ডায়বেটিকের রোগীর কোন অপারেশন হলে এমনিতেই তার দিকে অতিরিক্ত নজর রাখতে হয়। অথচ তিনি পড়ে গিয়ে কাতরালেন, কিন্তু তাৎক্ষণিক কিছু করা হলো না।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হুমায়ূন আহমেদের অবস্থার সঠিক তথ্য কখনও দেশবাসীকে জানানো হয়নি। যারাই তাকে দেখতে গিয়েছেন তারা বলেছেন, তিনি আশঙ্কাজনক। অথচ লেখকের সঙ্গী অন্য প্রকাশনীর প্রধান মাজহারের কাছে যখনই সাংবাদিকরা অবস্থা জানতে চেয়েছেন তিনি তাদের ভুল তথ্য দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সর্বপ্রথম সংবাদ সংস্থা নিউজ ওয়ার্ল্ড ‘হুমায়ূন আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক’ শিরোনামে একটি রিপোর্ট করলে বিভিন্ন সংবাপত্রে মাজহার এর প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেছিলেন তার অবস্থা স্থিতিশীল। এমনকি মৃত্যুর মাত্র আধঘণ্টা আগেও বিভিন্ন সংবাদপত্রকে তিনি জানান, হুমায়ূন আহমেদের অবস্থা স্থিতিশীল। তবে রক্তে ইনফেকশন একটু বেড়েছে। তার এই বক্তব্য লিখে শেষ করার আগেই ঘোষণা করা হয়, তিনি আর নেই।
আমাদের প্রশ্ন, হুমায়ূন আহমেদের শারীরিক অবস্থার সঠিক তথ্য থেকে দেশবাসীকে কোন উদ্দেশ্যে বঞ্চিত রাখা হলো, তা আমরা জানতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে মনোয়ার হোসেন পিয়াল বলেন, আমাদের অবস্থান কারও বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু সঠিক তথ্য জানার অধিকার সবার আছে। হুমায়ূন আহমেদ এমনিতেই মারা গেলেন, না কারও অবহেলা বা দুর্ঘটনার কারণে এক করুণ পরিণতিতে তাকে নিপতিত হতে হলো এ বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া ফিউনারেল হোমে কেন পড়েছিল হুমায়ূন আহমেদের লাশ। তার লাশ দেখার মতো কি কেউ ছিল না। এ বিষয়গুলোর সঠিক জবাবের স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট