Widgetized Section

Go to Admin » Appearance » Widgets » and move Gabfire Widget: Social into that MastheadOverlay zone

‘আগামী নির্বাচন হবে কিনা সন্দেহ’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভিআইপি লাউঞ্জে ‘রাজনৈতিক সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’ আয়োজিত ‘চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গতকাল এ সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে দেশের মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। যে রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে তাতে আদৌ নির্বাচন হবে কি না, হলে কার অধীনে, কিভাবে হবে এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আকবর আলি খান বলেন, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে পেশাদার রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতি থাকতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনাকে রক্ষা করতে হলে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারলেই রাষ্ট্রীয় চারটি মূল নীতির বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তিনি বলেন, যে কোন সঙ্কট উত্তরণের প্রধান উপায় হলো সঙ্কটের অস্তিত্ব শিকার করা। কিন্তু আমদের রাজনৈতিক দলগুলো এ সঙ্কটের কথা স্বীকার করতে চান না। এক্ষেত্রে সরকারি দল এগিয়ে থাকে সবসময়। আকবর আলি খান আরও বলেন, সামনে রাজনৈতিক মাঠ গরম হবে। সংঘাত বাঁধবে। এই সঙ্কট নিরসনে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। না হয় আবারও বাধাগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র। বাধাগ্রস্ত হবে গণতান্ত্রিক ধারা। মানুষ হারাবে ভোটের অধিকার। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ যখন তাদের ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহের মধ্যে থাকে তখন আর বুঝতে বাকি নেই দেশে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে এ সঙ্কট উত্তরণ করতে। আগামী নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সরকার যেভাবে আগাচ্ছে তাতে আগামী নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে। হলেও প্রধান বিরোধী দল এ নির্বাচনে অংশ নেবে না। প্রধান বিরোধী দল ছাড়া কোন নির্বাচন দেশ ও বিদেশের মাটিতে গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তানের সংবিধানে সরাসরি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির কথা বলা না থাকলেও সেখানে যদি কোন সময় রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হয় তবে সংবিধান সংশোধন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট একজন অনির্বাচিত নির্দলীয় ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারেন। বাংলাদেশ যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটা পদ্ধতি আছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তা বহাল রাখাই হবে সমীচীন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের দিকে তাকালে দেখা যাবে রাজনৈতিক সঙ্কটের সময় ৬ থেকে ৭ বার সে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছে। রাজনৈতিক সঙ্কট ভারত, পাকিস্তান যদি সমাধান করতে পারে তাহলে আমরা কেন পারবো না। এটা করতে হলে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ১২৩ এর ৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে। না হয় মেয়াদের আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে প্রেসিডেন্ট সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পঞ্চদশ সংশোধনীতে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন করার কথা বলা হচ্ছে তাতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টারা স্বপদে বহাল থাকবেন। আর এই অবস্থায় নির্বাচন হলে এটা দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না। এটার মূল উদ্দেশ্য- যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের ক্ষমতাকে আবার পাকাপোক্ত করা। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন দিয়েও সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব না। তিনি বলেন, সারা দেশে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ভোট কেন্দ্রে সাড়ে ৮ কোটি ভোটারের ভোট নিশ্চিত করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীর ওপর নির্ভর করে তাদের নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে প্রশাসনে দলীয়করণ হয়েছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এই দলীয় প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন কোনভাবেই সম্ভব না। সাবেক এমপি সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা লায়ন ইব্রাহিম ভূঁইয়া, লায়ন আবদুল মতিন প্রধান, লায়ন গনি সিরাজ বাবলু, সাংবাদিক মাহবুব আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ও সংগঠনের মহাসচিব সুজন দে।

Share this:
Share this page via Facebook Share this page via Twitter

LIKE US on FACEBOOK নিউজ সোর্স b24/মজ / ডেস্ট